

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে একটি নাজুক অবস্থায় নিয়ে গেছে। পাসের হার বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় তারা শিক্ষার প্রকৃত মানকে উপেক্ষা করেছে। ফলে মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি এবং শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের পরিবর্তে কেবল সনদনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তার ঘটেছে।
শনিবার (২০ জুন) সকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে এইচএসসি ও ডিগ্রি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, পাসের হার বাড়ানোর জন্য আওয়ামী লীগের কাছে ফেল বলে কোনো শব্দ ছিল না। গড় হারে সবাইকে পাস করিয়ে দেওয়া হতো। এতে শিক্ষা ব্যবস্থার মান ধীরে ধীরে অবনতি হয়েছে। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল যে বিদেশে গেলে আমাদের শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট যথাযথ মূল্যায়ন পেত না, অনেক ক্ষেত্রে তা উপেক্ষিত হতো।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছর শিক্ষা ব্যবস্থায় বাস্তবতার প্রতিফলন দেখা গেছে। পাসের হার কিছুটা কমলেও শিক্ষার মান ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, শুধু সার্টিফিকেট অর্জন করে বড় চাকরি পাওয়া সম্ভব, কিন্তু প্রকৃত শিক্ষিত হওয়া যায় না। প্রকৃত শিক্ষা হলো সেই শিক্ষা, যা মানুষের কল্যাণে কাজে লাগে এবং সমাজকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নেয়। একজন শিক্ষিত মানুষ তার আচরণ ও কর্মের মাধ্যমে অন্যদের ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের মেয়েদের শুধু পরিবার পরিচালনা করলেই চলবে না, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের জন্যও নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। পুরুষশাসিত সামাজিক কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে নারীদের আগামী দিনের সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে নেতৃত্ব দিতে হবে।
নিপুণ রায় বলেন, নারী শক্তিই হবে কেরানীগঞ্জের সবচেয়ে বড় শক্তি। শিক্ষা, নেতৃত্ব ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নারীদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে কলেজটিকে সরকারি করার দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থী ও কলেজ কর্তৃপক্ষ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তারা বলেন, কলেজটি সরকারি হলে এলাকার শিক্ষার্থীরা আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা পাবে এবং উচ্চশিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিদায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোযাদ্দেদ আলী বাবু, থানা বিএনপির বিশেষ সদস্য নাজিম উদ্দিন মাস্টার, আগানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আরসাদ রহমান সপু, হাজী ইমান উল্লাহ মস্তান, সামী উল্লাহসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা।