

ফুটবল মাঠের সবুজ ঘাসে তিনি এক অদম্য আতঙ্ক। গতির ঝড় তুলে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চুরমার করে গোল করতে যার জুড়ি মেলা ভার, সেই আর্লিং হলান্ডকে বিশ্ব চেনে এক ‘গোলমেশিন’ হিসেবে। কিন্তু মাঠের সেই বিধ্বংসী রূপের আড়ালে আর্লিং হলান্ডের ব্যক্তিজীবন বেশ শান্ত এবং রহস্যে ঘেরা।
তাই বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের মনে একটিই কৌতূহল, ব্যক্তিজীবনে কার সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন এই ফুটবল মহাতারকা? মাঠের বাইরে কে তার অনুপ্রেরণা? এই ফুটবল জাদুকরের জীবনের অজানা কিছু রঙিন অধ্যায় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। চলুন, জেনে নিই বিস্তারিত-
আর্লিং হলান্ড কি বিবাহিত?
ম্যানচেস্টার সিটির এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হননি। তবে তিনি দীর্ঘদিনের একটি স্থিতিশীল সম্পর্কের মধ্যে রয়েছেন। তার জীবনসঙ্গীর নাম ইসাবেল হাউগসেং জোহানসেন।
ফুটবল যখন প্রেমের সেতুবন্ধন
হলান্ড ও ইসাবেল দুজনেরই জন্ম নরওয়ের ব্রাইনি শহরে। মজার ব্যাপার হলো, তাদের এই সম্পর্কের শুরু ফুটবল মাঠ থেকেই। ইসাবেল নিজেও একজন নিবেদিতপ্রাণ ফুটবলার ছিলেন এবং হলান্ডের মতোই ব্রাইনি এফকের হয়ে ফুটবল খেলেছেন। শৈশব থেকেই একে অন্যকে চেনার কারণে তাদের মধ্যে এক চমৎকার বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে, যা পরবর্তী সময়ে প্রেমে রূপ নেয়।
প্রথম মেসেজ এবং সম্পর্কের শুর
যদিও তারা শৈশবের পরিচিত, তবে তাদের প্রেমের সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক শুরু হয় ২০২১ সালের দিকে। একটি সাক্ষাৎকারে হলান্ড এক মজার তথ্য ফাঁস করেছেন। তিনি জানান, ইসাবেলই প্রথম তার সঙ্গে মেসেজ পাঠিয়ে যোগাযোগ করেছিলেন। ফুটবলের মহাতারকা হয়েও তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো কিন্তু বেশ সাধারণ। হলান্ড জানিয়েছেন, অবসরে তারা দুজনে ঘরে বসে জনপ্রিয় ভিডিও গেম ‘মাইনক্রাফট’ খেলতে দারুণ পছন্দ করেন।
নতুন অধ্যায়
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে হলান্ড ও ইসাবেলের জীবনে এক নতুন অতিথি আসে (পুত্রসন্তান)। এই ফুটবল মহাতারকা জানিয়েছেন, বাবা হওয়া তার জীবনে এক বিশাল পরিবর্তন এনেছে। স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হলান্ড বলেন, ‘বাবা হওয়ার পর আমি ফুটবল থেকে আরও ভালোভাবে বিচ্ছিন্ন হতে পারি। বাড়িতে ফিরলে আমি আর ফুটবল নিয়ে ভাবি না, যা আমাকে মানসিকভাবে অনেক বেশি শান্ত রাখে’।
একনজরে ইসাবেল হাউগসেং জোহানসেন
বিশ্বজুড়ে খ্যাতির তুঙ্গে থাকলেও, আর্লিং হলান্ড ও ইসাবেল জোহানসেন নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনকে প্রচারের আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন। শৈশবের বন্ধুত্ব, ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা; এই তিনের মেলবন্ধনেই গড়ে উঠেছে তাদের এই চমৎকার জীবনের গল্প।