

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ, লোহাগাড়া সদর, বড়হাতিয়া, পদুয়া, আধুনগর ও চুনতি ইউনিয়নের প্রায় এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। বন্যাকবলিত এসব এলাকার বাসিন্দারা আশ্রয় নিয়েছে লোকালয়ের অপেক্ষাকৃত উঁচু বিল্ডিংগুলোতে।
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজানের পানিতে ডলু নদী ও টঙ্গাবতি খালের পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠে পড়েছে। এতে নদীর পাড় ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। গত ৮ জুলাই সন্ধ্যার পর থেকে পানি বাড়তে থাকে। গেল রাত বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার ফলে আজ বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। আজ সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে।
এর আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিম্নাঞ্চল ও পাহাড়ে বসবাসরত বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণের ফলে উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা থাকায় লোহাগাড়া উপজেলার পাহাড়, টিলা ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত সবাইকে পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়। উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিকভাবে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং এ লক্ষ্যে একটি মনিটরিং সেল চালু করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল হক কালবেলাকে জানান, বড়হাতিয়ার ১, ২, ৩ ও ৫নং ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। বন্যাদুর্গতরা স্থানীয় উঁচু বিল্ডিংগুলোয় আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বড়হাতিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়কে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হলেও সেখানে কেউ আশ্রয় নেয়নি। এখন পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ত্রাণ সহায়তা পায়নি বলে জানান তিনি।
আমিরাবাদ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, ইউনিয়নের ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬ ও ৭নং ওয়ার্ডের পুরোটা প্লাবিত হয় টঙ্গাবতি খালের পানিতে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এবং নিজ উদ্যোগে বন্যাদুর্গতদের উদ্ধারে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, এলাকার বিভিন্ন উঁচু দালান ঘরে আশ্রয় নেওয়াদের মাঝে নিজ উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ চলমান আছে।
পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও লোহাগাড়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাব্বির আহমদ জানান, পদুয়া ইউনিয়নের ১, ২, ৩ ও ৪নং ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকা পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে আধুনগর ইউনিয়নের ১, ৩ ও ৮নং ওয়ার্ডে ডলু নদীর পানি প্রবেশ করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে আছে হাজারেরও বেশি পরিবার। উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশকিছু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় এরই মধ্যে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বন্যাদুর্গতদের তথ্য সংগ্রহ করে তা বিতরণ করা হচ্ছে।
এর আগে (৮জুলাই) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহাজাহান চৌধুরী বন্যাদুর্গতের জন্য ত্রাণসামগ্রীর কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানান, ৭ জুলাই অতিবৃষ্টি ও পাহাড় ধসে যেসব জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে সব জেলায় ২০০ টন চাল ও ১০ লাখ টাকা ত্রাণ সহায়তা ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক বরাবর পৌঁছানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা হালকা, মাঝারি ও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে ২০২৩ সালের আগস্টে বয়ে যাওয়া ভয়াবহ বন্যার পুনরাবৃত্তি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য স্থানীয়দের দাবি পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আগেই যেন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া হয়। সে ব্যাপারে প্রশাসনের যথাযথ উদ্যোগ আশা করেন তারা।