মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম
আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

প্রিয় দল হারলে মন ভালো করার ৭ উপায়

এআই দিয়ে তৈরি ছবি | কালবেলা
এআই দিয়ে তৈরি ছবি | কালবেলা

খেলার মাঠের টানটান উত্তেজনা কেবল খেলোয়াড়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তা গ্যালারি ছাড়িয়ে কোটি ভক্তের বসার ঘর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। প্রিয় দলটি যখন মাঠে নামে, ভক্তদের হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়; প্রতিটি ভালো মুভমেন্টে যেমন আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়, তেমনি একটি ভুল চালে মুহূর্তে তৈরি হয় রাগ বা হতাশা।

গবেষণায় দেখা গেছে, একনিষ্ঠ ভক্তরা দলের পারফরম্যান্সকে নিজেদের ব্যক্তিগত সাফল্যের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। প্রিয় দলের জয়কে তারা যেমন ‘আমাদের জয়’ বলে গর্ব করেন, তেমনি পরাজয়কে ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখে বিষণ্ণতায় ডুবে যান। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘স্পোর্টস ফ্যান ব্লুজ’ বলা হয়, যা মানুষের আত্মসম্মানবোধ কমিয়ে দিতে পারে এবং মনে এক ধরনের হীনম্মন্যতা তৈরি করতে পারে।

তবে মনে রাখা জরুরি, খেলার জয়-পরাজয় পুরোপুরি আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরের একটি বিষয় এবং আপনি কোনোভাবেই এর ফলাফলের জন্য দায়ী নন। পরাজয়ের এই মানসিক ধাক্কা সামলে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য বিশেষজ্ঞরা কিছু কার্যকর কৌশলের কথা বলেছেন।

আপনার প্রিয় দল হারলে মন ভালো করার সেরা ৫টি উপায় নিচে তুলে ধরা হলো:

১. ক্ষোভ প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করুন

হারের পর দীর্ঘ সময় ধরে সেই দুঃখ নিয়ে পড়ে থাকা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, হারের পর আপনার আবেগ বা ক্ষোভ প্রকাশের জন্য সর্বোচ্চ ৪৫ থেকে ৬০ মিনিট সময় দিন। এই সময়ের মধ্যে অন্য ভক্তদের সঙ্গে কথা বলে বা আলোচনা করে মনের ভার হালকা করে নিন। তবে এই সময়ের পর অবশ্যই অন্য কোনো কাজ বা অন্য প্রসঙ্গে চলে যেতে হবে। দীর্ঘক্ষণ একা একা হারের কারণ নিয়ে পড়ে থাকলে আপনার খারাপ লাগা আরও বাড়তে পারে।

২. সোশ্যাল মিডিয়া ও পোস্ট-গেম বিশ্লেষণ থেকে দূরে থাকুন

খেলার পরপরই ফেসবুক বা এক্স (সাবেক টুইটার)-এর মতো সোশ্যাল মিডিয়া এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। সেখানে বিপক্ষ দলের ভক্তদের ট্রল বা নেতিবাচক মন্তব্য আপনার মেজাজ আরও বিগড়ে দিতে পারে। পাশাপাশি টিভি বা রেডিওর দীর্ঘ ‘পোস্ট-গেম বিশ্লেষণ’ শোনা বন্ধ করুন। বারবার পরাজয়ের দৃশ্য বা হারের কারণগুলো নিয়ে আলোচনা আপনার মস্তিষ্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

৩. শরীরচর্চা বা ঘাম ঝরানো

মানসিক চাপ কমাতে ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। হারের ফলে শরীরে যে ‘কর্টিসল’ বা স্ট্রেস হরমোন তৈরি হয়, তা কমাতে ১০ থেকে ৩০ মিনিটের ব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকর। আপনি দ্রুত হাঁটতে পারেন, সাইকেল চালাতে পারেন বা একটু দৌড়ে আসতে পারেন। এতে শরীরে ‘ডোপামিন’ বা ফিল-গুড হরমোনের মাত্রা বাড়ে, যা আপনার তাৎক্ষণিক মন খারাপ দূর করে শরীরের শক্তি ও মেজাজ চনমনে করতে সাহায্য করবে।

৪. মানসিক প্রশান্তি দেয় এমন সৃজনশীল কাজে যুক্ত হোন

খেলার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে নিজেকে সৃজনশীল কোনো কাজে ব্যস্ত রাখুন। গান শোনা, পছন্দের কোনো পডকাস্ট শোনা, ডায়েরি লেখা কিংবা ছবি আঁকার মতো কাজগুলো আপনার মনকে শান্ত করবে। এছাড়া শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা ধ্যান করলে স্নায়বিক চাপ কমে এবং মনে প্রশান্তি আসে, যা পরাজয়ের গ্লানি ভুলে যেতে সাহায্য করে।

৫. বহুমুখী শখ গড়ে তুলুন

আপনার জীবনের একমাত্র আনন্দ বা পরিচয়ের উৎস যদি কেবল প্রিয় দলের জয়ের ওপর নির্ভর করে, তবে পরাজয় আপনাকে অনেক বেশি বিপর্যস্ত করবে। নিজের পরিচয়কে কেবল একজন ‘ফ্যান’ হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে বহুমুখী শখ গড়ে তুলুন। সৃজনশীল কাজ (রান্না বা সেলাই), বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ (বই পড়া বা দাবা খেলা) কিংবা নতুন কোনো ভাষা শেখার মতো শখগুলো আপনাকে একটি বহুমুখী ব্যক্তিত্ব দেবে। এতে দলের হারের প্রভাব আপনার ওপর তুলনামূলক কম পড়বে।

৬. মনে রাখুন, ফলাফল আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই

প্রিয় দল হারলে নিজেকে কোনোভাবেই দোষী ভাববেন না। মনে রাখবেন, আপনি খেলাটি খেলছিলেন না এবং মাঠের ফলাফলে আপনার কোনো প্রত্যক্ষ ভূমিকা নেই। খেলাটি কেবল একটি বিনোদন এবং এর জয়-পরাজয় আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। দলের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশ হতে পারেন, কিন্তু নিজের ওপর থেকে বিশ্বাস হারাবেন না।

৭. বিষণ্ণতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন

দলের হারের পর কয়েক দিন মন খারাপ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু এই অনুভূতি যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় এবং আপনার দৈনন্দিন কাজকর্মে (যেমন ঘুম বা খাওয়া) প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তবে বিষয়টিকে অবহেলা করবেন না। এটি গভীরতর কোনো মানসিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে, তাই দেরি না করে একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সতর্কবার্তা

পরাজয়ের পর কয়েক দিন মন খারাপ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু এই বিষণ্ণতা যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় এবং আপনার দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে, তবে দেরি না করে একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রীর ‘প্রেস কর্মকর্তা’ হলেন মাহফুজ কবির মুক্তা

ভেঙে গেল রোনালদোর বিশ্বকাপ স্বপ্ন

বিশ্বকাপ শেষ রোনালদোর, পর্তুগালকে কাঁদিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন

চোট নিয়ে মাঠ ছাড়লেন নুনো মেন্দেস

কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে আর্জেন্টিনার নতুন কৌশল

বিশ্বকাপে লাল কার্ডের আন-লাকি থার্টিন

সিডনিতে বাংলা হান্ড্রেড লিগে চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা

প্রথমার্ধে রোমাঞ্চকর লড়াই, গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে স্পেন-পর্তুগাল

উদযাপন করতে গিয়ে কবজি ভেঙে বিশ্বকাপ শেষ হেন্ডারসনের

মহরণে স্পেন-পর্তুগাল, শুরুর একাদশে রয়েছেন যারা

১০

পদযাত্রায় হামলার জন্য সাভারের এমপিকে সন্দেহ নাহিদের

১১

ডিজি ছাড়া ইসিতে এনআইডি সেবা বন্ধ, সেবা মিলবে মাঠে

১২

এনসিপির সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণ, ‘প্রশাসনের সহায়তায় হয়েছে’ দাবি নাহিদের

১৩

সরকার জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে: নাহিদ ইসলাম

১৪

পিপলস্ ইন্স্যুরেন্স পিএলসিতে থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

১৫

এক উপদেষ্টাসহ আওয়ামী লীগের ৪ নেতার পদত্যাগ

১৬

শুধু ব্রাজিল নয়, ভারতকেও দুঃস্বপ্ন দেখিয়েছিলেন হালান্ড

১৭

দাবি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার / আমি কখনো কাউকে স্যার সম্বোধন করতে বলিনি

১৮

সাভারে এনসিপির সমাবেশস্থলে ককটেল বিস্ফোরণ, আহতদের পরিচয় প্রকাশ

১৯

রিহ্যাব সদস্যের সংবেদনশীল অঙ্গে আঘাত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

২০
X