বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৬, ১০:২০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

আমির হামজাকে হত্যার নেপথ্যে যা জানালেন তার বাবা

কলেজ শিক্ষার্থী আমির হামজা। ছবি : কালবেলা
কলেজ শিক্ষার্থী আমির হামজা। ছবি : কালবেলা

বাগেরহাটের চিতলমারীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে ঘরের ভেতরে ঢুকে আমির হামজা (২৩) নামের এক কলেজ শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা করেছে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। হত্যাকাণ্ডের সময় সন্ত্রাসীরা নিহতের বাবার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে জিম্মি করে রাখে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে উপজেলার শিবপুর গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

নিহত আমির হামজা শিবপুর গ্রামের রুহুল আমিন মুন্সির ছেলে। তিনি খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত ছিলেন। মাত্র দুই মাস আগে বিয়ে করা হামজা ঈদ উপলক্ষে স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন।

নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৪টার দিকে বাড়ির উঠানে বাবা ও চাচার সঙ্গে কথা বলছিলেন হামজা। এ সময় ১০-১২ জন যুবক মোটরসাইকেলে করে হেলমেট পরা অবস্থায় বাড়িতে প্রবেশ করে নিজেদের ‘পুলিশ’ পরিচয় দেয়। বিপদ আঁচ করতে পেরে হামজা দৌড়ে বাড়ির ছাদে উঠলে সন্ত্রাসীরা তাকে ধাওয়া করে।

নিহতের বাবা রুহুল আমিন মুন্সি জানান, তিনজন আমাকে ঘিরে ধরে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে রাখে। আমার ছেলে প্রাণ বাঁচাতে ছাদ থেকে রান্নাঘরের টিনের ওপর লাফ দেয়। এরপর আমি ৫-৬ রাউন্ড গুলির শব্দ শুনি। তারা চলে যাওয়ার পর দেখি আমার ছেলে খালের পাশে নিথর হয়ে পড়ে আছে।

সন্ত্রাসীরা হামজাকে ধরে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে একাধিক গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

স্বজনদের দাবি, গত ৫ আগস্টের পর খুলনায় তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। আমির হামজা ওই ঘটনার প্রতিবাদ করায় একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের বিরোধ তৈরি হয়। পরিবারের ধারণা, সেই ঘটনার জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। নিহতের মা বাদী হয়ে চিতলমারী থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামীম হোসেন বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই ও ডিবি পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। প্রাথমিক তদন্তে পূর্ব শত্রুতার বিষয়টিই উঠে আসছে। জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, চলতি মাসেই বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় পৃথক গুলিবর্ষণের ঘটনায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন। একের পর এক এমন খুনের ঘটনায় জেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে এসব ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের হট্টগোল

‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানে মুখর দিল্লি 

হামের উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত আরও ১০৩২

শোকজের সন্তোষজনক জবাব না পেলে আদ-দ্বীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শেরপুর সীমান্তে পুশ-ইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের সংকট মোকাবিলায় কাজ করছে সরকার : অর্থ উপদেষ্টা

৩২০ কোটিতে বিশ্বকাপ দেখানোর স্বত্ব কিনল যে চ্যানেল

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক

ককরোচ জনতা পার্টির ‘জেন-জি’ বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, নিরাপত্তা জোরদার

বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ / ১১ জনকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়নি বিজিবি

১০

বিজিবির বাধায় পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ, ৩৩ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

১১

ভারতের মাটিতে আজ ভারতকে হারাতে প্রস্তুত বাংলাদেশ

১২

বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঘুঘুর বাচ্চা নামাতে গিয়ে প্রাণ গেল কিশোরের

১৩

পরিচালক প্রার্থীদের কাছে তামিমের অনুরোধ

১৪

বাংলাদেশ-ভারতের লড়াই কি শুধুই ট্রফির?

১৫

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

১৬

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি-লঞ্চ চলাচল বন্ধ

১৭

শেয়ারহোল্ডারদের সর্বসম্মত অনুমোদন / ওয়ালটন হাই-টেকের সঙ্গে ডিজি-টেকের একীভূতকরণ চূড়ান্ত পর্যায়ে

১৮

শেষ সূর্য জমানা! ভারতের নতুন টি-২০ অধিনায়ক শ্রেয়াস

১৯

ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ৭ মাসের ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু

২০
X