

পূজার আগে ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরানোর জন্য প্রত্যেকেই রাত-দিন চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ কারণে অধিকাংশই ভিড় করছেন পার্লারে। সেখানে হাজার হাজার টাকা খরচ করে ফেসিয়ালের গুণে ফেরাচ্ছেন ত্বকের জেল্লা। এতে ত্বকের গ্ল্যামার ফিরছে ঠিকই, কিন্তু পকেটও হালকা হচ্ছে বৈকি! আবার অনেকে আছেন যারা কর্মব্যস্ততার কারণে পার্লারে যাওয়ার সময়টুকুও পাচ্ছেন না। কিন্তু আপনি যদি বাড়িতেই এ কাজটি সেরে ফেলতে পারেন, তাহলে পূজার হাজারখানেক টাকা বাঁচিয়ে ফেলতে পারবেন! আবার জৌলুসের সঙ্গেও সমঝোতা করতে হবে না। চলুন তাহলে জেনে নিই ঘরে বসে কীভাবে ফেসিয়াল করে নিতে পারেন
ক্লিনজিং: শুরুতেই পুরো মুখমণ্ডল ভালো কোনো ব্র্যান্ডের ক্লিনজার দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। বাজারের পণ্য ব্যবহার করতে না চাইলে তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীরা শসা ও শুষ্ক ত্বক হলে কাঁচা দুধ দিয়ে এ কাজটি সেরে নিতে পারেন।
এক্সফোলিয়েশন: ছোট ছোট দানাযুক্ত ফেসওয়াশ বা স্ক্র্যাবার দিয়ে পুরো মুখ ধুয়ে নিন কিংবা প্রাকৃতিক উপাদান চাইলে ১/২ কাপ আতপ চালের গুঁড়া, ২ টেবিল চামচ লেবুর রস, ২ টেবিল চামচ টমেটোর রস ও কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল ভালোভাবে মিশিয়ে মুখের ত্বকে হালকা হাতে স্ক্র্যাব করে নিন।
স্টিম: ফেসিয়ালের ক্ষেত্রে স্টিম বেশ জরুরি। এটি লোমকূপ খুলতে সাহায্য করে এবং ত্বককে গভীর থেকে পরিষ্কার করে। প্রথমে খুব অল্প পরিমাণ বাদাম তেল সারা মুখে মালিশ করে নিন। তারপর বাজারের পাওয়া যায় এমন স্টিমারের সাহায্যে স্টিম নিন অথবা যে কোনো গরম পানির পাত্রে পাতলা কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে তার ভাপ নিতে পারেন।
ব্ল্যাকহেডস পরিষ্কারকরণ: একটা ব্ল্যাকহেডস পরিষ্কারক যন্ত্রের সাহায্যে ব্ল্যাকহেডসগুলো পরিষ্কার করে নিন। যেহেতু লোমকূপ খোলা আছে, তাই যন্ত্রের হালকা চাপেই উঠে আসবে।
টোনিং: অনেকেই ভেবে থাকেন এর হয়তো প্রয়োজন নেই। কিন্তু এ ধারণা ভুল। যেহেতু স্টিমের মাধ্যমে লোমের গোড়া খোলা হয়েছে টোনিংয়ে তা বন্ধ করা জরুরি, নয়তো খোলা পোর দিয়ে ময়লা ঢুকে ব্রণ সৃষ্টি করতে পারে। বাজারের টোনারে অনীহা থাকলে গোলাপজল লাগিয়ে নিন।
মাস্ক: এবার হচ্ছে আসল কাজ—হোয়াইটেনিং মাস্কের ব্যবহার। আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন জাফরানের উপকারী দিকগুলো। তাহলে এটাও জেনে থাকবেন যে, জাফরানে আছে হোয়াইটেনিং প্রপার্টি, যা ত্বকের রং উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।
উপকরণ: জাফরানের আঁশ ৫-৬টা, টক দই/দুধ/দুধের সর ১/২ কাপ, গোলাপের পাপড়ি ২-৩টা, চন্দন/মুলতানি মাটি/নিমের (স্পর্শকাতর ত্বক হলে) গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, ২-৩টা কাঠবাদামের গুঁড়া ও গোলাপজল ১ টেবিল চামচ।
প্রস্তুত প্রণালি: জাফরানগুলো তরল দুধে ২-৩ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন যতক্ষণ না এর রং হলুদাভ হয়। এবার গোলাপের পাপড়িগুলো ভালো করে ধুয়ে নিন। তারপর পাপড়িগুলোর পেস্ট তৈরি করে নিন। এবার একে একে দুধ-জাফরান, গোলাপ পেস্ট, মুলতানি ও বাদামের গুঁড়া গোলাপজলে গুলিয়ে রাখুন। সুন্দর পেস্ট তৈরি হয়ে গেলে মুখের ত্বকে লাগিয়ে ২০-২৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে কলের ঠান্ডা পানিতে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
ময়েশ্চারাইজিং: শেষে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। এ সহজ নিয়মে বাড়িতে করুন ফেসিয়াল। পূজার আগে দুদিন ফেসিয়াল করতে হবে, তাহলেই উপচে পড়বে ত্বকের জেল্লা!
টিপস
যে কোনো ফেসিয়াল বা ফেসপ্যাক ব্যবহারের আগে আপনার ত্বকের জন্য এটি উপযুক্ত কি না, তা নিশ্চিত করুন।
বাড়িতে ফেসিয়াল করার পর ত্বকে যেন কোনো লালচে ভাব বা সংবেদনশীলতা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
অতিরিক্ত ফেসিয়াল করা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, তাই মাসে একবার বা দুবার ফেসিয়াল করা ভালো।
পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করে ভেতর থেকে ত্বকের যত্ন নিন, এতে ত্বক ভেতর থেকে ভালো থাকবে।