

চট্টগ্রাম নগরীর জামালখানে ধর্ষণের পর শিশু মারজান হক বর্ষা হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন ভুক্তভোগীর মা ঝর্ণা বেগম।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) চট্টগ্রামের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমার আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার প্রথম দিনেই ভুক্তভোগীর মা ঝর্ণা বেগম সাক্ষ্য দিয়েছেন। আগামী ২ আগস্ট পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ মামলায় মোট সাক্ষী ২০ জন।
এর আগে গত ২১ জুলাই চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আসামি লক্ষ্মণ কান্তি দাশের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় (লাশ গুম) অভিযোগ গঠন করেন। পরে মামলাটি বদলি হয়ে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে আসে। অভিযোগ গঠনের এক সপ্তাহের মাথায় শুরু হলো মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ।
আদালত সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর বিকেলে নগরীর কুসুম কুমারী বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী মারজান হক বর্ষা চিপস কিনতে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। সেদিন ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবের মধ্যেও এলাকায় মাইকিং করে শিশুটিকে খোঁজা হলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। তিন দিন পর জামালখানের শিকদার হোটেলের পাশের একটি বড় নালা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বর্ষার বাবা আব্দুল হক ও মা ঝর্ণা বেগমের ছয় মেয়ের মধ্যে সবার ছোট। মরদেহ উদ্ধারের পর ২০২২ সালের ২৭ অক্টোবর ঝর্ণা বেগম কোতোয়ালি থানায় হত্যা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে স্থানীয় শ্যামল স্টোরের কর্মচারী লক্ষ্মণ কান্তি দাশের সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ। ২৮ অক্টোবর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্ত চলাকালে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে লক্ষ্মণ কান্তি দাশ জানান, ১০০ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বর্ষাকে দোকানের গুদামঘরে নিয়ে তিনি ধর্ষণ করেন। পরে রক্তক্ষরণ শুরু হলে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে শ্বাসরোধ ও মাথায় আঘাত করে শিশুটিকে হত্যা করেন। এরপর টিসিবির সিলযুক্ত একটি প্লাস্টিকের বস্তায় মরদেহ এবং আরেকটি বস্তায় ভুক্তভোগীর পোশাক, স্যান্ডেল ও পেঁয়াজের খোসা ভরে পাশের নালায় ফেলে দেন।
ঘটনার তদন্ত শেষে কোতোয়ালি থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) নওশের কোরেশী গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। প্রায় তিন বছর পর চলতি বছরের ২১ জুলাই আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। আর অভিযোগ গঠনের এক সপ্তাহের মাথায় মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলো।