

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনাকে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার মাধ্যমে আনন্দ, আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক সামাজিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে রাজধানীর কালশী বস্তিতে ‘ফুটবল উৎসব ২০২৬’-এর অংশ হিসেবে ‘স্ট্রিট গোল চ্যালেঞ্জ’ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
উন্মুক্ত মাঠে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় কালশী বস্তির বিপুলসংখ্যক শিশু-কিশোর স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি সফল গোল যেন তাদের কাছে আনন্দ, আত্মবিশ্বাস ও সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে ওঠে। খেলাধুলার মাধ্যমে শৃঙ্খলা, দলগত চেতনা এবং ইতিবাচক সামাজিক মূল্যবোধ বিকাশের বার্তাই ছিল এ আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিচালক (ডিএমএ) মো. আসাদুজ্জামান গনী বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবলের সার্বজনীন আনন্দ ও উন্মাদনা সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোররাও যেন এই বৈশ্বিক উৎসবের আনন্দে শামিল হতে পারে, সে চিন্তা থেকেই বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এই ‘স্ট্রিট গোল চ্যালেঞ্জ’-এর আয়োজন করেছে।
প্রতিযোগিতা শেষে চারটি ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রথম ক্যাটাগরিতে ৫ জনকে স্কুল ব্যাগ, দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে ৮ জনকে ছাতা, তৃতীয় ক্যাটাগরিতে ৮ জনকে পানির পট এবং চতুর্থ ক্যাটাগরিতে ৯ জনকে পেন্সিল বক্স প্রদান করা হয়। এ ছাড়া নির্ধারিত লক্ষ্যে গোল করতে না পারলেও অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোরদের উৎসাহিত করতে সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে কলম প্রদান করা হয়।
শিশু-কিশোরদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ, অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এবং দর্শকদের উৎসাহে কালশী বস্তি পরিণত হয় এক প্রাণচঞ্চল ফুটবল উৎসবে। অনুষ্ঠানটি ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্ব’-এর ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এ ধরনের উদ্যোগ প্রমাণ করে যে খেলাধুলা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি শিশু-কিশোরদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার, ইতিবাচক জীবনবোধ গড়ে তোলা এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে মূলধারার উৎসব ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার একটি কার্যকর মাধ্যম।
বিশ্বকাপের আনন্দকে উপলক্ষ করে আয়োজিত এই উদ্যোগ শিশুদের মনে স্বপ্ন, আশা ও সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পুরো আয়োজনটি পরিচালক (মিডিয়া সেল, সদরদপ্তর) ও অধিনায়ক (এজিবি) মো. আইয়ুব আলী, ডিএমএ জোন কমান্ডারগণ, থানা কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষকদের উপস্থিতিতে সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।