রোকন উদ্দীন 8
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

স্বাস্থ্য সুরক্ষার পণ্যে শুল্কের খড়্গ

বাড়ছে ন্যাপকিন-ডায়াপারের দাম
স্বাস্থ্য সুরক্ষার পণ্যে শুল্কের খড়্গ

নারীর পিরিয়ডের সময় স্যানিটারি ন্যাপকিন বা প্যাড একটি জরুরি পণ্য। আর যাদের ছোট শিশু রয়েছে কিংবা ঘরে অসুস্থ বাবা-মা রয়েছেন—এমন পরিবারে ডায়াপারও অন্যতম জরুরি পণ্য। ন্যাপকিন ও ডায়াপারের কাঁচামাল ননওভেন পণ্যের আমদানি শুল্ক বেড়ে যাওয়ায় এসব পরিবারের খরচ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন শিল্প মালিকরা।

তাই ননওভেন পণ্যের আমদানি শুল্ক আগের ১০ শতাংশই রাখার দাবি জনিয়েছেন তারা, যা আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে হাইজিন পণ্যের কাঁচামালে শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাবে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় হাইজিন পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেড।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, প্রস্তাবিত শুল্ক কাঠামো কার্যকর হলে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও ডায়াপারের মতো জরুরি পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে।

স্বাস্থ্যঝুঁকির সতর্কতা তুলে ধরে স্কয়ার টয়লেট্রিজের পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো এক আবেদনে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশে এখনো খুব সীমিত সংখ্যক নারী স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করেন। দাম বাড়লে নারীরা ফের অস্বাস্থ্যকর উপায়ে পিরিয়ড পার করতে বাধ্য হতে পারেন, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে। একইভাবে শিশুদের ডায়াপারের মূল্য বৃদ্ধিও সাধারণ পরিবারের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।

শুল্ক কাঠামোর অসংগতি উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হাইজিন পণ্যের প্রধান কাঁচামাল ননওভেন আমদানিতে ১০ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি (সিডি) থাকলেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া রেগুলেটরি ডিউটি (আরডি) ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, জীবন রক্ষাকারী ও হাইজিন পণ্যের কাঁচামালে এ ধরনের উচ্চ শুল্ক কাঠামো (২৫ শতাংশ পর্যন্ত কাস্টমস ডিউটি ও অতিরিক্ত রেগুলেটরি ডিউটি) বিশ্বব্যাপী বিরল।

কাস্টমস শুল্কায়নে জটিলতা প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কাঁচামালের ক্ষেত্রে আমদানিকৃত ইনভয়েস মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যে শুল্কায়ন করছে। চিঠিতে বলা হয়, ননওভেনের ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্যের চেয়ে ৫৩ শতাংশ বেশি মূল্যে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। ল্যামিনেটেড ব্যাক শিটের ক্ষেত্রে এটি ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত বেশি। অন্যান্য কাঁচামাল যেমন এসএপি, অ্যায়ার লেইড ও হুক টেপের ক্ষেত্রেও ১৯ থেকে ৪৭ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত মূল্যে শুল্কায়ন করা হচ্ছে, যা উৎপাদন ব্যয়কে অসহনীয় করে তুলছে।

হাইজিন শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় স্কয়ার টয়লেট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী সরকারের কাছে চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন: ১. ননওভেনের কাস্টমস ডিউটি বৃদ্ধি না করে পূর্বের ১০ শতাংশ বহাল রাখা। ২. হাইজিন ইন্ডাস্ট্রিকে বর্ধিত রেগুলেটরি ডিউটির আওতামুক্ত রাখা। ৩. কাঁচামালের মোট ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা। ৪. আমদানিকৃত কাঁচামালের শুল্কায়ন ইনভয়েস ভ্যালুর ভিত্তিতে সম্পন্ন করা।

বিশ্ববাজারে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং জাহাজ ভাড়া বাড়ার এ সংকটকালীন দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে সরকার এ প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, সব মিলিয়ে গড়ে মাসে ১৬০ থেকে ১৮০ কোটি টাকার ডায়াপার বিক্রি হয়। এতে পণ্যটির বার্ষিক বাজারের আকার দাঁড়ায় ১ হাজার ৯২০ কোটি থেকে ২ হাজার ১৬০ কোটি টাকার। আর বর্তমানে দেশের স্যানিটারি ন্যাপকিনের বাজার প্রায় ৬০০ কোটি টাকার। প্রতি বছর এ বাজার প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ হারে বাড়ছে।

জানা যায়, করোনার আগেও বাংলাদেশে বেবি ডায়াপারের বাজারের ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ বিদেশি ব্র্যান্ডের দখলে ছিল। এখন তা কমে ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। তার মানে বর্তমানে বেবি ডায়াপারের প্রায় ৯০ শতাংশ বাজার দেশি কোম্পানির হাতে। আমদানিনির্ভরতা কমায় বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হচ্ছে। যদিও কাঁচামালের প্রায় পুরোটাই আমদানি করতে হয়। অন্যদিকে, কয়েক বছর ধরে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হারে ডায়াপারের বাজার বড় হচ্ছে। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগও আসছে এ খাতে।

ওষুধ খাতের পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বিনিয়োগ করায় ডায়াপারের বাজারে দেশি ব্র্যান্ডের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০টি। সিলিকন করপোরেশনের চু চু ডায়াপার, এবি গ্রুপের থাই ডায়াপার, এসিআইর স্যাভলন টুইংকেল, ইনসেপ্টার নিওকেয়ার, স্কয়ারের সুপারমম, বসুন্ধরার বেবি ডায়াপার, মেঘনা গ্রুপের হ্যাপি ন্যাপি, এসএমসির স্মাইল, প্রাণের কিডস্টার, আকিজের মাম মাম, ইউনিম্যাক্স ইন্ডাস্ট্রিজের অ্যাভোনি ইত্যাদি দেশি ব্র্যান্ড রয়েছে বাজারে। একটি ওষুধ কোম্পানি নতুন করে ডায়াপারের বাজারে আসার পরিকল্পনা করছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চার বছরের শান্তির অবসান / সৌদিতে হুতিদের মুহুর্মুহু হামলা

ইরানের বন্দর অবরোধে নামছে যুক্তরাষ্ট্র, শুধু ইরানি জাহাজই হবে লক্ষ্য

নতুন দায়িত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের দক্ষিণ উপকূলে বিস্ফোরণ, বন্দর আব্বাস ও কোনারাকে উত্তেজনা

প্রবেশপত্রের ভুলে পরীক্ষা দিতে পারলেন না রিপা

সেমিফাইনালে সুখবর পেল ইংল্যান্ড, দুশ্চিন্তায় আর্জেন্টিনা

ইরানকে দুর্বল করতে টানা তৃতীয় রাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা

নিয়োগ দিচ্ছে কারিতাস, বয়স ৪০ হলেও করা যাবে আবেদন

হবিগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

১৪ জুলাই / আজকের নামাজের সময়সূচি

১০

হরমুজ প্রণালির নাম ‘গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল অব দ্য স্ট্রেট’ দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

১১

সড়কে ঝরল নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর প্রাণ

১২

মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ 

১৩

সকালের মধ্যে ঢাকাসহ ২০ জেলায় ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টির আভাস

১৪

ভিপিএল মডেলে কৈশোরবান্ধবসেবা কেন্দ্রে আগ্রহ বেড়েছে কিশোর-কিশোরীর

১৫

আজ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

১৬

ট্যাগ কর্মকর্তারা অনুপস্থিত / ধার করা কর্মকর্তা দিয়েই চলছে এইচএসসি পরীক্ষা

১৭

কাদামাখা পথে কাঁধে চেপে বিয়ের আসরে বর

১৮

বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা এক সপ্তাহ পেছানোর দাবি 

১৯

ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি, ভিজে নষ্টের মুখে সরকারি দলিল

২০
X