বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
আপডেট : ১৩ মে ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
অনলাইন সংস্করণ

মানুষ আর কাকের অদ্ভুত বন্ধন

রুনু দেবনাথের মাথার উপরে পোষা কাক টুটু। ছবি : কালবেলা
রুনু দেবনাথের মাথার উপরে পোষা কাক টুটু। ছবি : কালবেলা

এক বছর আগে কালবৈশাখী ঝড়ে বাসা থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছিল একটি কাকের ছানা। অসহায় সেই ছানাটিকে উদ্ধার করে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন শুরু করেন বাগেরহাট শহরের লঞ্চঘাট এলাকার দর্জি রুনু দেবনাথ। এখন সেই কাকই সবার কাছে পরিচিত ‘টুটু’ নামে।

বাগেরহাট শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় ছোট্ট একটি দর্জির দোকান রয়েছে রুনু দেবনাথের। তিনি বলেন, ঝড়ে আহত অবস্থায় পড়ে থাকা কাকের ছানাটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসা ও যত্ন করে সুস্থ করে তোলেন তিনি। সুস্থ হওয়ার পরও কাকটি তাকে ছেড়ে কোথাও যায়নি। ধীরে ধীরে টুটু হয়ে ওঠে তার নিত্যসঙ্গী।

দিনভর দোকানে রুনুর সঙ্গেই সময় কাটায় টুটু। কখনও তার কাঁধে বসে থাকে, কখনও দোকানের ভেতর উড়ে বেড়ায়, আবার কখনো খুনসুটিতে মাতিয়ে রাখে আশপাশের সবাইকে। রুনু দোকান থেকে কোথাও বের হলে টুটুও তার পিছু নেয়।

টুটুর ভালোবাসা আর দুষ্টুমিতে প্রতিদিন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে লঞ্চঘাট এলাকার পরিবেশ। আশপাশের দোকানদাররাও কাকটিকে আপন করে নিয়েছেন। মানুষ ও একটি কাকের এমন স্নেহময় সম্পর্ক দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করেন অনেকে। কেউ ছবি তোলেন, কেউ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে মুগ্ধ হয়ে দেখেন টুটু আর রুনুর মায়ার বন্ধন।

মানুষ আর প্রাণীর সম্পর্ক যে শুধু খাবার বা আশ্রয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, ভালোবাসা আর মমতাও যে গড়ে তুলতে পারে গভীর বন্ধন— তার অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছেন বাগেরহাটের রুনু দেবনাথ ও তার প্রিয় কাক টুটু।

পাশের দুলাল পরামানিক সেলুনের মালিক বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম সুস্থ হলেই কাকটা উড়ে চলে যাবে। কিন্তু এখন দেখি রুনু দাদার সঙ্গে ওর সম্পর্কটা মা-সন্তানের মতো। কেউ রুনু দাদাকে বকা দিলেও টুটু রেগে যায়। আবার আমাদের সঙ্গে মজাও করে। ছোট বাচ্চাদের খুব পছন্দ করে।

এক পথচারী সাগর হোসেন বলেন, এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। মানুষ আর একটা কাকের মধ্যে এত মায়া-মমতা সত্যিই অবাক করার মতো। নিজের চোখে দেখেছি, কেউ মারতে গেলে টুটু রক্ষা করতে এগিয়ে আসে। মানুষের ভালোবাসা পেলে প্রাণীরাও যে আপন হয়ে ওঠে, এটি তার প্রমাণ।

রুনু দেবনাথ বলেন, প্রথমে ভাবিনি ও বাঁচবে। খুব অসহায় অবস্থায় ছিল। নিজের সন্তানের মতো করে যত্ন করেছি বলেই হয়তো আজও আমার সঙ্গ ছাড়েনি। এখন ওকে ছাড়া আমার এক মুহূর্তও ভালো লাগে না। আমি ডাক দিলেই উড়ে এসে কাঁধে বসে পড়ে। কেউ যদি আমাকে মারার ভানও করে, সঙ্গে সঙ্গে তেড়ে যায়। যেন আমাকে পাহারা দেয়।

তিনি আরও বলেন, আমার দুই সন্তান আছে— একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। কিন্তু টুটুকেও আমি আমার সন্তানের মতোই মনে করি। ২২ বছর ধরে এই দর্জির কাজ করে সংসার চালাই। দিনের বেশিরভাগ সময় দোকানেই কাটে। টুটু আমার সঙ্গী হয়ে আছে সবসময়। মাঝে মাঝে কোথা থেকে ছোট ছোট ফুল এনে আমাকে সাজিয়ে দেয়। তখন মনে হয় ও যেন ভালোবাসা প্রকাশ করছে। এখন টুটু আমার সবকিছু।

কালবেলা
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আর্জেন্টিনাকে জেতাতেই হবে  / ফাইনালের আগে সমর্থকদের ঘরে ঘরে কুসংস্কার

আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে স্পেন কোচের ‘একমাত্র ভয়’ কী নিয়ে

ডুবে মারা গেলেন রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি

পাকিস্তানে ফের বাড়লো জ্বালানির দাম

হাতের টানেই গুঁড়ো হচ্ছে নির্মাণাধীন স্টেডিয়ামের ঢালাই, প্রতিবাদ করায় হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণ নিয়ে নতুন সতর্কতা জারি যুক্তরাষ্ট্রের

বহু বছর ধরে অচল থাকা ইরাক-সিরিয়া তেল পাইপলাইন সচলে সমঝোতা

ডেমরার পুলিশ লাইনে পুলিশ সদস্যের ‘আত্মহত্যা’, থানায় মামলা

বন্যার সময় আসতে না পারায় এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফাইনালে ইয়ামালকে নিয়ে বিশেষ ছক কষেছেন মেসি

১০

চাকরিজীবীদের জন্য এক মাসে দুই দফায় ছুটি নিয়ে সুখবর

১১

প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাবেক যুবদল নেতার খোলা চিঠি

১২

সাতসকালে ইরানের ১০ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করল জর্ডান

১৩

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ / ইন্টারপোলের ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সৈয়দ

১৪

পছন্দ না হলেই ফ্যাসিস্ট বানিয়ে দেন: অভিযোগ পুলিশ সুপারের

১৫

ভুলে ‘জয় বাংলা’ বলায় দুঃখ প্রকাশ এনসিপি নেতার

১৬

ইরানের লারাক দ্বীপে নৌ-নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

১৭

জর্ডানে বিকট বিস্ফোরণ, শোনা গেল ফিলিস্তিন থেকে

১৮

বেলজিয়ামে তাপপ্রবাহে ২ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু

১৯

ইসরায়েলের ওপর ইইউর কূটনৈতিক চাপ

২০
X