ডা. তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:৫৪ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ্য পরামর্শ

চর্মরোগ দাদের লক্ষণ ও এর প্রতিকার

চর্মরোগ দাদের লক্ষণ ও এর প্রতিকার

দাদ একটি পরিচিত চর্মরোগ। এই ছোঁয়াচে রোগটি ছত্রাক বা ফাঙ্গাল ইনফেকশনের কারণে ঘটে। মাথা থেকে পা পর্যন্ত শরীরের যে কোনো জায়গায় দাদ হতে পারে। দ্রুত সঠিক চিকিৎসায় এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

লক্ষণ: দাদের প্রধান উপসর্গ হলো ফুসকুড়ি দেখা যায়। সাধারণত আংটির মতো গোল হয়ে থাকে, রং হয় লালচে। তবে রোগীর ত্বকের বর্ণভেদে এটি রুপালি দেখাতে পারে। আবার আশপাশের ত্বকের চেয়ে গাঢ় বর্ণও ধারণ করতে পারে। দাদ রোগে ত্বকের বর্ণ পরিবর্তনের পাশাপাশি ফুসকুড়ির উপরিভাগে ছোট ছোট আঁশ থাকতে পারে। এ ছাড়া আক্রান্ত স্থানে আরও কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে—ত্বক কিছুটা খসখসে বা শুকনো হয়ে যাওয়া, স্থানটি ফুলে যাওয়া, চুলকানি হওয়া, আক্রান্ত ত্বকের ওপরে চুল অথবা লোম থাকলে সেগুলো পড়ে যাওয়া।

শরীরের কোথায় দাদ হয়: আমাদের শরীরের যে কোনো অংশে দাদ দেখা দিতে পারে। যেমন—কুঁচকি, মাথার ত্বক, হাত, পা, পায়ের পাতা, এমনকি হাত-পায়ের নথে। আক্রান্ত স্থানভেদে দাদের লক্ষণেও ভিন্নতা আসতে পারে।

বিশেষ সতর্কতা: অনেকেই দাদ সারাতে স্টেরয়েড জাতীয় ক্রিম বা মলম ব্যবহার করে থাকেন, এটি একেবারেই ঠিক নয়। এসব ওষুধ চুলকানি ও ত্বকের লালচে ভাব কমাতে সাহায্য করলেও দাদ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে মারতে পারে না। শুধু তাই নয়, এসব ক্রিম ত্বকের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও দুর্বল করে ফেলে। ফলে দাদ শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে, এমনকি ইনফেকশন ত্বকের গভীরে ঢুকে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এ ছাড়া স্টেরয়েড মলম দাদের ধরনও পরিবর্তন করতে পারে। ফলে ডাক্তারের জন্য সঠিকভাবে দাদ নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের ক্রিম ব্যবহার অনুচিত।

চিকিৎসা: দাদের চিকিৎসায় অ্যান্টি ফাঙ্গাল ওষুধ ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসা নির্ভর করে শরীরের কোন স্থানে ইনফেকশন হয়েছে এবং ইনফেকশন কতটা গুরুতর তার ওপর। ওষুধ ব্যবহারের পাশাপাশি নিজের শরীরের অন্য কোনো স্থানে কিংবা বাড়ির সদস্যদের মধ্যে দাদ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কিছু নিয়ম মেনে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।

ওষুধ: দাদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধগুলো বিভিন্ন রূপে পাওয়া যায়। যেমন—ক্রিম, জেল, লোশন, স্প্রে, পাউডার, ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল। শরীরের ত্বকে দাদ হলে সাধারণত মুখে খাওয়ার ওষুধ না দিয়ে ক্রিম, জেল, লোশন, স্প্রে কিংবা পাউডার হিসেবে সরাসরি ত্বকে লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এমন ওষুধের মধ্যে রয়েছে ক্লট্রিমাজল, মাইকোনাজল, টার্বিনাফিন ও কিটোকোনাজল। এগুলো সাধারণত ২-৪ সপ্তাহ একটানা ব্যবহার করতে হয়।

ডা. তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী

চর্ম, যৌন, অ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ

চেম্বার: আলোক হেলথ কেয়ার, পল্লবী শাখা

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দিল্লির হোটেলে আগুন দেখে পালান মালিক, গ্রেপ্তারের পর দিলেন স্বীকারোক্তি

ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুমড়েমুচড়ে গেল ইসরায়েলি ট্যাংক

বজ্রপাতে কিশোর ছেলের মৃত্যু, আহত মা

প্রস্তুতি ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে আইভরি কোস্টের চমক

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় নিহত ৩

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার টার্গেট কিউবার প্রেসিডেন্ট

বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ

পুকুরে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু

দুপুরের মধ্যে দেশের ৮ জেলায় ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

আজকের নামাজের সময়সূচি

১০

৬ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম-সিলেটের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

১১

বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেল স্বামী-স্ত্রীর

১২

জার্মানিতে ভেঙে পড়লো উড়োজাহাজের ল্যান্ডিং গিয়ার

১৩

আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে শোকজ, জবাব না দিলে লাইসেন্স বাতিল

১৪

ভৈরবে রেলপথ অবরোধ, ৫ ট্রেন আটকা

১৫

৬ দফা দাবিতে চমেক ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মানববন্ধন, শনিবার থেকে কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি

১৬

সিএন্ডএফ ভবনেই মিলবে চসিকের ট্রেড লাইসেন্স, বুথ স্থাপনের নির্দেশ মেয়রের

১৭

নানার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে পুকুরে ডুবে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

১৮

নানার বাড়ি থেকে ফেরার পথে নিখোঁজ, খালে মিলল মরদেহ

১৯

দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নিহত ১, একাধিক বাড়িঘরে আগুন

২০
X