

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট।
প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে এটি হবে দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের মেয়াদের প্রথম এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বাজেট হিসেবে বিবেচিত হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সম্ভাব্য বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সম্ভাব্য বাজেট ঘাটতি দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
বাজেটে তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সিগারেটের সব স্তরের মূল্যসীমা বাড়ানোর পাশাপাশি নিকোটিন পাউচ, সিগারেটের ফিল্টার তৈরির কাঁচামালের ওপর ৩০০ শতাংশ এবং নিকোটিনের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। এর ফলে সিগারেট ও নিকোটিনজাত পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
এ ছাড়া দেশে উৎপাদিত অ্যালকোহলের ওপর লিটারপ্রতি ৫০০ টাকা ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট পণ্যের বাজারমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে কাজুবাদাম আমদানির শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে আমদানিকৃত কাজুবাদামের দাম বাড়তে পারে। একই সঙ্গে উচ্চমূল্যের আমদানিকৃত হিমায়িত মাছের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা এসব পণ্যের খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্মাণ খাতেও নতুন বাজেটের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মাইল্ড স্টিল (এমএস) রডসহ সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে কর ও ভ্যাট প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিদেশি প্রসাধনী, বিলাসপণ্য, আমদানিকৃত উচ্চমূল্যের খাদ্যপণ্য এবং নতুন করে আরও ১০ ধরনের পণ্যের আমদানি পর্যায়ে ২০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।