

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরকে হারানোর ছয় বছর পূর্ণ হলো আজ (৬ জুলাই)। ২০২০ সালের এই দিনে ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান বাংলা গানের এই উজ্জ্বল নক্ষত্র। সময়ের ব্যবধানে তার শারীরিক উপস্থিতি ফুরিয়ে গেলেও, কোটি শ্রোতার হৃদয়ে তিনি আজও বেঁচে আছেন তার অমর সব গানের মধ্য দিয়ে।
বাংলা চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক গানের ইতিহাসে এন্ড্রু কিশোর এক অনন্য নাম। চার দশকেরও বেশি সময়ের সংগীতজীবনে তিনি প্রায় ১৫ হাজারের বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। আবেগ, দরদ আর অনবদ্য গায়কীর জন্য তিনি পেয়েছিলেন ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ উপাধি।
১৯৭৭ সালে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে তার যাত্রা শুরু হয়। তবে ১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রতিজ্ঞা’ সিনেমার ‘এক চোর যায় চলে’ গানটি তাকে এনে দেয় ব্যাপক জনপ্রিয়তা। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক দর্শকপ্রিয় গান গেয়ে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য কণ্ঠশিল্পীদের একজন।
‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুশ’, ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’সহ অসংখ্য কালজয়ী গান আজও সমান আবেগে শোনেন সংগীতপ্রেমীরা। নতুন প্রজন্মের কাছেও তার গান সমান জনপ্রিয়।
সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া পেয়েছেন একাধিক বাচসাস পুরস্কার। তার অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করে।
১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন এন্ড্রু কিশোর। সংগীতপ্রেমী মায়ের উৎসাহে তার সংগীতচর্চার শুরু। রাজশাহী বেতারের শিল্পী হিসেবে নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, লোকগান ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করে তিনি নিজের সংগীতভিত্তি গড়ে তোলেন। পরে চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক গানে সৃষ্টি করেন এক স্বর্ণালি অধ্যায়।
এবারের মৃত্যুবার্ষিকীতে বড় পরিসরের কোনো জাতীয় কর্মসূচির খবর না মিললেও রাজশাহীতে জেলা প্রেস ক্লাব ও আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্ত, সহশিল্পী ও শুভানুধ্যায়ীরা নানা স্মৃতিচারণ ও শ্রদ্ধাবার্তায় স্মরণ করছেন প্রিয় শিল্পীকে।
এন্ড্রু কিশোর নেই, কিন্তু তার কণ্ঠে গাওয়া অসংখ্য গান আজও বাঙালির সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ আর জীবনের নানা অনুভূতির সঙ্গী। তাই বলা যায়, তিনি চলে গেলেও তার গান কখনো হারিয়ে যাবে না।