

২০২৫ সালে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গণমাধ্যমের কাভারেজ ১৪ শতাংশ কমেছে বলে নতুন এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। যদিও ২০২৫ সাল ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে তৃতীয় উষ্ণতম বছর, তবুও সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে খবর কম প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ অবজারভেটরির (মেকো) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে জলবায়ুজনিত একাধিক ভয়াবহ দুর্যোগ ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ভয়াবহ দাবানলে পুরো এলাকাগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহে ২৪ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শক্তিশালী ঝড়ের কারণে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। বিজ্ঞানীরা এসব ঘটনার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য সম্পর্ক তুলে ধরলেও সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে কভারেজ কমে গেছে।
মেকো প্রকল্পের নেতৃত্বে থাকা পরিবেশবিদ অধ্যাপক ম্যাক্স বয়কফ বলেন, গত তিন দশকে জলবায়ু পরিবর্তন বিজ্ঞান, নীতি, সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। তার নেতৃত্বে এই গবেষণা দল যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে জলবায়ু বিষয়ক সংবাদ কাভারেজের ধরণ পর্যবেক্ষণ করছে।
মিডিয়া অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ অবজারভেটরি একটি যৌথ প্রকল্প, যা ৫৯টি দেশের ১৪টি ভাষায় প্রকাশিত ১৩১টি সংবাদপত্র, রেডিও ও টেলিভিশনের জলবায়ুসংক্রান্ত সংবাদ বিশ্লেষণ করে। গবেষক, নীতিনির্ধারক ও গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত এ ডাটাবেস বিশ্বে এ ধরনের একমাত্র উদ্যোগ বলে দাবি করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ, সংবাদকক্ষের কর্মী সংকোচন এবং সংবাদ প্রকাশের সীমিত জায়গা- এসব কারণে ২০২৫ সালে জলবায়ুসংক্রান্ত সংবাদ কমেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিক অঙ্গনে অন্যান্য ইস্যুর আধিক্যও এ প্রবণতার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। অনেক সাংবাদিক মনে করেন, পাঠকরা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বারবার সংবাদ পড়তে আগ্রহ পান না।
গবেষকরা সতর্ক করেছেন, গণমাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের খবর কমে গেলে সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও বোঝাপড়া কমে যেতে পারে। কারণ বেশিরভাগ মানুষ বৈজ্ঞানিক গবেষণা পড়ার বদলে টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে এসব বিষয়ে ধারণা পায়। ফলে মিডিয়া কাভারেজ কমে গেলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিজ্ঞানীরা নতুন ও সৃজনশীল উপায়ে মানুষের কাছে জলবায়ু বার্তা পৌঁছে দিতে পারেন। ভিডিও, নাটক, নৃত্য, লেখা বা হাস্যরসের মাধ্যমে জটিল বৈজ্ঞানিক বিষয় সহজভাবে তুলে ধরলে মানুষের আগ্রহ ও সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে এসব উদ্যোগ তরুণদের টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে আশাবাদী হতে সাহায্য করতে পারে।