

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা একটি নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ৬০ দিনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল করতে সুইজারল্যান্ডে রোববার গভীর রাত পর্যন্ত ম্যারাথন বৈঠক করেছেন। লুইসার্ন হ্রদের তীরে অনুষ্ঠিত ১৮ ঘণ্টার এ আলোচনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দুপক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তারা কূটনৈতিক টেবিলে অনড় রয়েছে। এ বৈঠকটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনার পথ তৈরি করছে। বৈঠকের পর উভয়পক্ষ ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বৈঠকের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা না এলে আলোচনা যে কূটনৈতিক পথে এগোচ্ছে, তার প্রমাণ মিলেছে। শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইরানকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক স্বস্তি দিয়েছে ওয়াশিংটন।
গতকাল মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ (অর্থ মন্ত্রণালয়) জানিয়েছে, তারা সাময়িকভাবে ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এর ফলে আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত দেশটি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও তেলজাত পণ্য উৎপাদন, বিক্রি এবং সরবরাহ করার সুযোগ পাবে।
মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের প্রকাশিত একটি বিশেষ অনুমতিপত্রে বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী সময়ে ইরানের অপরিশোধিত তেল উৎপাদন, বিক্রয় ও পরিবহনের ক্ষেত্রে যেসব নিষেধাজ্ঞা বা ট্রানজেকশন নিষিদ্ধ ছিল, তা আগামী ২১ আগস্ট ইস্টার্ন ডেলাইট টাইম (ইডিটি) রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত বৈধ বা অনুমোদিত বলে গণ্য হবে।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইরানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, চলমান আলোচনায় বিশ্বজুড়ে তেল-গ্যাস সরবরাহের অন্যতম প্রধান নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের ‘মুক্ত ও উন্মুক্ত চলাচল’ বজায় রাখার বিষয়ে তেহরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের ইরানে প্রবেশ এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের অনুমতি দিতেও রাজি হয়েছে ইরান। তাই সাময়িকভাবে এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলো।
সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপস্থিতিতে রোববার যে বৈঠক শুরু হয়েছিল, তা ১৮ ঘণ্টা ধরে চলে। তাতে ইরানের প্রধান দাবিই ছিল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিশ্ববাজারে তাদের তেল বিক্রির পথ সুগম করা। বৈঠক শুরু হতে না হতেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তেলের ওপর ৬০ দিনের এ সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা প্রমাণ করে যে, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলতে থাকা এ শান্তি আলোচনা বেশ ইতিবাচক দিকে মোড় নিয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি ও বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৈঠক শেষে ইরানের প্রতিনিধিরা ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও কাতার জানিয়েছে, উচ্চপর্যায়ের আলোচনার প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি’ করেছে এবং ‘৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর রূপরেখা’ নিয়ে সম্মত হয়েছে।
তবে সুনির্দিষ্টভাবে কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে জানানো হয়নি।
মার্কিন প্রতিনিধিদলের প্রধান আলোচক ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ বৈঠককে বড় অগ্রগতি বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের পারমাণবিক পরিদর্শকরা প্রাথমিক চুক্তিটি তেহরান মেনে চলছে কি না, তা যাচাই করতে ফিরে আসবেন।