

বাসে উঠলেই বুক ধড়ফড়, গা গুলিয়ে ওঠা, মাথা ঝিমঝিম আর মনে মনে একটাই ভয়, এবার বুঝি বমি চলে আসবে! এমন অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই পরিচিত। কেউ কেউ তো এই ভয়ের কারণে বাসে চড়া এড়িয়ে চলেন, আবার দীর্ঘ ভ্রমণ মানেই আগেভাগে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। অনেকে আবার বিষয়টি নিয়ে লজ্জাও পান—ভাবেন, ‘এত বড় মানুষ হয়ে বাসে বমি!’
কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই সমস্যায় ভোগেন অসংখ্য মানুষ। শুধু বমি নয়, এর সঙ্গে যোগ হয় গা গোলানো, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা—সব মিলিয়ে যাত্রাটাই হয়ে ওঠে অসহনীয়। বাস, গাড়ি কিংবা অন্য যেকোনো যানবাহনে উঠলেই কারও কারও মোশন সিকনেস জাঁকিয়ে বসে।
আপনারও কি এমনটা হয়? লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। এই সমস্যা সত্যিই কষ্টের। তবে ভালো খবর হলো, কিছু সহজ অভ্যাস ও টিপস মেনে চললে এর থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
মোশন সিকনেস কেন হয়?
মোশন সিকনেস মূলত শরীরের গতি-সংবেদনকারী অংশগুলোর সঙ্গে মস্তিষ্কের যোগাযোগে গড়মিলের কারণে হয়ে থাকে। শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে মস্তিষ্কে যখন গতি সংক্রান্ত তথ্য যায়, তখন মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। ফলে স্থির না গতিশীল—এই পরিস্থিতি ঠিকভাবে ব্রেন প্রসেস করতে পারে না। এরই প্রতিক্রিয়ায় বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা এবং শেষ পর্যন্ত বমি হয়ে যায়।
উপায় কী?
পুষ্টিবিদ পূজা মাখিজা তার ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে মোশন সিকনেস থেকে মুক্তির কিছু কার্যকর টিপস শেয়ার করেছেন। সেগুলোই তুলে ধরা হলো—
মোশন সিকনেস থেকে মুক্তির উপায়
পেট ভরে খাওয়া এড়িয়ে চলুন
অতিরিক্ত ভর্তি পেট এবং মশলাদার খাবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। এর ফলে বমি বমি ভাব আরও বেড়ে যায়। তাই গাড়ি বা বাসে ওঠার আগে হালকা খাবার খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।
মুখশুদ্ধি, পেপারমিন্ট ব্যবহার করুন
মুখশুদ্ধি, পেপারমিন্ট বা আদা বমি বমি ভাব কমাতে এবং বমির প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
চুইয়িং গাম চিবান
অনেকের ক্ষেত্রে চুইয়িং গাম চিবালে বমি ভাব কমে আসে। যাত্রাপথে এটি কাজে লাগতে পারে।
লিকোরিস রুট (মুলেথি)
যাত্রার আগে এক গ্লাস জলে ৭৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট হিসেবে লিকোরিস রুট বা মুলেথি নেওয়া যেতে পারে। যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য ভ্রমণের প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে নিরাময়ের জন্য ১০০ মিলিগ্রাম লিকোরিস রুট খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে মনে রাখতে হবে, যে কোনো ধরনের ওষুধ বা ভেষজ উপাদান নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সব শেষে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা
মোশন সিকনেসের একটি মানসিক দিকও রয়েছে। বাস বা গাড়িতে উঠেই ‘এবার বমি হবে’—এই আশঙ্কা মনে পুষে রাখলে সমস্যাটি আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই মন হালকা রাখার চেষ্টা করুন। নিজেকে ব্যস্ত রাখুন, গান শুনুন কিংবা জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকুন। যতটা সম্ভব এ বিষয়ে না ভাবাই সবচেয়ে ভালো।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
মন্তব্য করুন