

২০০২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে ষষ্ঠ শিরোপার অপেক্ষায় ছিল ব্রাজিল। কোচ পরিবর্তন, অস্থিরতা, পরিচয়ের সংকট এবং ব্যর্থতার কারণে বিশ্বের সবচেয়ে সফল ফুটবল জাতিটি যেন হারিয়ে ফেলেছিল নিজেদের আত্মবিশ্বাস। সেই পরিস্থিতিতে এসে ইতালিয়ান কিংবদন্তি কোচ কার্লো আনচেলত্তি ব্রাজিলকে নতুন করে গড়ে তুলেছেন। তার নেতৃত্বে আবারও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে সেলেসাওরা।
অস্থিরতার অবসান
বিশ্বকাপের আগে কয়েক বছরে একাধিক কোচ পরিবর্তন এবং দলে ব্যাপক রদবদল হয়েছিল। আনচেলত্তি এসে সেই বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনেন।
ড্রেসিংরুমে শান্ত পরিবেশ
তিনি দলের ভেতরের অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক ও চাপ কমিয়ে খেলোয়াড়দের শুধু ফুটবলে মনোযোগ দিতে সাহায্য করেছেন।
তারকাদের আস্থা অর্জন
অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সঙ্গে দ্রুত সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। অধিনায়ক মার্কুইনহোস, অ্যালিসন বেকার এবং ক্যাসেমিরো তার নেতৃত্বে নতুন আত্মবিশ্বাস খুঁজে পেয়েছেন।
নেইমারকে ঘিরে সিদ্ধান্ত
নেইমারের প্রতি সম্মান রেখেও তিনি দলকে একজন খেলোয়াড় নির্ভর হতে দেননি। প্রয়োজনে বেঞ্চে রেখেছেন, আবার সঠিক সময়ে সুযোগও দিয়েছেন।
নতুন প্রজন্মকে সামনে আনা
তিনি ভিনিসিয়ুসকে দলের প্রধান মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তরুণদের ওপর আস্থা রেখে ব্রাজিলের ভবিষ্যৎও শক্তিশালী করেছেন।
মানসিক শক্তির উন্নতি
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ দলে একজন ক্রীড়া মনোবিজ্ঞানী যুক্ত করেন আনচেলত্তি। এতে খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা বেড়েছে।
বাস্তববাদী ফুটবলের প্রচলন
‘জোগো বনিতো’-র ঐতিহ্য বজায় রেখেও তিনি ফলাফলকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তার মতে, সুন্দর ফুটবলের চেয়ে জয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যাচে কৌশলগত পরিবর্তন
জাপানের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও বিরতির পর কৌশল বদলে ম্যাচ জিতিয়েছেন তিনি। এতে তার অভিজ্ঞতা ও ম্যাচ পড়ার ক্ষমতা স্পষ্ট হয়েছে।