

দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘ ও বায়ূচাপের প্রভাবে দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায় চলছে টানা বৃষ্টিপাত। তবে এমন বৈরী আবহাওয়ায় বৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বজ্রপাত। আর এই বজ্রপাত উপকূলীয় কৃষকদের সর্বনাশ ডেকে এনেছে। প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে নিঃস্ব হয়েছেন অনেক খামারি।
কলাপাড়ায় এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধশতাধিক গবাদি পশু মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এসবের মধ্যে অনেক গরুই আসন্ন ঈদুল আজহাতে বিক্রির আশায় প্রস্তুত করেছিলেন খামারিরা। অল্প সময়ের ব্যবধানে এখন লাভের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে তাদের।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে হঠাৎ শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে এখন পর্যন্ত ২৩ জন কৃষকের স্বপ্ন পুড়েছে বলে জানায় প্রাণিসম্পদ বিভাগ। যার তালিকা আরও দীর্ঘ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জানা যায়, মঙ্গলবার থেকে এখন পর্যন্ত ২৩ কৃষকের অন্তত ২৯টি গরু বজ্রপাতে নিহত হয়েছে। নিহত গবাদিপশুর মধ্যে অনেক বলদ গরু আগামী ঈদের হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল।
ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন- লালুয়া ইউপির কৃষক মো. জহিরুল ইসলাম, মো. আক্কাস, মহিপুর সদর ইউপির কৃষক জনপতি, লতিফপুর গ্রামের শাহীন খান ও আলতাফ গাজী, ইউসুফপুরের মকবুল খান, মনোহরপুরের রিপন চন্দ্র শীল, মহিপুর গ্রামের আনিস ঘরামি, ধুলাসার ইউনিয়নের নয়াকাটা গ্রামের মাইনুদ্দিন হাওলাদার, তারিকাটা গ্রামের মো. দেলোয়ার ও সোবহান, বালিয়াতলী ইউনিয়নের মো. বশির,দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম, বালিয়াতলী গ্রামের মো. হাবিবুল্লাহ ও মো. জলিল, রিফিউজি পাড়ার মো. ফেরদাউস ও শাহিদা বেগম, খাপড়াভাঙ্গা গ্রামের আব্বাস মৃধা, ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের মধুখালী গ্রামের আনেচ খান, নিজাম স্বর্ণমত, এনায়েত তালুকদার ও ছিদ্দিক হাওলাদার, কোমরপুর গ্রামের নূর হোসেন।
বালিয়াতলী ইউপির রিফিউজি পাড়ার কৃষক ফেরদৌস দফাদার কালবেলাকে বলেন, মঙ্গলবার হঠাৎ করে লাগাতার বজ্রপাত শুরু হয়। এসময় বাড়ির সামনেই মাঠে ঘাস খাচ্ছিল দুমাসের বাছুরসহ আমার একটি শাহীওয়াল জাতের গাভী গরু। দুদিন আগেও বাচ্চাসহ এক লাখ ত্রিশ হাজার টাকা দাম হাঁকিয়ে গেছে ক্রেতারা। এত বজ্রপাত জীবনে আমি আগে আর কখনো দেখিনি।
ধূলাসার ইউপির ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক দেলোয়ার হাওলাদার কালবেলাকে জানান, গতকালের বজ্রপাতে তার দুটি গাভী গরুর মৃত্যু হয়েছে। বড় জাতের দুটি গরুর বাজার মূল্য প্রায় লাখ টাকা ছিল।
কলাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মারুফ বিল্লাহ কালবেলাকে বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত ২৩ জন কৃষকের তালিকা পেয়েছি। তাদের ২৯টি গরু বজ্রপাতে মাঠে এবং খামারে নিহত হয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এর সংখ্যা আরো অনেক বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেক কৃষকের গরুর মৃত্যুর খবর পাচ্ছি কিন্তু এখনো তাদের নাম পাইনি।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কাউসার হামিদ কালবেলাকে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে সরকারিভাবে নগদ অর্থ, খাদ্য সহায়তা ও ঢেউটিন প্রদান করা হবে। আমরা সঠিকভাবে তালিকা প্রণয়ন করছি।