

চাকরি জীবনের নানা অনিয়ম নিয়ে দৈনিক কালবেলায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে শুরু হয়েছিল তদন্ত। তবে তদন্ত চলাকালেই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামকে তার পদ থেকে বদলি করা হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) বেবিচকের অফিস আদেশে ওই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়।
শরিফুল হাসান ছিলেন বেবিচকের সিভিল বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। গতকালের অফিস আদেশে তাকে ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশনস বিভাগের পরিচালক (এরোড্রাম স্ট্যান্ডার্ড) পদে সংযুক্ত করা হয়েছে।
গত ৭ জুন দৈনিক কালবেলার প্রথম পাতায় ‘এত অনিয়ম, তবু তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী!’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে তার কর্মকালে নানা অনিয়ম তুলে ধরা হয়। ওই প্রতিবেদনের আলোকে গত ১৬ জুন বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে বলা হয়।
এ দিকে প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামকে গতকাল বদলির পর বেবিচকে নানা আলোচনা শুরু হয়। তাকে বদলিই শুধু শাস্তি কি না, বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের মধ্যে সে আলোচনাও উঠে।
যদিও বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান কালবেলাকে বলেন, ওই বদলি অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। এটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্তে এক সদস্যের কমিটি কাজ করছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেবিচক সূত্র জানায়, কর্মজীবনে প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ের প্রধান ফটক ও বিশ্রামাগার নির্মাণে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা, ২০২০ সালে আগের দুটি অর্থ বছরে সিভিল এভিয়েশনের বিভিন্ন প্রকল্প, মেইনটেনেন্স ও কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ দুদকের অনুসন্ধান টিম তাকে তলব করে।
২০২১-২২ অর্থবছরে রাজধানীর কাওলায় বেবিচক কোয়ার্টারের দুটি ভবন রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে টাকা নয়ছয় করার অভিযোগও রয়েছে এ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়নকাজে দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলাও রয়েছে।