

১০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ শুক্রবার রাতে আমি যখন এ নিবন্ধটি লিখছি, তখন বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে রাখাইনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন আরাকান আর্মির সঙ্গে তুমুল সংঘর্ষে লিপ্ত রাখাইনেরই ইসলামপন্থি সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মি (আরসা)। উভয় পক্ষ থেকে মোটর শেল নিক্ষেপ করা হচ্ছে। আর আকাশে উড়ছে আধুনিক যুদ্ধ কৌশলের নতুন সংযোজন ড্রোন। অন্যদিকে এর আগের দিন আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও পূর্বাঞ্চলীয় পাকটিলা প্রদেশ প্রকম্পিত হয়েছে একাধিক শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের কারণে। এই বোমা বিস্ফোরণের পর তালেবানশাসিত আফগান সরকার অভিযোগের আঙুল তুলছে পাকিস্তানের দিকে। আর পাকিস্তানের দাবি, আফগানিস্তানের জঙ্গিরা হামলা করছে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে। এই বোমা হামলা এমন সময় ঘটল, যখন আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ছয় দিনের সফরে ভারতে রয়েছেন। আর বোমা বিস্ফোরণের পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন যে, আফগানিস্তান ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং এ কারণে আফগানিস্তানের জনগণ ও উন্নয়নের প্রতি আগ্রহ রয়েছে ভারতের। তার মতে, ভারত ও আফগানিস্তান উভয় দেশের সীমান্তেই সমস্যা রয়েছে। আফগানিস্তান ও ভারতের মধ্যে ১০৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, যা অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং চীনের আগ্রহের একটি কেন্দ্রবিন্দু। সাম্প্রতিক ঘটনা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ভারত ও আফগানিস্তান একই ধরনের সীমান্তে সন্ত্রাস সৃষ্টি এবং উগ্রবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের অভিযোগ তুলছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। এই আফগানিস্তানের সঙ্গেই রয়েছে চীনের ৯২ কিলোমিটার লম্বা আরেকটি সীমান্ত। ঘটনাচক্রে গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তানের বাগরাম অঞ্চলে অবস্থিত সামরিক বিমানঘাঁটি ফের দখলের ঘোষণা দিয়ে এ অঞ্চলে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
বিশ্বের যে কোনো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও শান্তি-শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে সেই অঞ্চলে বিশ্ব মোড়ল নামে চিহ্নিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কী দেখতে চায়—এমন প্রশ্ন সামনে চলে আসে। সমস্ত পৃথিবী চাইলেও কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র না চাইলে যে কোনো এলাকাই নিরাপদ নয়, তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ সাম্প্রতিক গাজা পরিস্থিতি। জাতিসংঘের মাধ্যমে পৃথিবীর সবাই গাজায় যুদ্ধ বন্ধের আবেদন জানালেও কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায়নি বলেই অধিবেশন চলাকালেও বোমা হামলায় প্রাণ হারিয়েছে ফিলিস্তিনের নারী, শিশু ও নিরপরাধ পুরুষের দল। দক্ষিণ এশিয়ায়ও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয়। দক্ষিণ এশিয়াকে চীনের প্রভাবমুক্ত রাখা মার্কিনিদের অন্যতম চাওয়া। কারণ, সোভিয়েত রাশিয়া ভেঙে যাওয়ার মধ্য দিয়ে স্নায়ুযুদ্ধ বা দুই মেরুর বিশ্ব ব্যবস্থার অবসান ঘটার পর চীনের অকল্পনীয় উত্থানকে মানতে নারাজ মার্কিন সমাজ। অন্যদিকে চীন তার দক্ষ জনসম্পদ, সামরিক সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে চেঙ্গিস খানের স্বপ্নের মতো গোটা বিশ্বকে নিজের কবজায় রাখতে চায়। ভৌগোলিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো চীনের কাছে বলেই মার্কিনিরা এখানকার প্রতিটি দেশের বিষয়ে আবার কিছু বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছে। তবে অতীতের সব উদাহরণকে পিছিয়ে ফেলে সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার দায়িত্বভার নিজের হাতে গ্রহণ করার ঘোষণা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। ভবিষ্যতে সংঘাতময় রাখাইন রাজ্য কিংবা বিতর্কিত কাশ্মীর অথবা অশান্ত মিজোরামের দিকে যদি একইভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নজর পড়ে, তবে পৃথিবীর ইতিহাস পাল্টে যেতে পারে।
আমেরিকার সার্বজনীন কৌশলের অন্যতম হলো ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিকে ঘোষিত ইন্দো-প্যাসিফিক নীতি। দেশটির সরকারি ভাষ্যমতে, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বাধীন, উন্মুক্ত, পারস্পরিকভাবে সংযুক্ত, সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও স্থিতিশীল ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগরীয় অঞ্চল গড়ার লক্ষ্যে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি সবার সঙ্গে ভাগ করছে এবং এ লক্ষ্যে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। তাদের দৃষ্টিতে এ অঞ্চলই পারে এই শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে উন্নত ভবিষ্যতের সুযোগ গ্রহণ করতে। ভারত মহাসাগরের পূর্বাংশ আর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাংশ যেখানে পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হয়েছে, সেই অঞ্চলকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল বলা হয়ে থাকে। বিভিন্ন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠার নিজেদের কর্মপরিধি বিবেচনা করে এ অঞ্চলে ১৫ থেকে ৪০টি দেশ রয়েছে বলে দাবি করে থাকে। যেমন, এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশনের সদস্য ২১টি দেশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শাখার হিসাব মতে, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ৩৮টি দেশে পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক (৫০ শতাংশ) মানুষের বসবাস। পৃথিবীর মোট ভূখণ্ডের ৫২ শতাংশ এ অঞ্চলে। এই বিশাল ভূখণ্ড এবং ভারত মহাসাগরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ মার্কিনিদের হাতে থাকবে বলে তাদের ধারণা। কারণ, পৃথিবীর বাকি অংশের অনেকটাই মার্কিনিদের বলয়ে এরই মধ্যে চলে এসেছে বলে তাদের ধারণা। ভারত মহাসাগরের উত্তরে ভারত। আর ভারতের পূর্বে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে আরব সাগর। বঙ্গোপসাগর ও এর আশপাশে রয়েছে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। আরব সাগরের উত্তরে পাকিস্তান। সমুদ্রতীর থেকে দূরে বা ভূখণ্ড পরিবেষ্টিত দেশ হলো আফগানিস্তান, ভুটান ও নেপাল। আর ভারত মহাসাগরের মাঝে রয়েছে দ্বীপ রাষ্ট্র মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা। এসব রাষ্ট্রের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করা চীনের সঙ্গে স্থল সীমান্ত রয়েছে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত, নেপাল ও মিয়ানমারের। বাংলাদেশের স্থল সীমান্ত আবার ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে। তাই চীন, মিয়ানমার ও ভারতকে কবজা করতে বাংলাদেশকে কাছে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একইভাবে পাকিস্তানকে হাতে রেখে ভারত ও চীন উভয় দেশের ওপর চাপ রাখাটাও মার্কিন রণকৌশলে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চীন বিষয়গুলো অনুধাবন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় তার প্রভাব বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং সম্ভাব্য সব কিছু করার পথে এগিয়ে চলেছে।
এবার সুনির্দিষ্টভাবে বাংলাদেশের নিরাপত্তার দিকে নজর দেওয়া যাক। বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে জেগে ওঠা এক বিস্তীর্ণ জনপদ আমাদের এই বাংলাদেশ। মোট জনসংখ্যার বিচারে পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম এবং মুসলমানদের সংখ্যার ভিত্তিতে চতুর্থ বৃহত্তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই জনসংখ্যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত আরও ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী, যাদের সবাই মুসলমান এবং সংখ্যার দিক থেকে ক্রমবর্ধনশীল। বিশ্বের বুকে ফিজি, গায়ানা, ভুটান, ম্যাকাও, লুক্সেমবার্গ, পশ্চিম সাহারা, মালদ্বীপ, ব্রুনাইসহ বহু দেশ রয়েছে, যাদের মোট জনসংখ্যা ১০ লাখের কম। অথচ বাংলাদেশকে এই ১০ লক্ষাধিক মানুষের বোঝা টানতে হয় বছরের পর বছর। আশঙ্কার কথা, এই শখ ক্রমেই বেড়ে চলেছে জ্যামিতিক হারে। বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার পৃথিবীর মধ্যে ৩৫তম, এশিয়ায় নবম এবং দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয়। অল্প ভূখণ্ডে প্রায় ১৬ কোটির বেশি মানুষের অবস্থান তথা ১৬ কোটি মানুষের বাজার পৃথিবীর যে কোনো বাণিজ্যমুখী দেশের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য।
অন্যদিকে রণকৌশলগত দিক বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর একটি ভৌগোলিক অঞ্চলে। ভারত মহাসাগরে আধিপত্য বিস্তার করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের জলসীমায় তথা বঙ্গোপসাগরে নৌঘাঁটি স্থাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই বঙ্গোপসাগরে নৌঘাঁটি স্থাপন বা জঙ্গি নৌবহর স্থাপনে আগ্রহী পৃথিবীর বহু দেশ। মূলত ভারত মহাসাগরে আধিপত্য বিস্তার করার লক্ষ্যে চীন একমাত্র অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া পৃথিবীর সব মহাদেশে মোট ১২৯টি বন্দর নির্মাণে বিনিয়োগ করেছে, যার ১১৫টি বর্তমানে সচল। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কার হাম্বানতোতা সমুদ্রবন্দরটি ৯৯ বছরের জন্য লিজ নিয়েছে চীন। এ বন্দর নির্মাণের জন্য ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বা ৮৫ শতাংশ অর্থ দিয়েছে চীন। ৫৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দর ৩৫ বছরের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবহারের চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে চীন ও শ্রীলঙ্কা। মিয়ানমারেও ৩৫ বছরের জন্য কাইওয়াকপাইন বন্দর কবজায় রাখতে চীনের বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। পাকিস্তানে ৪০ বছরের জন্য গাওয়াদার বন্দরের কর্তৃত্ব হাতে নিতে চীনের বিনিয়োগ ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এর বাইরে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও অস্ট্রেলিয়ায় বন্দর নির্মাণ করেছে চীন। আর এভাবেই ভারত মহাসাগরকে ঘিরে ফেলছে চীনের বন্দরগুলো। যে কোনো বিরূপ পরিস্থিতিতে এসব বন্দরের নিরাপত্তায় চীন যে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অথচ এই ভারত মহাসাগরকে কবজায় রাখতে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যে কারণে দক্ষিণ এশিয়া আজ দুই পরাশক্তির রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে বলে বিবেচিত হচ্ছে। তাই বাংলাদেশ বলি হতে পারে দুই পরাশক্তির দ্বৈরথে।
ভারত মহাসাগরে চীনের আধিপত্য কমাতে বাংলাদেশকে বারবার কাছে টানতে চেয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের বন্দর ও সমুদ্রদ্বীপ সেন্টমার্টিন এ কারণে সংবাদ শিরোনাম হয়েছে অনেকবার। কারণ, একবার কোনো স্থাপনা প্রতিষ্ঠিত হলে তার রক্ষার নামে সেনা মোতায়েনের সুযোগ মেলে। অন্যদিকে সমুদ্রপথে চট্টগ্রাম আগমন ও বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে মিয়ানমারে কিংবা মিয়ানমার হয়ে চীনে সামরিক অভিযানে মার্কিন সমর পরিকল্পনা বিচিত্র কিছু নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চীনের ওপর বিমান হামলা হয়েছিল এ অঞ্চল থেকেই। এসব কারণে এ এলাকায় খ্রিষ্টান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা বা কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে রাখাইনের দিকে করিডোর নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে সরব হয় মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। কক্সবাজারের ঠিক অন্যদিকে অর্থাৎ বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তরে অবস্থিত অঞ্চল থেকে মাত্র ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নেপাল। এই নেপাল ও বাংলাদেশের মাঝখানে ভারতের ভূখণ্ডটি শিলিগুড়ি করিডোর নামে পরিচিত। এই করিডোর দখল করতে পারলে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্য সেদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। তাই নেপালের অন্যদিকে অবস্থিত চীন এ ভূখণ্ডটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এসব কারণে শিলিগুড়ি করিডোর নিয়েও আলোচনা কিংবা উত্তেজনা দেখা দেয় কদিন পরপর।
অতি সম্প্রতি সৌদি আরব-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যে ন্যাটোর আদলে একটি সামরিক জোট গঠনের উদ্যোগ নতুন সমীকরণ সৃষ্টি করেছে। কারণ, মুসলমান অধ্যুষিত এবং অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে এমন জোটে আহ্বান জানানোর প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আবার আসছে বছর রাশিয়ার অর্থায়নে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে রাশিয়ার নজরদারি ও খবরদারি দুটোই বাড়বে বাংলাদেশের ওপর। অন্যদিকে বিপুল বিনিয়োগ সুরক্ষায় চীন বাংলাদেশের যে কোনো পরিবর্তনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করবে, এটাই স্বাভাবিক। আর ভারত চাইবে আবারও প্রতিষ্ঠিত হোক ৩৬ আগস্ট পূর্ববর্তী পরিস্থিতি। এসব নিয়ে বিচক্ষণতার সঙ্গে আগামীতে ক্ষমতায় যেতে আগ্রহী প্রতিটি দলকে ভাবতে হবে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের মতো নেপালেও রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। মিয়ানমারের সামরিক সরকারের হাতছাড়া রাখাইন রাজ্য। দুর্বল সরকার পাকিস্তানে। সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রবল নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়া।
অবসরপ্রাপ্ত মেজর, গবেষক, বিশ্লেষক ও কলামিস্ট