

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জঙ্গিসংশ্লিষ্ট পোস্ট করে মালেশিয়ায় আটক মাসুদুর রহমানকে দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক মো. আমিনুল ইসলাম আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে আদালত দুই দিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে গতকাল সন্ধ্যায় মালয়েশিয়া পুলিশ তাকে বাংলাদেশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাকে বিমানবন্দরে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে আদালতে নিয়ে এসে রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
আদালতে রাষ্ট্র পক্ষের এপিপি মো. হারুন অর রশীদ আসামির রিমান্ড চেয়ে শুনানি করেন। তিনি আদালতে বলেন, আসামি মাসুদুর রহমান মালেশিয়ায় বসে জঙ্গিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পোস্ট দেওয়ার কারণে মালয়েশিয়া পুলিশ তাকে আটক করে বাংলাদেশে পাঠায়। এ-সংক্রান্ত মালয়েশিয়া পুলিশের কাছ থেকে বিস্তারিত সব কাগজ পেয়ে যাব। আপাতত পাঁচ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন। পরে রেগুলার মামলা করা যাবে। কারণ এর সাথে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির ব্যাপার জড়িত। মালয়েশিয়ায় অনেক জনশক্তির শ্রম জড়িত। সুতরাং এ আসামিকে সেই বিবেচনায় রিমান্ড মঞ্জুর করা হোক।
আদালতে তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের যুক্তি তুলে ধরে বলেন, আসামি মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে আল কায়েদা, হামাস ও তালেবানদের বিভিন্ন ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করে। এজন্য তাকে জঙ্গি সন্দেহে মালয়েশিয়া পুলিশ আটক করে। পরে গতকাল তাকে বাংলাদেশের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মালেশিয়ায় আমাদের অনেক প্রবাসী কাজ করেন। সেখানে এসব জঙ্গি সম্পৃক্ততার কারণে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এজন্য তাকে রিমান্ডে নিয়ে এর সাথে জড়িত কি না, কোন ডিভাইস ব্যবহার করে পোস্ট দিয়েছে এবং এর সাথে কোন অর্থদাতা আছে কি না তা জানতে পাঁচ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
পরে আদালত আসামিকে জঙ্গি সম্পৃক্ততার ব্যাপারে পোস্ট দেওয়ার কথা জানতে চাইলে তিনি তা স্বীকার করেন। আদালতে আসামি বলেন, সে মালয়েশিয়ায় একটি কালার প্রিন্ট ব্যান্ড কোম্পানিতে কাজ করে। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ভালো লাগতো বলে এসব পোস্ট দিতো। পরে আদালত জিজ্ঞেস করেন, এসব পোস্টই কেন ভালো লাগে? এগুলো তো দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। জবাবে এ আসামি বলেন, এমন হবে জানলে পোস্ট করতো না।
রিমান্ড আবেদন অনুযায়ী আসামি মাসুদুর রহমান মালয়েশিয়া অবস্থানকালে হামাস, তালেবান ও আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট পোস্ট দিয়ে মালেশিয়া পুলিশের কাছে আটক হন। জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পরে তার কাছে এসব সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। আসামির সাথে দেশি, আন্তর্জাতিক কোনো জঙ্গি সম্পৃক্ততা, কোনো ডিভাইস দিয়ে জঙ্গি কর্মকাণ্ড করা এবং কোনো অর্থদাতা আছে কি না তা জানতে তাকে রিমান্ডে পাঠানো প্রয়োজন।