কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
মায়ের পচন ধরা লাশ

সেই যুগ্ম সচিব আনিসুরকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার

মারা যাওয়া বৃদ্ধার নোংরা কক্ষ (বাঁয়ে) ও যুগ্মসচিব ছেলে এ কে এম আনিসুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত
মারা যাওয়া বৃদ্ধার নোংরা কক্ষ (বাঁয়ে) ও যুগ্মসচিব ছেলে এ কে এম আনিসুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরে ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মৃত্যুকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যেই তার ছেলে যুগ্ম সচিব ড. এ কে এম আনিসুর রহমানকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রত্যাহার হওয়া আনিসুর রহমান মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, তাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নির্ধারিত কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, মরদেহটি দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় পচন ধরে এবং তাতে পোকার উপস্থিতি দেখা যায়। নূর জাহান বেগম তার মেয়ের সঙ্গে ওই বাসায় বসবাস করতেন। বাসাটির পরিবেশ ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নজরে আসে এবং পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নূর জাহান বেগমের কক্ষসহ পুরো ফ্ল্যাটের পরিবেশ ছিল অস্বাস্থ্যকর ও অবহেলিত।

মরদেহ উদ্ধারের সময়কার দৃশ্যও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। প্রতিবেশীরা বলছেন, একজন বৃদ্ধ নারী এমন অবস্থায় জীবন কাটিয়ে মৃত্যুবরণ করবেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

জানা যায়, নূর জাহান বেগমের এক ছেলে যুগ্ম সচিব, আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং মেয়ে স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন।

সন্তানরা প্রতিষ্ঠিত অবস্থানে থাকলেও মায়ের এমন পরিণতি সমাজে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর আবারও আলোচনায় এসেছে ২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন।

আইনে প্রত্যেক সন্তানের ওপর পিতা-মাতার ভরণপোষণ, স্বাস্থ্যসেবা, নিয়মিত খোঁজখবর ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার দায়িত্ব আরোপ করা হয়েছে। কোনো পিতা-মাতার একাধিক সন্তান থাকলে তারা পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে এসব দায়িত্ব পালন করবেন বলে আইনে উল্লেখ রয়েছে।

কালবেলা/এএসএম
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হঠাৎ বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ি নৌপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিকোটিন পাউচ বাজারজাতকরণে মরিয়া কোম্পানি, নিষিদ্ধের দাবি প্রজ্ঞা-আত্মার

সরে দাঁড়ানোর সময় নিয়েও ভাবতে হবে: এমি মার্তিনেজ

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত হাজারো সেন্ট্রিফিউজ পর্বতের ভূগর্ভে সরিয়ে নিয়েছে ইরান

জাবিতে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

সব মামলায় জামিন পেলেন তৌহিদ আফ্রিদি

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের পর বাড়ল রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম

একদিনেই ইন্টারভিউ ও চাকরি, ১৮ আগস্ট ‘নেক্সটজবজ ক্যারিয়ার সামিট ও জব ফেস্ট’

পুকুরে নেমে প্রাণ গেল ভাইবোনসহ ৩ শিশুর

১০

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার আশায় বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

১১

তনু হত্যা মামলায় আরও ২ সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ

১২

গাজীপুরে গারদখানা থেকে পালানো আসামি ময়মনসিংহে গ্রেপ্তার

১৩

নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট ওর্তেগা / দুই দশক ক্ষমতায় থাকায় পর ঘোষণা দিলেন ‘আর কোনো নির্বাচন হবে না’

১৪

জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী মোজাফফরের আশ্রয়দাতা নিয়ে রিজভীর প্রশ্ন 

১৫

ষড়যন্ত্রে হতাশ নয় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: রিজভী

১৬

বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে সংঘর্ষ, আহত মা-মেয়ে

১৭

এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও চেনার ৩ উপায়

১৮

৮ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক রাজশাহীর রেল যোগাযোগ

১৯

আরব আমিরাতের উপকূলে জাহাজে হামলা

২০
X