

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে এবং কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে বিরোধীদলীয় উপনেতা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান হুইপের দায়িত্ব পালন করবেন।
সংসদ সদস্যদের শপথ শেষে গতকাল মঙ্গলবার সংসদীয় দলের সভায় এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে একাধিক সংসদ সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জামায়াতের সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। পরে শপথ নেন এনসিপির সংসদ সদস্যরা। সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদেরও শপথ নেন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সংসদ সদস্যরা।
সংসদীয় দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই ১১-দলীয় জোটের যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হবে। বৈঠকে অংশ নেওয়া পটুয়াখালী-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এ বিষয়ে বলেন, নাহিদ বিরোধীদলীয় চিফ হুইফ, জামায়াত আমির বিরোধীদলীয় নেতা ও নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের উপনেতা হয়েছেন।
জামায়াত আমির ঢাকা-১৫ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভ করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের নেতৃত্ব দেন তিনি। শফিকুর রহমান দেশের অষ্টম বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদা পাবেন।
এর আগে এই পদে দায়িত্ব পালন করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। বিরোধীদলীয় উপনেতা হওয়া জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পাবেন। অন্যদিকে ঢাকা-১১ আসন থেকে জীবনের প্রথম নির্বাচনেই বাজিমাত করেন তরুণদের রাজনৈতিক দল এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি দেশের ১৩তম বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের দায়িত্ব পান।
আইন অনুযায়ী চিফ হুইপ এবং হুইপদের বিশেষ পদমর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় সুবিধা প্রদান করা হয়। চিফ হুইপ হিসেবে নাহিদ ইসলাম একজন পূর্ণ মন্ত্রীর সমপরিমাণ বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য প্রটোকল সুবিধা পাবেন। এছাড়া তিনি নিজের পছন্দমতো একজন একান্ত সহকারী (পিএস) ও অফিস সহকারী রাখার অধিকার পাবেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে সরকার গঠন করে। দলটি এককভাবে ২১২টি আসনে জয় পায়। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭ আসনে বিজয়ী হয়।