

চট্টগ্রামে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। বর্ষা শুরু হতেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। চলতি জুন মাসের প্রথম দুই দিনেই নতুন করে ১৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বলছে, জুন মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ১২২ জন, যা চলতি বছরের আগের যেকোনো মাসের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, জানুয়ারিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ৬৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২ জন, মার্চে ২০ জন, এপ্রিলে ২৯ জন এবং মে মাসে ৩৭ জন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে নগর-জুড়ে এডিট মশার প্রজননস্থল বেড়েছে। এতে ডেঙ্গুসহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজনন-স্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই বলে মনে করছেন তারা।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের ১৩, ১৪ ও ১৬ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তের চাপ বাড়তে থাকায় ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৩০ শয্যার একটি ডেডিকেটেড ডেঙ্গু ইউনিট চালু করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের সেখানে স্থানান্তরের কাজ শুরু হয়েছে।
আগামীকাল (৪ জুলাই) শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হবে। উদ্বোধন করবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
চমেকের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এম. এ. সাত্তার কালবেলাকে বলেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় আলাদা ওয়ার্ড চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত ১৬ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডের একটি অংশে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে, যাতে বাড়ির আশপাশে কোথাও এডিট মশার প্রজনন না হয়।
চিকিৎসকরা জানান, তিনটি পৃথক ওয়ার্ডে রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এক ছাদের নিচে চিকিৎসাসেবা দেওয়া গেলে রোগী ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে। এছাড়া অধিকাংশ ডেঙ্গু রোগীর আইসিইউ প্রয়োজন হয় না। জটিল রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী আইসিইউতে নেওয়া হয়।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম কালবেলাকে বলেন, গত মাস থেকে ডেঙ্গুর সংক্রমণ কিছুটা বেড়েছে। আমরা নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নগরবাসীর অভিযোগ, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। নগরের বিভিন্ন এলাকায় সময়মতো ফগিং ও লার্ভিসাইডিং কার্যক্রম পরিচালিত না হওয়ায় মশার উপদ্রব বাড়ছে।
তবে অভিযোগ নাকচ করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম মাহি কালবেলাকে বলেন, নগরের সব ওয়ার্ডেই সারা বছর ফগিং ও লার্ভিসাইডিং কার্যক্রম চালানো হয়। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ফগিংয়ের মাধ্যমে মশা নিধনের সক্ষমতা সীমিত। স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে বিশ্বের অনেক দেশ এই পদ্ধতিকে নিরুৎসাহিত করছে। তবে লার্ভিসাইডিং কার্যক্রম তুলনামূলক বেশি কার্যকর।
চসিক সূত্র জানায়, সিভিল সার্জন কার্যালয়, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সমন্বয়ে নগরের আটটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার জন্য ৬০ সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছে। সদস্যদের ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই হটস্পট এলাকাগুলোয় সমন্বিত অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।