

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে জাতীয় ঐক্যের বার্তার পরিবর্তে তিনি এ উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে দেশের ভেতরে কথিত ‘কমিউনিস্ট হুমকি’ নিয়ে কড়া রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি কমিউনিস্ট সমর্থকদের ‘১৭৭৬ সালের ৪ জুলাইয়ের শত্রু’ বলেও মন্তব্য করেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, স্থানীয় সময় শুক্রবার (০৩ জুলাই) রাতে সাউথ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোরে প্রায় আধা ঘণ্টার ভাষণ দেন ট্রাম্প। ব্রিটেনের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এটি ছিল তার বিশেষ সফরের সর্বশেষ কর্মসূচি।
ট্রাম্পের এই ভাষণের কয়েক ঘণ্টা আগেই নিউইয়র্কের মেয়র ও ডেমোক্র্যাট জোহরান মামদানি অভিবাসনপন্থি একটি ভাষণ দেন। সেখানে বামপন্থি আদর্শের প্রতি তার সমর্থনের ইঙ্গিত ব্যক্ত করেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল সেই অবস্থানের পাশাপাশি তার ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ (মাগা) আন্দোলনের সমালোচনারও জবাব।
‘ইউএসএ! ইউএসএ!’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে ট্রাম্পকে স্বাগত জানানো হয়। এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের উড্ডয়নের পর তিনি মাউন্ট রাশমোরে খোদাই করা চার সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট, জর্জ ওয়াশিংটন, টমাস জেফারসন, থিওডোর রুজভেল্ট ও আব্রাহাম লিংকনের প্রশংসা করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘তারা ছিলেন সাহস, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও প্রজ্ঞার প্রতীক। সর্বোপরি, তারা ইতিহাসের মহান ব্যক্তিত্ব।’
ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, সংবিধানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্বতন্ত্র সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়ই দেশটির ব্যতিক্রমী শক্তির ভিত্তি। সাম্প্রতিক সময়ে ‘আমেরিকান চেতনাকে ধ্বংস’ এবং ‘দেশের ইতিহাস থেকে মানুষকে বিচ্ছিন্ন করার’ চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রধানত শ্বেতাঙ্গ সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশের পরিচয় ফিরিয়ে আনব।’
এরপর স্বাধীনতা দিবসের প্রচলিত ঐক্যের বার্তা থেকে সরে এসে তিনি সরাসরি রাজনৈতিক বক্তব্য দেন। নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের চার মাস আগে প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের ‘কমিউনিস্ট’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি।
সম্প্রতি নিউইয়র্ক ও কলোরাডোতে তিনজন ডেমোক্রেটিক সমাজতন্ত্রীসহ চারজন প্রগতিশীল প্রার্থী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে জয় পেয়েছেন। এছাড়া কেনটাকি, নিউ জার্সি, ওহাইও, পেনসিলভানিয়া ও টেক্সাসেও একাধিক প্রগতিশীল প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
ট্রাম্প তার কমিউনিস্টবিরোধী বক্তব্যকে অভিবাসন ইস্যুর সঙ্গেও যুক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক সময়ে আমাদের আমেরিকান পরিচয় আবারও আক্রমণের মুখে পড়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কমিউনিজমকে পরাজিত করার এক প্রজন্ম পর আবারও সেই হুমকি ফিরে এসেছে।