

বর্তমান সময়ের ছোট পর্দার একজন পরিচিত এবং দর্শকপ্রিয় মুখ আশরাফুল আলম সোহাগ। ঈদুল ফিতরসহ সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু নাটকে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। নাটক নিয়ে বর্তমানে তার তুমুল ব্যস্ততা থাকলেও, অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি যুক্ত আছেন গাড়ির ব্যবসার সঙ্গে। তবে ছোট পর্দায় ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় চরিত্রেই নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিলেও, অভিনেতার মূল লক্ষ্য এখন বড়পর্দা তথা সিনেমায়। বিশেষ করে ঢাকাই সিনেমার খলনায়ক বা ভিলেনের চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরতে চান তিনি।
সোহাগের শোবিজ অঙ্গনে পথচলা শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে, গুণী পরিচালক রহমতুল্লাহ তুহিনের হাত ধরে। মূলত শখের বশে তার পরিচালিত জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘যখন কখনো’তে অভিনয়ের মাধ্যমে ক্য্যামেরার সামনে দাঁড়ান সোহাগ। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক নাটকে অভিনয় করে দর্শক হৃদয়ে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
রাজনীতি থেকে অভিনয়ে আসার পেছনে রয়েছে তার ব্যক্তিগত জীবনের এক বড় গল্প। ছাত্রজীবন থেকে সোহাগ সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে বিয়ের পর স্ত্রীর পরামর্শে তিনি রাজনীতি ছেড়ে ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন। পরে অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেন। সম্প্রতি হাসান জাহাঙ্গীরের পরিচালনায় ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নামক একটি প্রজেক্টে তাকে খলনায়কের ভূমিকায় দেখা গেছে।
তবে সিনেমা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সোহাগ কিছুটা রহস্য বজায় রেখে বলেন, “আমি এখনো মূলধারার কোনো সিনেমায় কাজ করিনি। ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নিয়ে আমি এ মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এ বিষয়ে কথা বললে অহেতুক সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে, যা আমি এড়াতে চাই।”
বড় পর্দায় কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে সোহাগ বলেন, “আমি অনেক আগে থেকে সিনেমার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছি। এখন সময় এসেছে এবং স্পষ্টভাবে জানাতে চাই যে, আমি সিনেমায় খলনায়কের চরিত্রে কাজ করতে অত্যন্ত আগ্রহী। কোনো পরিচালক যদি মনে করেন যে, চরিত্রটির জন্য আমি উপযুক্ত, তবে আমি আমার সর্বোচ্চ বিলিয়ে দিয়ে সেই চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলব। বিশ্বাস করি, সেই দিন আর বেশি দূরে নেই।”
কথোপকথনের একপর্যায়ে নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও প্রয়াত স্ত্রীকে স্মরণ করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এ অভিনেতা। তিনি জানান, স্ত্রীর আকস্মিক মৃত্যু তাকে মানসিকভাবে এক গভীর শূন্যতা ও যন্ত্রণার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। সোহাগ বলেন, “একটা সময় ভেবেছিলাম অভিনয় ছেড়ে দেব। কিন্তু আমার স্ত্রী আমাকে একা রেখে চলে যাওয়ার পর আমি প্রচণ্ড মানসিক কষ্টে ভুগছিলাম। এখন অভিনয়ই আমার বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন। যখন ক্যামেরার সামনে কোনো চরিত্রে অভিনয় করি, তখন নিজেকে সেই চরিত্রের ভেতরে বিলীন করে দিই। মনে হয় এটাই আমার বাস্তব জীবন। এ ব্যস্ততাই আমাকে মানসিক যন্ত্রণা থেকে দূরে রাখে। তাই যতদিন বেঁচে থাকব, অভিনয়কে আঁকড়ে ধরেই বেঁচে থাকতে চাই।”
নিজের পারিশ্রমিক ও ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান অবস্থা নিয়ে স্পষ্টভাষী এ অভিনেতা বলেন, “কাজের ক্ষেত্রে আমি আমার ন্যায্য পারিশ্রমিকই নিই। কেউ কখনো আমার পারিশ্রমিক কম দিতে পারেনি। তবে আমাদের দেশে এমন অনেক প্রতিভাবান পরিচালক আছেন, যারা বর্তমানে আর্থিক সংকটে ভুগছেন এবং বছরে হয়তো এক বা দুটি কাজ করছেন। এমন কোনো সংকটে পড়া পরিচালক যদি আমাকে নিয়ে কাজ করেন, তিনি আমাকে পুরো পারিশ্রমিকই দেন। কিন্তু আমি যদি জানতে পারি যে, তিনি আর্থিক টানাপোড়েনে আছেন, তবে আমি কোনো না কোনো ওসিলায় আমার পারিশ্রমিকের পুরো টাকাটাই তাকে গোপনে ফিরিয়ে দিই। এটা একজন শিল্পী হিসেবে অন্য শিল্পীর প্রতি আমার দায়বদ্ধতা।”
ব্যস্ত শুটিং শিডিউলের মাঝেও ব্যক্তি জীবনে নিজের দুই সন্তানের সঙ্গে সময় কাটাতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন আশরাফুল আলম সোহাগ। অভিনয়, ব্যবসা ও পরিবার সব মিলিয়ে এক ব্যস্ত জীবন পার করছেন এই অভিনেতা, যার চোখ এখন রুপালি পর্দার খলনায়কের আসনের দিকে।