

জাপানে আগামী আড়াই বছরে পাঁচ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড়ে বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিকেটিটিসি) হলরুমে আয়োজিত জব অ্যান্ড এডুকেশন ফেয়ারে এই প্রত্যাশার কথা জানানো হয়।
জাপান ও কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষা, চাকরি এবং স্থায়ী বসবাসের সুযোগ সম্পর্কে তরুণ-তরুণীদের অবহিত করতে টিএমএসএস নর্দান রিক্রুটিং এজেন্সি এ মেলার আয়োজন করে।
মেলায় অংশগ্রহণকারীদের জাপান ও কোরিয়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, স্কলারশিপ, শিক্ষাজীবন, কর্মসংস্থান এবং ভিসা প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়। পাশাপাশি আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য স্পট অ্যাডমিশন ও ভিসা সাপোর্ট সুবিধা রাখা হয়। মেলায় এইচএসসি, ডিপ্লোমা ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী এবং চাকরি প্রত্যাশীরা অংশ নেন।
বিকেটিটিসি’র অধ্যক্ষ প্রকৌশলী লুৎফর রহমান বলেন, ‘২০২৮ সালের মধ্যে ৫ লাখ কর্মী জাপানে পাঠানোর টার্গেট রয়েছে বিকেটিটিসির। জাপানে যেতে কর্মীতের সরকার নির্ধারিত ব্যয় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা। যা খুবই ব্যয় সাশ্রয়ী। এক্ষেত্রে কর্মীদের যেমন দক্ষ হয়ে উঠতে হবে তেমনি শিখতে হবে জাপানি ভাষা।’
টিএমএসএসের আইসিটি অ্যান্ড ইনভায়রনমেন্ট সেক্টরের পরিচালক ড. নিগার সুলতানা বলেন, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে জনশক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যে জাপানিজ ও কোরিয়ান ভাষা ও সংস্কৃতি শিক্ষা প্রদানসহ বৈধ উপায়ে ও নিরাপদে জাপান ও কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষা, চাকরি এমনকি স্থায়ী বসবাসের সুযোগ করে দিচ্ছে। ঢাকা, রংপুর, বগুড়া ও মাদারীপুর-এই চারটি জেলায় জাপানিজ ও কোরিয়ান ভাষা শিক্ষার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে মেলায় আগতদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়। জাপান ও কোরিয়ায় পড়াশোনা কিংবা চাকরির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে আগ্রহীদের মধ্যে এ মেলা ব্যাপক সাড়া ফেলে।’
টিএমএসএস নির্বাহী পরার্মশক ড. মোহাম্মেদ খাইরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব শহিদুল ইসলাম চৌধুরী প্রধান অতিথি ও জাপানের টোকিওতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে বর্তমানে লেবার উইংয়ের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জয়নাল আবেদীন বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাপানি প্রতিষ্ঠান মিরাইয়ের এডুকেশন কলসালটেন্ট নোরবনী নোরিকেল ও টিএমএসএস নর্দান রিক্রুটিং এজেন্সির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রউফ।
বক্তারা বলেন, জাপানের স্পেসিফাইড স্কিল্ড ওয়ার্কার প্রোগ্রামের আওতায় কেয়ারগিভিং, ড্রাইভিং ও সিভিল কনস্ট্রাকশন খাতে কর্মসংস্থানের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের যুবসমাজকে বৈশ্বিক শিক্ষা ও শ্রমবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।