

বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশনে রেলওয়ের অব্যবহৃত জমি ও কোয়ার্টারগুলো চলে গেছে বহিরাগতদের হাতে। রেলওয়ে ভূসম্পত্তি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সান্তাহার শহরে পরিত্যক্ত জমির পরিমাণ প্রায় ১০৬ বিঘা। এসব জমির একটি বড় অংশ এবং প্রায় সাড়ে ছয়শত রেল কোয়ার্টার বর্তমানে অবৈধ দখলে রয়েছে।
সান্তাহার শহরের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন দেখা গেছে, পুরোনো দখল ছাড়াও নতুন করে রেলভূমিতে আধাপাকা ও পাকা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব স্থাপনা নির্মাণে পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদন নেওয়া হচ্ছে না।
এক সময় রেলওয়ের কর্মীদের জন্য নির্মিত একতলা বাসাগুলো এখন দখল হয়ে গেছে। ১৯৭১ সালের আগে এসব বাসায় বেশিরভাগ অবাঙালি রেল কর্মী বসবাস করতেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘর্ষে তারা উচ্ছেদ হলে বাসাগুলো ফাঁকা হয়ে পড়ে এবং পরে তা লুটপাটের শিকার হয়।
সান্তাহার জংশনের দক্ষিণ পাশে একসময় ছিল ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড। সেখানে মালপত্র পরিবহনের কার্যক্রম চলত। রেলওয়ের আধুনিকায়নের পর এই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং এলাকাটি এখন পরিত্যক্ত। সেখানে প্রায় ৩০ বিঘা জমি পতিত রয়েছে।
লোকো কলোনি এলাকাজুড়ে রেললাইনের পাশ দিয়ে গড়ে উঠেছে বস্তি। এখানে ভাসমান মানুষ বসবাস করছে। সাহেবপাড়া, স্টেশন কলোনি, চা বাগানসহ আশপাশের এলাকাগুলোর বহু রেল কোয়ার্টার বেদখলে চলে গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সান্তাহারে রেলওয়ের ১৮৫টি কোয়ার্টারের মধ্যে ৭৮৭টি ইউনিট থাকলেও তার মধ্যে ৬৪৭টি ইউনিট বহিরাগতদের দখলে। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের অভিযানে এ তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া সান্তাহারে রেলওয়ের ১৯ একর পরিত্যক্ত জমিতে খনন করা পুকুরে অবৈধভাবে মাছ চাষ করা হচ্ছিল। রেল কর্তৃপক্ষের ভ্রাম্যমাণ আদালত সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে এসব দখলমুক্ত করে।
এ বিষয়ে সান্তাহার রেলওয়ে ভূসম্পত্তি বিভাগের কানুনগো মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘যেসব জমি অবৈধভাবে দখলে চলে গেছে, সেগুলো উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে। অবিলম্বে দখলমুক্ত করা হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দা রহিম উদ্দীন বলেন, ‘রেল কর্তৃপক্ষ ইজারা দিলে সরকার রাজস্ব পেত। বছরের পর বছর এসব জমি পড়ে আছে দখলে।’
সান্তাহার নাগরিক কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘সঠিক পরিকল্পনার অভাবে রেলভূমি এভাবে হারিয়ে যাচ্ছে। ইজারার মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হলে রেলের আয় বাড়ত।’