মিনহাজ তুহিন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৬, ০১:৩৭ এএম
অনলাইন সংস্করণ

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া হচ্ছে দুই মেগা প্রকল্প

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা। পুরোনো ছবি
চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা। পুরোনো ছবি

চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের ‘বিষফোড়া’ জলাবদ্ধতা। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে গত এক দশকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঢালা হলেও অভিশাপ থেকে মুক্তি পায়নি নগরবাসী। এই পরিস্থিতিতে নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে আরও দুটি নতুন মেগা প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।

প্রাথমিকভাবে এই দুই প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা। তবে প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, চূড়ান্ত সমীক্ষা শেষে বাস্তবসম্মত রূপরেখা তৈরি হলে এই ব্যয়ের অংক আরও বড় হতে পারে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পগুলোর সীমাবদ্ধতা দূর করতেই মূলত এই নতুন উদ্যোগ। সম্প্রতি সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেনের উপস্থিতিতে এক সভায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্প দুটির খসড়া প্রস্তাবনা (পিডিপিপি) জমা দেয়।

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে একনেক সভায় প্রকল্প দুটি অনুমোদনের লক্ষ্য নিয়ে চলতি জুনের মধ্যেই এর ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) চূড়ান্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

কী আছে প্রকল্প দুইটিতে

প্রথম প্রকল্পটি হলো চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন মেগা প্রকল্পের আওতাভুক্ত ৩৬টি খালের দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ। চলমান এই প্রকল্পের কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর খালগুলো চসিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে। হস্তান্তরের পর প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অর্থায়নের অভাবে খালগুলো যাতে আবারও নাব্যতা না হারায়, সেজন্য আগেভাগেই একটি রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

১১০ দশমিক ৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালগুলোর পরবর্তী পাঁচ বছরের পলি ও বর্জ্য অপসারণের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩২২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম বছরেই ১১২ কোটি টাকা খরচের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বরাদ্দকৃত এই বাজেট পুনর্বিবেচনা করলে ব্যয় কমপক্ষে ১ থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

তিন ধাপের এই পরিকল্পনায় প্রথম ধাপে পলি ও বর্জ্য অপসারণ; দ্বিতীয় ধাপে কাঠামোগত উন্নয়ন ও নাগরিক পর্যবেক্ষণ এবং তৃতীয় ধাপে ডিজিটাল মনিটরিং, বন্যা পূর্বাভাস ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় প্রকল্পটি নেওয়া হচ্ছে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর বাইরে থাকা বাদ পড়া ২১টি খাল নিয়ে। ৩৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালগুলোর সংস্কার ও দুই পাশে প্রতিরোধ দেয়াল (গাইড ওয়াল) নির্মাণের জন্য ৩ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে মূল কাজের বাইরে জমি অধিগ্রহণে ৫৮ কোটি, টাইডাল রেগুলেটর ও পাম্প স্টেশনে ৫৭ কোটি, সৌন্দর্যবর্ধনে ৭৭ কোটি এবং পরিবেশ ও জিআইএস ব্যবস্থাপনায় ৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে গত এক দশক ধরে সিডিএ, চসিক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে মোট ৪টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এই চার প্রকল্পের মোট বাজেট ১৪ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১০ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা।

তবে এত বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও গত এপ্রিলের এক বৃষ্টিতেই প্রবর্তক মোড় বা রিয়াজুদ্দিন বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাগুলো বুকসমান পানিতে তলিয়ে যেতে দেখেছে নগরবাসী।

নতুন প্রকল্পের তালিকায় উল্লেখযোগ্য খালের মধ্যে রয়েছে কাটা খাল, কৃষ্ণ খাল, কুয়াইশ খাল, যুগীর খোলা খাল, ফরেস্ট খাল, বাইজ্জা খাল, চট্টেশ্বরী খাল, রামপুর খাল, বালুখালী খাল, বারিঙ্গাছড়া খাল ও ধামাইর খালসহ আরও কয়েকটি সংযুক্ত খাল।

নগরীর জলাবদ্ধতা নিয়ে কাজ করা প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার ও শাহরিয়ার খালেদ জানান, এই ২১টি খালের বাইরেও চট্টগ্রামে আরও অনেক খাল রয়েছে, যা এই খসড়া তালিকায় আসেনি। টেকসই সমাধান চাইলে সব খালকে এই মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় আনতে হবে।

চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব কালবেলাকে বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যা এখনও পুরোপুরি যায়নি। টানা ভারী বৃষ্টি হলে এখনও নগরের কিছু জায়গায় পানি জমে থাকে। নগরীর এই জলাবদ্ধতা সমস্যা পুরোপুরি নিরসনে এবং খালগুলোকে স্থায়ীভাবে সচল রাখতে আমরা কাজ করছি। নতুন করে দুইটা প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এসব প্রকল্পে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে, তা মূলত খসড়া। কাজের প্রকৃত পরিধি ও সব খাত বিবেচনা করলে এই নতুন প্রকল্পের ব্যয় আরও বাড়তেও পারে।

সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতা দূর করতে হলে শুধু খাল পরিষ্কারের মতো খণ্ডকালীন চিন্তা করলে হবে না। খাল, নালা, ড্রেন, স্লুইসগেট এবং অবৈধ দখলদারিত্বের মতো সব বিষয়কে একসঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত ও পূর্ণাঙ্গ সমাধান দরকার।

তিনি আরও বলেন, বাদ পড়া অন্যান্য খালগুলোকে যুক্ত করে এই তালিকায় খালের সংখ্যা ৪০ থেকে ৫০টিতে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলছে। চলতি জুনের মধ্যেই ডিপিপি চূড়ান্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে একনেক সভায় এটি অনুমোদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অভিযোগ দিয়ে ফেরার পথে বাদীপক্ষের ওপর হামলা, থানায় আশ্রয় নিয়েও মেলেনি রক্ষা

ঘর থেকে ডেকে উঠানে নিয়ে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

শেষ কবে গোলের দেখা পেয়েছিলেন পর্তুগালের মহাতারকা?

রিজার্ভ চুরি / সাবেক গভর্নরসহ ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা মিলেছে

কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিংয়ে বৈশ্বিক অবস্থান ধরে রাখল ডিআইইউ

লড়াই করেও অভিষেকটা রাঙাতে পারল না উজবেকিস্তান

জি৭ সম্মেলনে ট্রাম্পের ‘আমি-ই বস’ মন্তব্যে হাসির রোল

প্রয়াত বাবার নামে এলো মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণপত্র, সংসদে আবেগাপ্লুত ছেলে

দুপুরের মধ্যে ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরেও সতর্কতা

একই পরিবারের ৩ মাদককারবারি আটক, বাড়ি জ্বালিয়ে দিল বিক্ষুব্ধ জনতা 

১০

যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালে বন্দুক হামলা, গুলিতে নিহত ১

১১

মালদ্বীপের সামুদ্রিক পর্যটনে বাংলাদেশি মোশারফ হোসেনের সাফল্যের দীপ্ত পদচারণা

১২

গুদামে আটকা ৩৪০ টন চাল / মেয়াদোত্তীর্ণ ডিওতে খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত উপকারভোগীরা

১৩

‘লোকসানের আলু’ মহাসড়কে, হিমাগার ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে অবরোধ

১৪

বিছানায় মুক্তিপণের চিঠি, ময়লার ভাগাড়ে মিলল শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ

১৫

ঢাকার ১২০ গুরুত্বপূর্ণ স্পটে বসছে এআই ক্যামেরা

১৬

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বিরতির পরও এগিয়ে আছে কলম্বিয়া

১৭

পারমাণবিক অস্ত্র ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নিল ইরান

১৮

ধর্ষণে শিশু অন্তঃসত্ত্বার ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সেই নেতাকে অব্যাহতি

১৯

২০৩০ বিশ্বকাপ খেলবেন কি না, নিজেই জানালেন মেসি

২০
X