বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

স্ত্রীকে ফেরাতে গিয়ে মোটরসাইকেল রেখে পালালেন ছাত্রদল নেতা

স্ত্রীকে ফেরাতে গিয়ে মোটরসাইকেল রেখে পালালেন ছাত্রদল নেতা

বগুড়ার নন্দীগ্রামে স্ত্রী তালাকনামা পাঠানোয় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে জোর করে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়েছেন এক ছাত্রদল নেতা ও তার সহযোগীরা। স্থানীয়দের ধাওয়ার মুখে দুটি মোটরসাইকেল ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে উপজেলার ভাগ শিমলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রদল নেতার নাম ফিরোজ আহম্মেদ শাকিল। তিনি নন্দীগ্রাম সরকারি মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি।

জানা গেছে, দুই বছর আগে ভাগ শিমলা গ্রামের আলমগীর হোসেনের মেয়ে আরফিন আলমগীর রিভাকে পছন্দ করে বিয়ে করেন ফিরোজ আহম্মেদ। কিন্তু রিভার পরিবার এ বিয়ে মেনে না নেওয়ায় মেয়ের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বন্ধ ছিল। দুই মাস আগে এই দম্পতির ঘরে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। গত ১৪ জুন রিভার বাবা-মা তাদের বিয়ে মেনে নিয়ে শাকিলের বাড়িতে যান এবং মেয়েকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর গত বুধবার বাবার বাড়ি থেকেই শাকিলকে তালাকনামা পাঠান রিভা।

স্থানীয়রা জানান, তালাকের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার শাকিল তিনটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ভাগ শিমলা গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যান। এ সময় শাকিলের সঙ্গে আসা যুবকরা বাড়ির লোকজনকে মারধর করে রিভাকে জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে শাকিল ও তার সহযোগীদের ধাওয়া দেন। একপর্যায়ে তারা দুটি মোটরসাইকেল ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোটরসাইকেল দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

শাকিলের স্ত্রী আরফিন আলমগীর রিভা অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই শাকিল ও তার মা আমাকে মারধর করতেন। শাকিল আমার গয়না বিক্রি করে দিয়েছেন। সন্তান হওয়ার পরও আমাকে নির্যাতন সইতে হয়েছে। বাবা-মা মেনে না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে আগে শাকিলের বাড়িতে ছিলাম। গত ১৪ জুন বাবা-মা আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসার পর আমি তাকে তালাক দিই। এই খবর পেয়ে সে লোকজন নিয়ে এসে আমাকে জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে।

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফিরোজ আহম্মেদ শাকিল। তিনি বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। হঠাৎ তালাকের খবর পেয়ে কারণ জানতে শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলাম। তখন আমার স্ত্রী ও তার পরিবারের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাকে এবং সঙ্গে থাকা কয়েকজন সাংবাদিককে মারধর শুরু করে। প্রাণভয়ে আমরা সেখান থেকে চলে আসি।

নন্দীগ্রাম থানার ওসি তারিকুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ভাগ শিমলা গ্রামে আলমগীর হোসেনের বাড়িতে যায়। তবে সেখানে গিয়ে শাকিল বা তার সহযোগীদের কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে ফেলে যাওয়া দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় যোগাযোগ করেনি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জনসম্মুখে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কফিন উন্মোচন

দুই গোল খেয়ে সুইস-ঝড়ে বিপর্যস্ত আলজেরিয়া

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ভোটগ্রহণ শুরু

সতীর্থদের সঙ্গে তল্লাশির মুখে মেসিও, ব্যাগ থেকে লাইটার নিয়ে গেল পুলিশ

ফরিদপুরে একসঙ্গে ৫ সন্তানের জন্ম, মারা গেল ৪ জন

গভীর রাতে সড়কে ঝরল ২ যুবকের প্রাণ

বগুড়ায় ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসা সুপার গ্রেপ্তার

সুমাইয়ার কান্না থামাবে কে? 

পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে তৈরি হচ্ছে শেড, শৃঙ্খলায় থাকছে স্কাউট-বিএনসিসি 

ছুটির দিনে দেশে ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরেও সতর্কতা

১০

জয়ের পর ২১ নম্বর জার্সি তুলে রোনালদোর আবেগঘন শ্রদ্ধা

১১

নিজের অর্থ-সম্পদ দেখভাল করেন ছেলে এরিক, দাবি ট্রাম্পের

১২

রাবিতে আবাসিকতা বাতিলের পরেও হলে থাকেন হল সংসদের ২ নেতা

১৩

বাবার কাঁধে চড়ে এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে আফিয়া

১৪

টানা ৩০ মিনিটের বেশি বসে থাকলেই বাড়তে পারে ক্যানসারে মৃত্যুঝুঁকি

১৫

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৮ দিন পর একজনকে জীবিত উদ্ধার

১৬

শেষ ষোলোয় রোনালদোদের প্রতিপক্ষ কারা, ফিরছে নেশনস লিগের সেই ফাইনাল

১৭

নতুন দায়িত্বে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, ডাক-টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও আইনমন্ত্রী

১৮

৩ জুলাই / আজকের নামাজের সময়সূচি

১৯

আলিম পরীক্ষা  / নিয়মিতদের হাতে অনিয়মিত প্রশ্ন, কেন্দ্র সচিবসহ ৫ জনকে অব্যাহতি

২০
X