

ভারতীয় বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকালপ্রয়াণের দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও হয়নি মৃত্যুরহস্য উদঘাটন। দফায় দফায় বৈঠক আর দীর্ঘ আলোচনার পরও রয়ে গেছে একরাশ অমীমাংসিত প্রশ্ন। তদন্তের চাকা যখন বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপে কার্যত স্তব্ধ, তখনই রাজ্যে ঘটে গেছে বড়সড় রাজনৈতিক পালাবদল। ক্ষমতার এই পটপরিবর্তন কি তবে রাহুলের মৃত্যু-রহস্যের জট খুলবে, নাকি সত্য ধামাচাপা পড়বে রাজনীতির গোলকধাঁধায়? ঠিক এই পরিস্থিতিতে এসব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে সরব হয়েছেন বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়ক অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ।
ভারতীয় গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে রুদ্রনীল বলেন, রাহুলের সঙ্গে পরিচয় ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’এর অনেক আগে থেকে। বেশ কিছু মানুষের গাফিলতি ও লোভের জন্য রাহুলকে চলে যেতে হয়েছে। যাদের উদাসীনতায় ওর এই মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছিল। আমি তো এটাকে ‘অনিচ্ছাকৃত খুন’ বলব। সে ক্ষেত্রে একটা বিষয় পরিষ্কার বলতে পারি, তদন্ত যাতে সুষ্ঠু ভাবে হয়, সেটা অবশ্যই দেখা হবে। কারণ, রাহুলের মা আমার মায়ের মতোই। অভাবের সময়ে তাঁর হাতের রান্না আমি খেয়েছি।’
এদিকে রাহুলের সঙ্গে রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হলেও মানুষ হিসেবে তিনি অন্যের মতামতকে সম্মান করতে জানতেন বলেই জানান রুদ্রনীল। তাই সঠিক তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী দোষীদের শাস্তি না পাওয়া পর্যন্ত হাল ছাড়বেন না বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
রুদ্রনীল বলেন, ‘কেউ যাতে কোনও সম্পর্ক বানিয়ে ছাড় না পায়, সেটা অবশ্যই দেখা হবে। তৃণমূলী শাসনের সবচেয়ে বড় দিক ছিল সম্পর্ক বানাও, অন্যায় করো, আর বেঁচে যাও। নিরপরাধ কেউ শাস্তি পাক যেমন চাই না, তেমনই আবার যাদের জন্য এমন ঘটনা ঘটেছে, তারা কলার তুলে ঘুরে বেড়াক, এটাও চাই না।’
উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ তালসারিতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় । পরে সন্ধ্যায় তার মৃত্যুর খবর আসে।
এদিকে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় 'চিরদিনই তুমি যে আমার' ছবির হাত ধরে খ্যাতি পান। পরে সেই ছবির নায়িকা প্রিয়াঙ্কা সরকারকে মন দেন। পরবর্তীতে তার সঙ্গেই গাঁটছড়া বাঁধেন। যদিও মাঝে তাদের বিচ্ছেদের খবর রটে। কিন্তু ছেলে সহজের কথা ভেবে ফের একসঙ্গে থাকা শুরু করেন রাহুল, প্রিয়াঙ্কা। রাহুল অভিনয় ছাড়া সহজ কথা নামক একটি পডকাস্ট শো সঞ্চালনা করতেন। সেটিও তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিল।