ডা. শাহজাদা সেলিম
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:২৭ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ্য পরামর্শ

কখন হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয়, লক্ষণ কী কী?

কখন হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয়, লক্ষণ কী কী?

হাইপোগ্লাইসেমিয়া ঘটে যখন রক্তে শর্করার (গ্লুকোজ) মাত্রা অতিরিক্ত কমে যায়, যা প্রায়ই ডায়াবেটিক রোগীদের মধ্যে দেখা যায়। সাধারণত প্রচণ্ড ক্ষুধা, ঘাম হওয়া, কাঁপুনি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, অস্থিরতা, বিভ্রান্তি এবং গুরুতর ক্ষেত্রে জ্ঞান হারানো বা খিঁচুনি হতে পারে।

কখন হয়: ডায়াবেটিস চিকিৎসায় ইনসুলিন বা অন্যান্য ওষুধ গ্রহণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বেশি দেখা যায়। খাবার কম খেলে বা অনেক সময় ধরে না খেলে, অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে বা ভুলবশত বেশি ওষুধ খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমতে পারে।

লক্ষণ: শারীরিক লক্ষণ—ক্ষুধা লাগা, ঘাম হওয়া, কাঁপুনি, দুর্বলতা বা ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি বা দ্রুত হৃৎস্পন্দন, অস্থিরতা ইত্যাদি।

মানসিক বা আচরণগত লক্ষণ—বিভ্রান্তি, কথা জড়িয়ে যাওয়া, অস্থিরতা বা নার্ভাসনেস, জ্ঞান হ্রাস পাওয়া, খিঁচুনি (গুরুতর ক্ষেত্রে)।

করণীয়: লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে চিনিযুক্ত খাবার বা পানীয় (যেমন জুস, মিষ্টি) গ্রহণ করতে হবে। যদি লক্ষণ গুরুতর হয় বা বারবার হতে থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কোনোভাবেই ঝুঁকি নেওয়া যাবে না।

হাইপারগ্লোইসিমিয়া ও হাইপোগ্লাইসেমিয়ার পার্থক্য: হাইপারগ্লাইসিমিয়া হয়ে তাৎক্ষণিক মৃত্যুর আশঙ্কা নেই। তবে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয়ে যখন-তখন মৃত্যু ঘটতে পারে। এ হিসেবে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বেশি মারাত্মক।

প্রতিরোধ: বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি ডায়াবেটিস প্রতিরোধের গাইডলাইন তৈরি করছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিক্ষাব্যবস্থায় ডায়াবেটিস বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা। কারণ, বাংলাদেশে টাইপ-২ ডায়াবেটিস খুব অল্প বয়সে হচ্ছে। এরা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মনে রাখতে হবে, একবার ডায়াবেটিস হলে জটিলতাও হবে। এ রোগ ঠেকানো যাবে না; কিন্তু জটিলতাকে মোকাবিলা করা যাবে অর্থাৎ জটিলতা এখন দেখা না দিয়ে ২০ বছর পরে দেখা দেবে। সচেতনতায় এমন পরিস্থিতি তৈরি করা যাবে।

গবেষণা বলছে, ডায়াবেটিস নিরাময় করা সম্ভব। তবে বাংলাদেশে সম্ভব কি না, সেটি অধিকতর গবেষণার বিষয়। কারণ, বাংলাদেশের মানুষ অনেক শর্করা খায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে হলে খাদ্যাভ্যাসে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য দায়ী খাদ্যাভ্যাস বা জীবনযাপনে অসতর্কতা। এ রোগে শিশু-কিশোররা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের দৈহিক স্থূলতা কমাতে হবে। শিশু-কিশোরদের দুরন্ত জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এতে ধীরে ধীরে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা কমে আসতে পারে।

ডা. শাহজাদা সেলিম

সহযোগী অধ্যাপক

এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

কালবেলা
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সব মামলায় জামিন পেলেন তৌহিদ আফ্রিদি, মুক্তিতে নেই বাধা

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নৌবাহিনীর সদস্যদের হত্যার বিচার চায় ইরান

ইতালিতে পুলিশি হেফাজতে প্রবাসী নিহত, প্রতিবাদে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অনশন

রাতে যে ৭ ব্যায়াম করলে দ্রুত ঘুম আসবে

প্রবাসী কার্ডধারীরা বিমান টিকিটসহ পাবেন বিশেষ সুবিধা: বিমানমন্ত্রী

সীমান্তে খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় পিছু হটল বিএসএফ

চালু হলো ‘হ্যালো ডিসি’, এক ক্লিকেই মিলবে যেসব সেবা

নতুন করে জর্ডান ও বাহরাইনে হামলা

ইয়েমেনের যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিল কাতার

১০

প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

১১

গাজীপুর জেলা কারাগারের কারারক্ষী আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

১২

ট্রাকচালকদের জন্য নতুন ভিসা চালু করল সৌদি আরব

১৩

অপহরণের পর নির্যাতন করে হত্যা

১৪

ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করল কাতার

১৫

দুই মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনারসহ ৪ কর্মকর্তাকে বদলি

১৬

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত জাপানি সেনাদের মরদেহ উদ্ধারে খনন অভিযান

১৭

ইরানের পাহাড়ি এলাকায় বিমান হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র

১৮

এনসিপির এক নেতাকে শোকজ, অন্যজনকে অব্যাহতি

১৯

তিন মেয়েসহ মাকে হত্যা করল ইসরায়েলি বাহিনী

২০
X