

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও গভীর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, ‘দুই দেশের বন্ধুত্ব শুধু কূটনীতি, বাণিজ্য কিংবা কৌশলগত সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের আন্তরিক সম্পর্কই এ অংশীদারত্বের প্রকৃত ভিত্তি।’
শনিবার (০৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সঙ্গীতানুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী শুধু একটি দেশের জাতীয় উৎসব নয়; এটি স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধেরও উদযাপন।’
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির অভিন্ন লক্ষ্যকে ভিত্তি করে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ক্রমাগত শক্তিশালী হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এ অংশীদারত্ব আরও সম্প্রসারিত হবে।’
বক্তব্যে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠান আয়োজনের বিশেষ তাৎপর্যের কথাও তুলে ধরেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, ‘বিশ্বখ্যাত মার্কিন স্থপতি লুই আই কানের নকশায় নির্মিত জাতীয় সংসদ ভবন যেমন দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধনের প্রতীক, তেমনি বাংলাদেশি-আমেরিকান কিংবদন্তি প্রকৌশলী ফজলুর রহমান খানের উদ্ভাবনী কাজ যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক স্থাপত্যে স্থায়ী অবদান রেখে গেছে। এ দুই ব্যক্তিত্বের অবদান প্রমাণ করে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একে-অপরের ইতিহাস ও অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় জর্জ হ্যারিসনের উদ্যোগে আয়োজিত ঐতিহাসিক ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’র কথাও স্মরণ করেন ডেপুটি স্পিকার। তার ভাষায়, সেই অনুষ্ঠান শুধু তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ ছিল না; এটি বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আন্তর্জাতিক সংহতি ও মানবিক সমর্থনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আজকের ‘ফ্রিডম ২৫০’ সঙ্গীতানুষ্ঠানও সংস্কৃতির মাধ্যমে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও গভীর করার একই বার্তা বহন করছে।
ডেপুটি স্পিকার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মধ্যে সংসদীয় কূটনীতি আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বাংলাদেশ ককাসসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের পারস্পরিক সফর, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা বাড়ানো গেলে দুই দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান আরও শক্তিশালী হবে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র আগামী দিনগুলোতে শান্তি, গণতন্ত্র, টেকসই উন্নয়ন এবং অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করবে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে দৃঢ় ও অর্থবহ হয়ে থাকবে।’
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত, মন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।