

হাইপোগ্লাইসেমিয়া ঘটে যখন রক্তে শর্করার (গ্লুকোজ) মাত্রা অতিরিক্ত কমে যায়, যা প্রায়ই ডায়াবেটিক রোগীদের মধ্যে দেখা যায়। সাধারণত প্রচণ্ড ক্ষুধা, ঘাম হওয়া, কাঁপুনি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, অস্থিরতা, বিভ্রান্তি এবং গুরুতর ক্ষেত্রে জ্ঞান হারানো বা খিঁচুনি হতে পারে।
কখন হয়: ডায়াবেটিস চিকিৎসায় ইনসুলিন বা অন্যান্য ওষুধ গ্রহণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বেশি দেখা যায়। খাবার কম খেলে বা অনেক সময় ধরে না খেলে, অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে বা ভুলবশত বেশি ওষুধ খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমতে পারে।
লক্ষণ: শারীরিক লক্ষণ—ক্ষুধা লাগা, ঘাম হওয়া, কাঁপুনি, দুর্বলতা বা ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি বা দ্রুত হৃৎস্পন্দন, অস্থিরতা ইত্যাদি।
মানসিক বা আচরণগত লক্ষণ—বিভ্রান্তি, কথা জড়িয়ে যাওয়া, অস্থিরতা বা নার্ভাসনেস, জ্ঞান হ্রাস পাওয়া, খিঁচুনি (গুরুতর ক্ষেত্রে)।
করণীয়: লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে চিনিযুক্ত খাবার বা পানীয় (যেমন জুস, মিষ্টি) গ্রহণ করতে হবে। যদি লক্ষণ গুরুতর হয় বা বারবার হতে থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কোনোভাবেই ঝুঁকি নেওয়া যাবে না।
হাইপারগ্লোইসিমিয়া ও হাইপোগ্লাইসেমিয়ার পার্থক্য: হাইপারগ্লাইসিমিয়া হয়ে তাৎক্ষণিক মৃত্যুর আশঙ্কা নেই। তবে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয়ে যখন-তখন মৃত্যু ঘটতে পারে। এ হিসেবে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বেশি মারাত্মক।
প্রতিরোধ: বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি ডায়াবেটিস প্রতিরোধের গাইডলাইন তৈরি করছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিক্ষাব্যবস্থায় ডায়াবেটিস বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা। কারণ, বাংলাদেশে টাইপ-২ ডায়াবেটিস খুব অল্প বয়সে হচ্ছে। এরা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মনে রাখতে হবে, একবার ডায়াবেটিস হলে জটিলতাও হবে। এ রোগ ঠেকানো যাবে না; কিন্তু জটিলতাকে মোকাবিলা করা যাবে অর্থাৎ জটিলতা এখন দেখা না দিয়ে ২০ বছর পরে দেখা দেবে। সচেতনতায় এমন পরিস্থিতি তৈরি করা যাবে।
গবেষণা বলছে, ডায়াবেটিস নিরাময় করা সম্ভব। তবে বাংলাদেশে সম্ভব কি না, সেটি অধিকতর গবেষণার বিষয়। কারণ, বাংলাদেশের মানুষ অনেক শর্করা খায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে হলে খাদ্যাভ্যাসে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য দায়ী খাদ্যাভ্যাস বা জীবনযাপনে অসতর্কতা। এ রোগে শিশু-কিশোররা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের দৈহিক স্থূলতা কমাতে হবে। শিশু-কিশোরদের দুরন্ত জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এতে ধীরে ধীরে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা কমে আসতে পারে।
ডা. শাহজাদা সেলিম
সহযোগী অধ্যাপক
এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়