

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ব্যবসায়ীদের হয়রানি নিয়ে বুধবার (০৩ জুন) দৈনিক কালবেলা পত্রিকায় ‘কাস্টম হাউস নয়, যেন হয়রানির আতুড়ঘর’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর পরই কাস্টম হাউসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিচার্স (এআইআর) শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান খান এবং সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বদরুল আরেফিন ভূঁইয়া আমদানিকারকের মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ মো. ইকরামুলকে ডেকে প্রথমে ভিডিও ধারণ করেন। একইসঙ্গে মৌখিকভাবে হুমকিও দেন।
বিষয়টি জানাজানি হলে সন্ধ্যায় আবারও ডেকে সিএন্ডএফকে শাসিয়ে দেন এই দুই কাস্টম কর্মকর্তা। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনা থাকার পরও বিষয়টি পাশ কাটিয়ে ঢাকার এক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের স্টিল স্ট্রাকচারকে ফার্নিচারের কোডে শুল্কায়ন হবে বলে মিথ্যা ঘোষণায় সুপারিশ করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর টিম।
যার দায়িত্বে ছিলেন রাজস্ব কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান খান এবং সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বদরুল আরেফিন ভূঁইয়া। বিষয়টিসহ আরও তিনটি কেস স্টাডি নিয়ে হয়রানি সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ছাপা হয় দৈনিক কালবেলা পত্রিকায়। বুধবার কার্যদিবসের শুরুতেই এই সিএন্ডএফকে এআইর শাখায় ডাকেন দুই কর্মকর্তা। প্রথমে এই সিএন্ডএফকে মৌখিক ভয়ভীতি দেখান এবং ভিডিও ধারণ করেন।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর টিমের বিরুদ্ধে পান থেকে চুন খসলেই ছোট ব্যবসায়ীদের আইনি ঝামেলায় ফেলার অভিযোগ বেশ পুরোনো। বিগত দিনে কেমিক্যাল থেকে শুরু করে অবৈধ সিগারেট আমদানি বন্ধে তৎপর হলেও বর্তমান টিম রহস্যজনক কারণে ঠুঁটো জগন্নাথের ভূমিকা পালন করছে। বিভিন্ন কাস্টম হাউসে শিট নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠলে এসব ক্ষেত্রেও এআইআর টিম যেন নীরব দর্শক। এ ছাড়া আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এ টিমের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, রাজস্ব কর্মকর্তা আসাদ ও আরেফিনের নেতৃত্বে ল্যাপটপের ব্যাটারির গ্রুপ দিয়ে অন্য পণ্যের চালান গেলেও আসাদ নিজে গিয়ে দেখেও তা ছেড়ে দেন। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের ফাইন্ডিং নেই। মূলত বড় বড় আমদানিকারকের পরিবর্তে এ টিমের নজর ছোট ব্যবসায়ীদের দিকে। এতে বাইরে আলোচনা হবে—খুব কড়া কাস্টম হাউসের এ এআইআর টিম।
সিঅ্যান্ডএফকে হুমকি ও ভিডিও ধারণের বিষয়ে জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান কালবেলার এই প্রতিবেদককে পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, ‘কী হুমকি দিয়েছি?’
তবে তিনি ভিডিও ধারণের বিষয়টি অস্বীকার করেননি। ভিডিও করার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
কাস্টমের এ কর্মকর্তা তিনি বলেন, ‘আপনি হুট করে না জানিয়ে একটি বড় প্রতিবেদন করে দিলেন।’ এই পণ্য চালানে কোনো হয়রানি হয়নি বলেও দাবি এই কর্মকর্তার। তবে শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপকমিশনার তারেক মাহমুদ বিষয়টি জানেন না বলেও কালবেলাকে জানান।
সূত্র আরও জানায়, সিঅ্যান্ডএফকে হুমকি ও এআইর শাখার বিষয়টি জানাজানি হলে বিষয়টি নিয়ে ফের সন্ধ্যায় সিঅ্যান্ডএফকে ডাকেন রাজস্ব কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান খান। একইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে ফের শাসিয়ে দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমদানিকারক সামসুর রহমান কালবেলাকে বলেন, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস নিয়ে কালবেলার প্রতিবেদন প্রকাশের পর আমার সিঅ্যান্ডএফকে ডেকে হুমকি দেন। এমনকি ভিডিও করেন আসাদুজ্জামান খান ও বদরুল আরেফিন ভূঁইয়া।
সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হলে ফের সিঅ্যান্ডএফকে ডাকে কাস্টম কর্মকর্তারা। বিষয়টির প্রতিকার চান এই আমদানিকারক।