

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক কর্মকর্তা। গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এক জবানবন্দিতে তিনি এ কথা উল্লেখ করেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় চার নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন এই কর্মকর্তা। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
এ মামলায় পলক ছাড়াও আসামি হিসেবে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। পলাতক থাকায় তার হয়ে আইনি লড়াই করছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম।
জবানবন্দিতে সাক্ষী উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায় তাকে ফোন করেন তৎকালীন বিটিআরসির মহাপরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান। ফোনে জানানো হয়, বিটিআরসির তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন আহমেদকে ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল কেবল (আইটিসি) অপারেটরদের আপস্ট্রিম বা ইন্টারনেট বন্ধ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন জুনাইদ আহমেদ পলক। ওই নির্দেশনা বাস্তবায়নে আইটিসি অপারেটরদের জানাতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলতে সাক্ষীকে নির্দেশ দেন কাজী মোস্তাফিজুর রহমান। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজের অফিসিয়াল মোবাইল নম্বর থেকে একটি গ্রুপ খোলেন এই কর্মকর্তা।
আইটিসি অপারেটরদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ইংরেজিতে খোলা গ্রুপটির নাম ‘১৮ জুলাই আইটিসি অপারেশনস’। এরপর কাজী মোস্তাফিজুর রহমান গ্রুপকলে ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল কেবল অপারেটরদের আপস্ট্রিম (ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ) বন্ধ করার ব্যাপারে সরকারের নির্দেশনাটি জানান। এরপর ওই দিনই অর্থাৎ ১৮ জুলাই রাত ৯টায় অপারেটরদের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২৩ জুলাই পর্যন্ত এ সেবা পুরোপুরি বন্ধ থাকে।
বিটিআরসির এই কর্মকর্তার জবানবন্দি শেষ না হওয়ায় আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি রাখেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, মঈনুল করিম, সুলতান মাহমুদসহ অন্যরা।
জিয়াউলের পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণ ২২ এপ্রিল: আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তৃতীয় সাক্ষীর জেরা শেষ হয়েছে গতকাল। পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২২ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
দুই শিবির নেতাকে গুলি করার অভিযোগ গঠনের আদেশ ২০ এপ্রিল: যশোরের চৌগাছায় গ্রেপ্তারের পর ‘বন্দুকযুদ্ধের নাটক’ সাজিয়ে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলি করার দায়ে হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য আগামী ২০ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।