রাশেদ রাব্বি ও মাহমুদুল হাসান
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
প্রিন্ট সংস্করণ

অনলাইনে খেজুর রস বিক্রি নিপাহ ছড়ানোর শঙ্কা

ভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যুহার ৮০ শতাংশের বেশি
ছবি : কালবেলা
ছবি : কালবেলা

বাংলাদেশের শীত মানেই খেজুর রসে ভরা মাটির হাঁড়ি, যা শুধু ঐতিহ্য নয়—এক ধরনের আবেগও। একসময় গ্রামের সহজলভ্য এ পানীয় এখন শহুরে জীবনে এক দুর্লভ ও কাঙ্ক্ষিত উপাদানে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে শীতের সকালে একগ্লাস কাঁচা খেজুর রস যেন হয়ে উঠেছে ঐতিহ্য আর বিলাসের প্রতীক। এ আকাঙ্ক্ষা কেন্দ্র করে সম্প্রতি একটি শ্রেণি অনলাইনে খেজুরের কাঁচা রস বিক্রির মাধ্যমে বিপজ্জনক এক বাজার তৈরি করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শত শত পেজ ও অ্যাকাউন্ট খেজুরের কাঁচা রস ‘নিরাপদ’, ‘নিষ্কলুষ’, ‘খাঁটি’ এমন দাবিতে বিক্রি করছে। রাজধানী ঢাকা, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, ফরিদপুর, রাজশাহী, গাজীপুরসহ দেশের নানা প্রান্তে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট—যেমন খাঁটি বিডি, জারিফ ফুডস, বিখ্যাত ৬৪, খেজুরতলা, সাধ্যের মধ্যে, ফ্রেশ ফুড হাট ডটকম—এসবের মাধ্যমে এসব রস বাজারজাত করা হচ্ছে। বিজ্ঞাপনগুলোয় বলা হচ্ছে, বাদুড় বা পাখির সংস্পর্শ এড়াতে গাছে জাল দেওয়া হয় এবং রসটি ‘ফ্রেশ’ ও ‘এনার্জি ড্রিংক’ হিসেবে উপযোগী।

তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাঁচা খেজুর রস মোটেও নিরাপদ নয়। বরং এটি নিপাহ ভাইরাস ছড়ানোর একটি প্রমাণিত উৎস। নিপাহ একটি প্রাণঘাতী ভাইরাস, যার কোনো কার্যকর চিকিৎসা নেই এবং এতে মৃত্যুহার প্রায় ৮০ শতাংশ। ২০০১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ৩৪৩ জন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭১ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৪ সালে আক্রান্ত পাঁচজনের সবাই মারা গেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন বা অফলাইনে কাঁচা খেজুর রস ফ্রিজে রেখে সরবরাহ করা হলেও তা ভাইরাসমুক্ত হয় না। কারণ, ফ্রিজিংয়ের তাপমাত্রায় নিপাহ ভাইরাস সক্রিয়ই থেকে যায়। বাংলাদেশে যেসব রসে ভাইরাস আছে আর যেসবে নেই, তা নির্ণয়ের কোনো উপায় সাধারণ মানুষের নেই।

রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, কাঁচা রস পান করার ঝুঁকি অনেকটা নোংরা হাতে ভাত খাওয়ার মতো। সবাই অসুস্থ না হলেও আক্রান্তদের মৃত্যুর সম্ভাবনা অনেক বেশি। তার মতে, খেজুরের কাঁচা রস ফুটিয়ে পান করা, পিঠা বা গুড় তৈরিতে ব্যবহার করাই একমাত্র নিরাপদ উপায়।

সরকারি দপ্তর, বিশেষজ্ঞ ও গবেষণা সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করলেও বিভিন্ন পেজ ও অনলাইন ব্যবসায়ীরা এসব উপেক্ষা করে অবাধে বিপণন চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে জনসচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। কাঁচা খেজুর রসের ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে জানানো, অনলাইনে এর বিক্রি বন্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

খেজুরের রসের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে চাইলে অবশ্যই নিরাপদভাবে উপভোগ করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

কালবেলা
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সেই ইকনের পড়ালেখার দায়িত্ব নিচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী

‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই আমাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়’

ব্রাহ্মণপাড়ায় ৩২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস বিষয়ে সংসদে আলোচনা হবে: ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চোর সন্দেহে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যা: সাভারে ৩ আসামির একদিনের রিমান্ড

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকের বিরোধের জেরে ধর্ষণ মামলা

বিশ্বকাপের সেরা একাদশ ঘোষণা করল ফিফা, জায়গা পেলেন যারা

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতির বোনের বাসায় চুরি, শ্রমিকদল নেতা গ্রেপ্তার

৪৯তম বিশেষ বিসিএস: দুই প্রার্থীর ফল ও সাময়িক নিয়োগ বাতিল

বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল অটোরিকশার ২ যাত্রীর

১০

টানা বৃষ্টিতে মরিচের বাজারে আগুন

১১

লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজে রেডিওতে সতর্কবার্তা দিচ্ছে হুতিরা

১২

আধুনিক মেশিনে বদলে যাচ্ছে রামেক হাসপাতালের ল্যাব সেবা

১৩

হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

১৪

ফেনীতে আ.লীগের কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

১৫

মেসিদের নিয়ে অপপ্রচার, কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে আর্জেন্টিনা

১৬

দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই: পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি

১৭

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মধ্যেও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছে ইরান

১৮

স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় কারাগারে স্ত্রী

১৯

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশ / কমলগঞ্জে সেই ১২০০ কমলা গাছ কাটার ঘটনায় উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন

২০
X