

‘অপারেশন বারবারোসা’ আগ্রাসনের পঁচাশি বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে মহান দেশপ্রেমিক যুদ্ধের, লাখ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও বীরত্বকে স্মরণ করে শোক দিবস পালিত হয়েছে। রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ রাশিয়ান হাউসের আয়োজনে দু-দিনব্যাপী পালন করা হয় এ দিবস।
১৯৪১ সালের ২২ জুন ভোরবেলায় নাৎসি জার্মানি ‘অপারেশন বারবারোসা’ নামে সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর বিশাল আক্রমণ শুরু করে। প্রায় ৩৮ লাখ সৈন্য, হাজার হাজার ট্যাংক, বিমান ও কামান নিয়ে ২৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত দিয়ে এ আক্রমণ চালায়। যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান ছিল। এর মাধ্যমে মহান দেশপ্রেমিক যুদ্ধের শুরু হয়। যুদ্ধ চলে প্রায় চার বছর ধরে (১৯৪১ সালের ২২ জুন থেকে ১৯৪৫ সালের ৯ মে জার্মানির আত্মসমর্পণ পর্যন্ত)। এ যুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রায় দুই কোটি ৭০ লাখ মানুষ প্রাণ হারান। ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ, পূর্বসূরিদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং শান্তি, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বের বার্তা পুনর্ব্যক্ত করতে চলে নানা কর্মসূচি।
আয়োজনের প্রথম দিন, গত ২১ জুন রাশিয়ান হাউসে অনুষ্ঠিত প্রধান স্মারক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, সোভিয়েত প্রাক্তন ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশের সদস্য, মুক্তিযুদ্ধ একাডেমি ট্রাস্টের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট অতিথিরা অংশ নেন। আবৃত্তি, সংগীত ও নাট্য পরিবেশনার মাধ্যমে যুদ্ধকালীন প্রজন্মের অসীম সাহস, আত্মত্যাগ ও দৃঢ়তার কাহিনি তুলে ধরা হয়।
এ সময় অনুষ্ঠানে আবেগঘন স্মৃতির মোমবাতি কর্মসূচি পালন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা মোমবাতি জ্বালিয়ে ‘মহান দেশপ্রেমিক যুদ্ধে’ নিহত সৈনিক ও সাধারণ নাগরিকদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এ ছাড়া বিজয় জাদুঘরের প্রদর্শনীভিত্তিক একটি বিশেষ বক্তৃতায় যুদ্ধের প্রথম দিনের ঘটনাপ্রবাহ এবং সোভিয়েত জনগণের বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের কথা তুলে ধরা হয়।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) আয়োজনের শেষ দিনে রাশিয়ান হাউস ও বাংলাদেশে রুশ স্বদেশি সংগঠন রোদিনার যৌথ উদ্যোগে তেজগাঁও কলেজে আরেকটি স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা যুদ্ধের মানবিক মূল্য এবং ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে ব্রেস্ট দুর্গের বীরত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষার গল্প নিয়ে নির্মিত প্রশংসিত রুশ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের হাতে তৈরি কাগজের সারস পাখি দিয়ে নির্মিত স্মৃতির প্রাচীর সবাইকে যুদ্ধের ভয়াবহতা ও শান্তির মূল্য স্মরণ করিয়ে দেয়।