

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট। ডাকসুর শীর্ষ তিন পদ—সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস), সহ-সাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস) মোট ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতেই বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছে সংগঠনটি। শুধু ডাকসু নয়, হল সংসদ নির্বাচনের ফলেও আধিপত্য ধরে রেখেছে শিবির। সেখানে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) সমর্থিত প্রার্থীরা। তবে ডাকসুর মতো এ ক্ষেত্রেও ভরাডুবি হয়েছে ছাত্রদল প্যানেলের।
হল সংসদ নির্বাচনে শুধু ছাত্রদলের প্যানেল ঘোষণা করা হয়। ছাত্রশিবির, ছাত্র অধিকারসহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করলেও তারা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করেছেন। কালবেলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, অন্তত ১০টি হল সংসদে ভিপি, জিএস, এজিএসসহ বেশ কিছু পদে জয়ী হয়েছেন শিবির সমর্থিত প্রার্থীরা। স্বতন্ত্র নির্বাচন করলেও তাদের অনেকেই ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত কিংবা সংগঠনটির সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করেছেন। জগন্নাথ হল ছাড়া ছেলেদের প্রায় সব হলেই শিবির সমর্থিত বেশিরভাগ প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। কোনো কোনো হল সংসদের ১৩টি পদেই জিতেছেন শিবির সমর্থিতরা। যার মধ্যে রয়েছেন সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ভিপি জায়েদুল হক, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ভিপি মো. আহসান হাবীব এবং হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের জিএস রাফিদ হাসান সাফওয়ান।
ছেলেদের হলের শীর্ষ দুই পদে ছাত্রদলের একজন, ছাত্র অধিকার পরিষদের একজন এবং বাগছাসের একজন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা সাদমান আব্দুল্লাহ, জহরুল হক হলে বাগছাস নেতা খালিদ হাসান এবং জগন্নাথ হলে ছাত্রদল নেতা পল্লব চন্দ্র বর্মণ জয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া কয়েকটি হলে ছাত্র সংগঠনের সমর্থন ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।
অন্যদিকে, ছাত্রীদের ৫টি হলে এগিয়ে আছেন বাগছাস সমর্থিত প্রার্থীরা। কুয়েত মৈত্রী, সুফিয়া কামাল এবং শামসুন নাহার হলের শীর্ষ দুই পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাগছাস সমর্থিত প্রার্থীরা। এর মধ্যে কুয়েত মৈত্রী হলের ভিপি হয়েছেন রাফিয়া রেহনুমা হৃদি, জিএস নিশিতা জামান নিহা, শামসুন নাহার হলে ভিপি কুররাতুল আইন কানিজ, জিএস হয়েছেন সামিয়া মাসুদ মম এবং সুফিয়া কামাল হলে জিএস নির্বাচিত হয়েছেন শিমু আক্তার। অন্য দুই হলে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে রোকেয়া হলের ভিপি হয়েছেন ফাতেমাতুল জান্নাত ইমা, জিএস সিনথিয়া মেহরিন সকাল, বঙ্গমাতা হলের ভিপি হয়েছেন তাসনিম আক্তার আলিফ নাবিলা, জিএস হয়েছেন মিফতাহুল জান্নাত রিফাত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও ডাকসুর নতুন জিএস এসএম ফরহাদ কালবেলাকে বলেন, ‘আমরা হল সংসদে প্যানেল ঘোষণা করিনি। তবে আমাদের জনশক্তি কিংবা সমর্থন চাওয়া শিক্ষার্থীদের আমরা সমর্থন জানিয়েছি। তাদের বড় অংশ জয়ী হয়েছেন।’
বাগছাসের সদস্য সচিব জাহিদ আহসান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সংসদে আমাদের ফল প্রত্যাশিত না হলেও হলগুলোতে, বিশেষ করে মেয়েদের হলে আমরা এগিয়ে আছি।’
ছেলেদের ১৩ হলে যারা হলেন ভিপি-জিএস: সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ভিপি জায়েদুল হক, জিএস সাদমান আব্দুল্লাহ; শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ভিপি আহসান হাবীব, জিএস খালেদ হাসান; শহীদুল্লাহ হলের ভিপি তারেকুল ইসলাম তারেক, জিএস তাওকির হাসান; অমর একুশে হলের ভিপি রবিউল ইসলাম, জিএস মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম; ফজলুল হক মুসলিম হলের ভিপি খন্দকার আবু নাঈম, জিএস ইমামুল হাসান; বিজয় একাত্তর হল সংসদের ভিপি হাসানুল বান্না, জিএস আশিক বিল্লাহ; মুহসীন হলের ভিপি সাদিক শিকদার, জিএস রাফিদ হাসান সাফওয়ান; এ এফ রহমান হলের ভিপি রফিকুল ইসলাম, জিএস হাবিব উল্লাহ; কবি জসিমউদদীন হল সংসদের ভিপি মুহাম্মদ ওসমান গণী, জিএস মাসুম আব্দুল্লাহ; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ভিপি মুসলিমুর রহমান, জিএস আহমেদ আল সাবাহ; মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের ভিপি মহিউদ্দিন মাহবুব, জিএস আসিফ ইমাম; সূর্যসেন হল সংসদের ভিপি আজিজুল হক ও জিএস হয়েছেন মোখলেছুর রহমান জাবির।