

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় টিআর, কাবিখা ও কাবিটা (খাদ্যশস্য ও নগদ অর্থ) প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৩ কোটি টাকার এসব প্রকল্পে কাজ না করেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, ৯৫ দশমিক ৩৯ টন চাল এবং ৯৫ দশমিক ৩৯ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) খাতে ৮৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং কাবিটা খাতে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল।
তদন্তে জানা গেছে, ১ নং আলীকদম সদর ইউনিয়নের কলার ঝিরি পাকা রাস্তা থেকে চৈক্ষ্যং খালমুখী সড়ক সংস্কার প্রকল্পে আগে থেকেই কাঠ ব্যবসায়ীদের নির্মিত একটি পুরাতন রাস্তা প্রকল্পের আওতায় দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। এ প্রকল্পে ১০ দশমিক ২৫ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেখানো হয়। একইভাবে ২ নং চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বরই গাছ থেকে তুলা পাড়া পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্পেও পুরাতন রাস্তাকে নতুন প্রকল্প হিসেবে দেখানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, একই কাজকে ভিন্ন নামে একাধিক প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় প্রতিটি প্রকল্পেই একই ধরনের অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে। এসব দুর্নীতির সঙ্গে (উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা) পিআইও কে এম নজরুল ইসলামের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
এক ইউপি সদস্য জানান, প্রতিটি বিল উত্তোলনের সময় ১০-১৫ শতাংশ কমিশন দিতে হয় পিআইও নজরুল ইসলামকে। এ ছাড়া পিআইও কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে প্রকল্পের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ তালিকা টানানো রয়েছে। সাংবাদিকরা প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সেটা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেকদিন আগে কাঠ ও লাকড়ি ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে যেসব রাস্তা নির্মাণ করেছেন, সেগুলোই পরে সরকারি প্রকল্প হিসেবে দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে। এমনকি অনিয়মে অংশীদার না হলে প্রকল্পের বিল আটকে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
আলীকদম সদরের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন বলেন, ‘আমার নামে কোনো প্রকল্প নেই। যারা প্রকল্প পেয়েছে, তাদের কাজগুলো আপনারা পরিদর্শন করেন।’ প্রকল্প সভাপতি আবদুল মতিন বলেন, ‘রাস্তাটি আমি মানুষ দিয়ে করিয়েছি। আমি কাজ করিনি যারা বলছে, তাদের আমার কাছে নিয়ে আসুন। আমি দেখতে চাই।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কে এম নজরুল ইসলাম অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। তবে কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি। সাংবাদিকরা তার বক্তব্য রেকর্ড করতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে অফিস ত্যাগ করেন। অন্যদিকে আলীকদম উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম জানান, অভিযোগ পাওয়া প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।