

কবিরা গুনাহ হচ্ছে বড় গুনাহ, একটি কবিরা গুনাহ জাহান্নামে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আমরা প্রতিদিন অনেক কবিরা গুনাহে লিপ্ত হচ্ছি। উদ্বেগের বিষয় হলো আমরা এমন অনেক কবিরা গুনাহ করে যাচ্ছি যা গুনাহ-ই মনে করছি না। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উন্নতির ফলে গুনাহের প্রসারতা ও শিথিলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনলাইন ও অফলাইনে যে কবিরা গুনাহগুলো খুব বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে অপবাদ দেওয়া।
আরবিতে অপবাদকে বহুতান বলা হয়। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে মিথ্যা ভিত্তিহীন বা অসত্য অভিযোগ আরোপ করা। উদাহরণস্বরূপ : কেউ চুরি করেনি অথচ তাকে চোর বলা, কেউ অসৎ নয় অথচ তাকে অসৎ বলা।
অপবাদের এই গুনাহটি বেশি ছড়াচ্ছে যোগাযোগমাধ্যমে। আমরা ফেসবুক-ইউটিউব খুললেই দেখি, শুধু মতের অমিল হওয়ার কারণে কারও সম্পর্কে কেউ বলছে, অমুক ইহুদিদের দালাল, অমুক খ্রিস্টানদের দালাল, অমুক ফেতনাবাজ ইত্যাদি। যার সম্পর্কে আপনি এমন কথা বলছেন, যদি তিনি বাস্তবিকভাবে এমন না হয়ে থাকে, তাহলে আপনি তার প্রতি অপবাদ আরোপ করলেন এবং একটি কবিরা গুনাহ করলেন। এই কথাটি যখন আপনি পোস্ট করবেন, শেয়ার দেবেন, ছড়াবে, যত মানুষ দেখবে তখন এই গুনাহের একটি অংশ আপনার আমলনামায় যুক্ত হতে থাকবে। অপবাদের এই গুনাহটি শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, অনেক দ্বীনদার মানুষও এই গুনাহে লিপ্ত হয়ে যাচ্ছেন!
অপবাদের ভয়াবহ শাস্তি পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, যারা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও পাপের বোঝা বহন করে। (সূরা আহযাব, আয়াত নং-৫৮)
অন্য আয়াতে এসেছে, যারা সতী-সাধ্বী, নিরীহ ইমানদার নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারা ইহকাল ও পরকালে ধিক্কৃত এবং তাদের জন্য রয়েছে গুরুতর শাস্তি। (সূরা নূর, আয়াত নং-২৩)
হাদিসে অপবাদের শাস্তি সম্পর্কে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের উপর এমন মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে, যা তার মধ্যে নেই, এমতাবস্থায় যতক্ষণ না সে তার কথার পরিণতি থেকে মুক্ত হবে ততক্ষণ সে দোজখের কাদার মধ্যে থাকবে। (অর্থাৎ জাহান্নামীদের পূজ, রক্ত ইত্যাদির মধ্যে থাকবে) (আবু দাউদ, হাদিস নং-৩৫৯৭)
অপবাদের গুনাহ থেকে মুক্ত হতে শুধু তওবা করলেই চলবে না, বরং যাকে অপবাদ দেওয়া হয়েছে তার কাছ থেকে দুনিয়া থেকেই মাফ নিতে হবে, অন্যথায় কেয়ামতের দিন অপবাদকারীর আমলনামা থেকে মজলুম ব্যক্তিকে নেক দেওয়া হবে। নেক আমল শেষ হয়ে গেলে মজলুমের গুনাহ তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের অপবাদের গুনাহ থেকে বাঁচার তৌফিক দিন। (আমিন)
লেখক : মুহাদ্দিস, জামিয়া আশরাফিয়া, দক্ষিণ খান, ঢাকা।