

রাজধানীর নয়াপল্টনে একটি স্কুলে চার বছরের শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার স্কুলটির ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পবিত্র কুমার বড়ুয়া নয়াপল্টনের শারমিন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও স্কুলটির প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহানের স্বামী। এ মামলার আরেক আসামি শারমিন জাহান পলাতক আছেন।
গ্রেপ্তার শিক্ষক পবিত্র কুমার বড়ুয়ার কাছে নির্যাতনের কারণ জানতে চাইলেন আদালত। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন পবিত্র কুমার।
এদিন পবিত্র কুমারকে আদালতে হাজির করা হয়। তবে তদন্ত কর্মকর্তা নুর ইসলাম অসুস্থতার কারণে আদালতে হাজির হতে পারেননি। তারপক্ষে একই থানার এসআই সামীম হাসান আদালতে উপস্থিত হয়ে রিমান্ড আবেদনের বিষয়ে আদালতকে জানান, শিশুটি ১১ তারিখ থেকে স্কুল শুরু করে। সাত দিনের মাথায় ১৮ জানুয়ারি তার সাথে এমন ঘটনা ঘটে। তাকে মারধর করা হয়। স্ট্যাপলার মুখে ঢুকিয়ে দিতে দেখা যায়।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বলেন, আদালত তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জানতে চান, মহিলা কোথায়? তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, ‘তাকে পাওয়া যায়নি।’
এরপর শিশুটিকে নির্যাতনের বিষয়ের চিত্র তুলে ধরে তার রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন তদন্ত কর্মকর্তা। বাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট সালেহ উদ্দিন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনিই ভিডিওটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন বলে আদালতকে জানান। রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন ও কাইয়ুম হোসেন রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক পবিত্র কুমারের কাছে শিক্ষার্থী নির্যাতনের কারণ জানতে চান। তবে নির্যাতনের কথা অস্বীকার করে আদালতকে বলেন, ‘আমি ওরে মারিনি স্যার। তবে ও দুষ্টামি করছিল।’
এরপর বিচারক বলেন, ‘আপনি তো ওই স্কুলের অ্যাডমিন অফিসার, শিক্ষক না, শাসন করেন কীভাবে?’
তখন পবিত্র কুমার বলেন, ‘স্কুলে নার্সিং থেকে ক্লাস ফোর পর্যন্ত আছে। সবার কাছে জিজ্ঞাসা করেন, আমি কেমন?’
নির্যাতনের বিষয়ে বলেন, ‘ও ক্লাসে অন্য শিক্ষার্থীদের থু থু মারছিল। আমি বলেছিলাম, মেরো না। এরপর তো গার্ডিয়ান ডাকা হয়।’
পরে বিচারক বলেন, ‘আপনি স্ট্যাপলার দিয়ে মেরেছেন।’ আসামি অস্বীকার করে বলেন, ‘মারিনি।’
পবিত্র কুমারের বিরুদ্ধে স্কুলের পিসির পাসওয়ার্ড না দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে চুপ থাকেন তিনি। পরে আদালত তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
‘শারমিন একাডেমিতে’ ভর্তি হওয়ার মাত্র সাত দিনের মাথায় শিক্ষকের হাতে ৪ বছরের এক শিশু নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর শিশুটির মা পল্টন থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় স্কুলের পবিত্র বড়ুয়া ও তার স্ত্রী শারমিন জামানকে আসামি করা হয়। ঘটনা জানাজানি হলে স্কুল বন্ধ করে আসামিরা পালিয়ে যান।
শুক্রবার মিরপুরের এক আত্মীয়ের বাসা থেকে পবিত্র কুমারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। তবে রিমান্ড আবেদন করেও তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার এসআই মো. নুর ইসলাম আদালতে উপস্থিত না থাকায় রিমান্ড শুনানি হয়নি। শুনানি পিছিয়ে বৃহস্পতিবার রাখা হয়।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভির ভিডিওতে দেখা গেছে, এক নারী স্কুল ইউনিফর্ম পরা শিশুটিকে টেনেহিঁচড়ে একটি কক্ষে নিয়ে যান। কক্ষে ঢোকার মুহূর্তে শিশুটিকে চড়-থাপ্পড় দেওয়া হচ্ছিল। এরপর সেখানে বসে থাকা আরেকজনের কাছে অভিযোগের মতো কিছু বলছে বলে মনে হচ্ছে।
সোফায় বসিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত শিশুটিকে বারবার চড় মারছেন ও ধমক দিচ্ছিলেন ওই নারী। এক পর্যায়ে ওই পুরুষ ব্যক্তিটি একটি ‘স্ট্যাপলার’ হাতে শিশুটির কাছে এগিয়ে গিয়ে তার মুখে ‘স্ট্যাপল’ করে দেওয়ার ভান করে কয়েকবার চেপে ধরেন। ওই পুরুষ ব্যক্তিটি হাতের ইশারা দিয়ে শিশুটিকে বারবার থামতে বলছিলেন। একপর্যায়ে পুরুষ ব্যক্তিটি কক্ষের বাইরে যান, আবার ফিরে এসে শিশুটির গলায় ধরে সোফায় চেপে ধরতে দেখা যায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাটি ১৮ জানুয়ারি দুপুর ১টার দিকের। ৪ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি শেয়ার দিয়ে অনেকেই এই ঘটনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জড়িতদের শাস্তির পাশাপাশি স্কুলে পাঠানো শিশুদের অভিভাবকদের এ বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার কথা বলেছেন।
মন্তব্য করুন