

পেট্টোল বোমা হামলা হয়েছে দৈনিক মানবকণ্ঠের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক দুলাল আহমদ চৌধুরী বাসায়। আজ সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ২টি মোটরসাইকেল যোগে ৪/৫ যুবক এসে তার ১১/এ সেন্টাল রোডের বাসায় প্রবেশের চেষ্ঠা করে। বাড়ির মুল গেইট বন্ধ থাকায় এবং নিরাপত্তাকর্মি গেইট খুলে না দেয়ায় হামলাকারীরা ভেতরে ঢুকতে পারেনি। এক পর্যায়ে তারা গেইটের বাহির থেকে দুলাল আহমদ চৌধুরীর ফ্ল্যাট লক্ষ্য করে পেট্টোল বোমা নিক্ষেপ করে। খবর পেয়ে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
বাড়ির নিরাপত্তাকর্মি মো. আলতাফ হোসেন জানান, ২টি মোটরসাইকেল যোগে ৫/৬ যুবক এসে বাড়ীর ভেতরে ঢুকতে চায়। তিনি তাদের পরিচয় এবং কার বাসায় যাবে জানতে চান। যুবকরা জানায়, তারা সাংবাদিক, দুলাল আহমদ চৌধুরীর অফিস থেকে এসেছে। উনার সঙ্গে তাদের জরুরী বৈঠক আছে। নিরাপত্তাকর্মি ইন্টারকর্মে দুলাল আহমদ চৌধুরীর বাসায় যোগাযোগের চেষ্ঠা করলে যুবকরা বাধা দেয় এবং গেইট খুলে দিতে চাপ সৃষ্টি করে। অনুমতি ছাড়া আলতাফ হোসেন গেইট খুলতে অপারগতা জানালে যুবকরা উত্তেজিত হয়ে গালিগালাজ ও গেইটে লাথি মারতে থাকে। মুহূর্তে মধ্যে তারা গেইটের বাহির থেকে চারতলায় দুলাল আহমদ চৌধুরীর ফ্ল্যাট লক্ষ্য করে একটি পেট্টোল বোমা ছুড়ে মারে। বোমা বাসার দেয়ালে আঘাত করে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের পর নিচে পেট্টোলের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এসময় পুরো সেন্টাল রোডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বোমা নিক্ষেপ করে যুবকরা মোটরসাইকেলযোগে দ্রুত চলে যায়।
খবর পেয়ে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল গনি সাবু একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোবাইল ফোনে কালবেলা প্রতিবেদককে জানান, তিনি ঘটনাস্থলে রয়েছেন। বোমা বাসার ভেতরে না পড়ায় বড় ধরণের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তিনি বলেন, বোমা নিক্ষেপ করেই হামলাকারীরা পালিয়ে গেছে।
দুলাল আহমদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘ঘটনার সময় আমি বাসার ভেতরে ছিলাম। বাসার দেয়ালে বিস্ফোরণের আওয়াজে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। লোকজনের চিৎকার শুনে বাসার বেলকনিতে বের হলে লোকজন আমাকে বাসার ভেতরে অবস্থানের অনুরোধ করেন, আমি যেন বাহিরে বের না হই। আমি তাৎক্ষণকি নিউমার্কেট থানার ওসিকে ফোন করে বোমা হামলার কথা জানিয়েছি। কিছুক্ষণ আগে পুলিশ এসেছে।
হামলার কারণ কিংবা কারা বোমা হামলা করেছে সে সম্পর্কে দুলাল আহমদ চৌধুরী তাৎক্ষণিক কিছু বলতে পারেননি। তবে তিনি বলেন, পত্রিকায় প্রকাশিত একাধিক রিপোর্টের কারণে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি একের পর এক আমার উপর মামলা ও হামলাসহ নানাভাবে হয়রাণী করছে। একের পর এক ফোনে হুমকি দিচ্ছে। গত মার্চ মাসে কুড়িলে তার গাড়ীতে হামলার ঘটনায় পুলিশ কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এসব ঘটনায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কিছু ব্যক্তির যোগসাজোস রয়েছে।