

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা-২০২৫ জারির পর থেকে ঢাকা মহানগরে ২৯ হাজার ৪৭৮টি মামলা করে এক কোটি ৯২ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। শনিবার (২১ জুন) পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’ শীর্ষক সমাপনী কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এমপি বলেন, শব্দদূষণ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিষয়টি শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রায়হান কাওছার বলেন, শব্দদূষণের কারণে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব শুধু মানুষের ওপর নয়, জীববৈচিত্র্যের ওপরও পড়ছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা-২০২৫ কার্যকর হওয়ার পর আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে বিপুল সংখ্যক মামলা ও জরিমানা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. লুৎফর রহমান। তিনি প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
কর্মশালায় প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত দেশের ৬৪ জেলার শব্দমাত্রা জরিপ প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এ সময় প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর বাস্তবায়িত প্রকল্পটি ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রায় ৫৪ কোটি ৮৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সক্ষমতা উন্নয়ন, তথ্যভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।
প্রকল্পের আওতায় এক লাখ ৩৯ হাজার ৬৪০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ১৬টি কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে। বিআরটিএ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ডিএমপির কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি চালকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
এ ছাড়া শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২৩টি টেলিভিশন চ্যানেল ও দুটি এফএম রেডিওতে প্রচারণা চালানো হয়েছে। জাতীয় দৈনিকে ৩০০টি সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন প্রকাশের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রকল্পের আওতায় গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকাকে ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের সড়কের লা মেরিডিয়ান হোটেল থেকে উত্তরা স্কলাস্টিকা সেকেন্ডারি স্কুল পর্যন্ত এলাকাও নীরব অঞ্চলের আওতায় আনা হয়েছে। এসব এলাকায় ডিএমপি, বিআরটিএ এবং সিটি করপোরেশনগুলোর সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
এ ছাড়া শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দুই হাজার ৫০০টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ৩০০টি সাউন্ড মিটার বিতরণ এবং দেশের ৬৪ জেলায় শব্দমাত্রা পরিমাপ ও তথ্যভান্ডার তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্প চলাকালে ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০০৬’ হালনাগাদ করে ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
কর্মশালায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন, আইএমইডি, বিআরটিএ, ডিএমপি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।