

গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি কেমিক্যাল গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে সাহারা সুপার মার্কেটের পাশে অবস্থিত একটি কেমিক্যাল দোকান ও গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুনের তীব্রতায় ফায়ার সার্ভিসের পাঁচজন সদস্য দগ্ধ হন এবং স্থানীয় তিনজন শ্রমিক আহত হন।
কালবেলার টঙ্গি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, দগ্ধদের মধ্যে রয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা খন্দকার জান্নাতুল নাঈম, ফায়ার ফাইটার নুরুল হুদা, জয় হাসান এবং শামীম আহমেদ। আহত শ্রমিকরা হলেন রুবেল, সুমন ও আমিনুল ইসলাম রুবেল। প্রথমে তাদের টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরবর্তী সময়ে অবস্থার অবনতি হলে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন বলেন, ‘প্রথমে সাধারণ দোকানে আগুন লেগেছে এমন তথ্য পাওয়া গেলেও পরে জানা যায়, এটি একটি কেমিক্যাল গোডাউন। সেখানে সোডিয়াম বাই কার্বনেট, ব্লিচিং পাউডারসহ বিপুল পরিমাণ দাহ্য রাসায়নিক উপাদান ছিল।’ তিনি জানান, ‘গোডাউনটি টিন দিয়ে তৈরি, কোনো সাইনবোর্ড ছিল না এবং কেমিক্যালগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষিত ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভবনটির অভ্যন্তরীণ অবস্থা খুবই জটিল ও এলোমেলো, সিঁড়ির দিকনির্দেশনাও পরিষ্কার নয়। মালিকপক্ষের কারও সঙ্গেও এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, যা অগ্নিনির্বাপণ কাজে বাধা সৃষ্টি করেছে।’
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম জানান, ‘দগ্ধ পাঁচজনের মধ্যে চারজনকে বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।’ ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক এবং সিনিয়র কর্মকর্তারা তাদের চিকিৎসার বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, টঙ্গীর বিভিন্ন মার্কেট ও আবাসিক এলাকার আশপাশে বহু কেমিক্যাল গোডাউন রয়েছে, যেগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। তারা বলেন, বছরের পর বছর প্রশাসনিক নজরদারি ছাড়া এসব ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে, যা বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে। তারা প্রশাসনের প্রতি কঠোর তদারকি ও নিয়মিত পরিদর্শনের দাবি জানান।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার জাহিদুল হাসান জানান, ‘গোডাউনের লাইসেন্স, সুরক্ষা ব্যবস্থা ও অন্যান্য কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। যদি গাফিলতির প্রমাণ মেলে, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’