

দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকে ভূষিত কিংবদন্তি বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলা ব্যান্ড সংগীতের পথিকৃৎ, ব্যান্ড সংগীত আন্দোলনের অন্যতম প্রধান পুরোধা এবং রক অ্যান্ড পপ গুরু আজম খানের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে যে কয়েকজন শিল্পীর নাম চিরকাল শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং গৌরবের সঙ্গে উচ্চারিত হবে, তাদের মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছেন রক অ্যান্ড পপ গুরু আজম খান।
তিনি শুধু একজন শিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রতীক, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের তরুণ সমাজের কণ্ঠস্বর এবং বাংলা ব্যান্ড সংগীতের অন্যতম প্রধান স্থপতিও। ১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আজিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন আজম খান। আজম খান নিজে পুরস্কার ও সম্মাননার চেয়ে মানুষের ভালোবাসাকেই বেশি মূল্য দিতেন। তিনি প্রায়ই বলতেন, আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার আমার গানের প্রতি মানুষের ভালোবাসা।
এদিকে পপ গুরু আজম খানের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার স্মরণে চ্যানেল আইতে থাকছে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান। এর নাম ‘ট্রিবিউট টু গুরু আজম খান’। এতে অংশ নেবেন আজম খানের প্রতিষ্ঠিত কিংবদন্তি ব্যান্ড উচ্চারণ-এর পুনর্গঠিত বর্তমান লাইন-আপ। অনুষ্ঠানে আরও পরিবেশিত হবে আজম খানের কালজয়ী বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গান। পাশাপাশি ব্যান্ড সদস্যরা শোনাবেন উচ্চারণের দীর্ঘ পথচলার গল্প, বিভিন্ন গানের পেছনের স্মৃতি এবং আজম খানের সঙ্গে কাটানো সময়ের অভিজ্ঞতা।
বর্তমানে ব্যান্ডটির সদস্যরা হলেন— দুলাল জোহা (ভোকাল ও রিদম গিটার), পেয়ারু খান (ভোকাল ও পারকাশন), সেকান্দার আহমেদ খোকা (বেজ গিটার), পার্থ মজুমদার (লিড গিটার), প্রেম (সাইড ভোকাল ও কিবোর্ড) এবং বাপ্পি (ড্রামস)। অপু মাহফুজের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেছেন ইফতেখার মুনিম।
অনুষ্ঠানটি আগামীকাল (৬ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চ্যানেল আইয়ে প্রচার হবে। এছাড়াও আগামীকাল শনিবার দুপুর সাড়ে বারোটায় চ্যানেল আইয়ের নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘তারকাকথন’-এ আজম খানকে নিয়ে থাকছে বিশেষ পর্ব। যেখানে উপস্থিত থাকবেন আজম খানের ছোট মেয়ে অরণী খান, উচ্চারণ ব্যান্ডের প্রাক্তন সদস্য ও ফিডব্যাকের ফুয়াদ নাসের বাবু এবং উচ্চারণ ব্যান্ডের লীড গিটারিস্ট ও সঙ্গীত পরিচালক পার্থ মজুমদার। ইফতেখার মুনিমের প্রযোজনায় এই বিশেষ পর্ব উপস্থাপনা করেছেন ইফফাত আরা ইরা।
আজম খানের পরিবারের প্রত্যক্ষ সমর্থনে তার সৃজনকর্মের কপিরাইট ও রয়্যালটি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘কুল এক্সপ্রোজার’-এর উদ্যোগে এবং চ্যানেল আই ও ইমপ্রেস টেলিফিল্মের সহযোগিতায় নির্মিত এই বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে স্মরণ করা হবে বাংলা ব্যান্ড সংগীতের এই পথিকৃৎকে। যিনি স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে বাংলা ব্যান্ড সংগীতকে জনপ্রিয় ও প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর ২০১১ সালের ০৫ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু তার মৃত্যু কেবল শারীরিক প্রস্থান। তার গান, দর্শন, সংগ্রাম এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলন আজও বেঁচে আছে লাখো মানুষের হৃদয়ে।