এস এম মোজাম্মেল হক
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ০২:০১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

আশা জাগানিয়া পরিবর্তনের আভাস

এস এম মোজাম্মেল হক। ছবি : সংগৃহীত
এস এম মোজাম্মেল হক। ছবি : সংগৃহীত

স্বাধীনতা শব্দটির অর্থ ও তাৎপর্য ব্যাপক। স্বাধীনতা লাভকরা, স্বাধীনতা ভোগকরা এবং স্বাধীনতার চর্চা করা পরস্পর সম্পর্কিত। স্বাধীনতা ভোগ এবং স্বাধীনতার চর্চা করতে গিয়ে অন্যের স্বাধীনতা খর্ব করারমত কোনো আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। স্বাধীনতা ভোগের ক্ষেত্রে দায়িত্ববোধ, সচেতনতা,পরমত সহিষ্ণুতা, সহনশীলতা সর্বোপরি অন্যের নিকট নিজের গ্রহণযোগ্যতার পরিশীলিত চর্চাই স্বাধীনতার মূল কথা।দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের অনুশীলনের অংশ।রাষ্ট্রের সরকার জনগণ ও প্রশাসনের অব্যাহত ন্যায় নীতির চর্চার মাধ্যমে একটি আদর্শরাষ্ট্র যেমনি গঠিত হয় তেমনি নীতিহীন বেপরোয়া আচরণের অব্যাহত চর্চা এবং রাষ্টীয়ভাবে তার পৃষ্ঠপোষকতার কারণে একটি রাষ্ট দুর্বৃত্তপনার দিকে ধাবিত হয়।যা রাষ্ট্রের অন্তর্গত কারোই কাম‍্য হতে পারে না।

মানুষ সঙ্ঘবদ্ধভাবে নীতি আদর্শের ভিত্তিতে সংখ্যাগরিষ্ঠের অনুমোদন সাপেক্ষে আদর্শ অনুশাসন প্রক্রিয়ার বাস্তবায়নকল্পে নির্দিষ্ট ভূখণ্ড সম্বলিত জাতি গোষ্ঠির বসবাসযোগ্য এবং নির্দিষ্ট সীমারেখা দ্বারা পরিবেষ্টিত ভূখন্ড মানব জাতীর সভ্যতা লাভের পর থেকেই রাষ্টীয় মর্যাদা লাভকরে আসছে।যতক্ষণ পর্যন্ত সমনীতি ও আদর্শ বহাল রেখে পরস্পর শ্রদ্ধা ও ভালবাসার ভিত্তিতে চলা সম্ভব হয় ততক্ষণ রাষ্টের অখণ্ডতা বজায় থাকে এমনকি পার্শ্ববর্তী রাষ্টের সাথে যুক্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রীয় রাষ্টকাঠামো গঠনও সম্ভব হয় আর তার ব্যতিক্রম ঘটলে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙ্গে এক রাষ্টের স্থলে একাধিক রাষ্ট গড়ে উঠতে পারে।মূলত এ উভয় প্রক্রিয়ার জন্য রাষ্ট পরিচালনাকারী শীর্ষ নেতৃত্ব, পরিচালক মন্ডলী বা সরকার বহুলাংশে দায়ী। ন্যায়পরায়ন শাসক যেমন জনগণের বন্ধু পক্ষান্তরে এর বিপরীত অবস্থার ক্ষেত্রে শাসকদল গণদুশমনে পরিনত হয় এবং জনগণ কর্তৃক ধিকৃত ও প্রত্যাখ্যাত হয়।এর কয়েকটি প্রক্রিয়া হল যথাক্রমে গণতান্ত্রিক রাষ্টে জনগণ ভোটের মাধ্যমে সরকারের পরিবর্তন ঘটায়।সরকার স্বৈরাচারী ও দখলদার হলে গণঅভ্যুত্থান এর মাধ্যমে পরিবর্তন ঘটায় আর তা সম্ভব নাহলে শেষ পর্যন্ত শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করে থাকে।সব ক্ষেত্রেই জনগণের সুচিন্তিত ও গ্রহণযোগ্য মতামত অগ্রাধিকার প্রাপ্ত।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতকে প্রাধান্য দেয়ার কথা বলা হয়েছে।তবে তা অবশ্যই ন্যায়সঙ্গত হতে হবে।অধিক সংখ‍্যক লোকের কোনো অন্যায় আবদার যা মানবতা বিরোধী বা অন্যের ক্ষতির কারণ হতে পারে এরুপ মতামত গ্রহণ করার কোনো যুক্তি থাকতে পারেনা।বরং সেক্ষেত্রে অন্যায় আবদার পোষণকারীদের যুক্তির মাধ্যমে বুঝিয়ে মানবিক হতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং এ দায়িত্ব রাষ্টের কর্নধারদেরই এবং তা বাস্তবায়নের উদ্যোগও তাদের নিতে হবে কারণ পরমত সহিষ্ণুতা আইনি কাঠামোরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আধুনিক রাষ্ট নির্দিষ্ট কোনো ধর্ম, বর্ণ জাতিগোষ্ঠির দ্বারা গঠিত নয় বরং ধর্ম,বর্ণ জাতিগোষ্ঠি ও বহু ভাষাভাষি নির্বিশেষে সকলের সমন্নয়ে গঠিত।কোনো কোনো রাষ্টে নির্দিষ্ট ধর্ম বর্ণের আধিক্য থাকলেও আইনদ্বারা সকল ধর্ম বর্ণের সমঅধিকার নিশ্চিত করা রাষ্টের দায়িত্ব।রাষ্ট তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে রাষ্টের অভ্যন্তরে সুবিদাভোগী এবং সুবিধাবঞ্চিত উভয়ের মধ্যে অসন্তোষ দানাবেধে উঠতে পারে এবং তা রাষ্টের স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ক্ষেত্রে বিরুপ প্রভাব ফেলতে পারে।

ধর্ম মানবসৃষ্ট কোনো মতবাদ নয়।ধর্ম মূলত মুসলিমদের ক্ষেত্রে আল্লাহ বা অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে ঈশ্বর/God কর্তৃক প্রেরিত বিধি বিধান যা মানুষকে সকল রকমের ভাল কাজের অনুসারি ও খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করে।তবে প্রতিটি ধর্মের সকল মানুষই যে ধর্মের মর্মবাণী অনুসারে জীবন যাপন করেন এমন নয় তা সত্তেও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের নিকট থেকে নিজ ধর্মের অবমাননা কোনো ধর্মের লোকই বিনা বাক্য ব্যয়ে মেনেনিতে পারেনা।এক্ষেত্রে যাদের শক্তি আছে তারা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিকারের চেষ্টা করে আর যারা কমজোরি তারা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী কথা কাজ বা ঘৃণার মাধ্যমে প্রতিকারের চেষ্টা করে।তবে এক্ষেত্রে সবারই মনে রাখা দরকার ধর্ম কোনো মনুষ্যসৃষ্ট বিধান নয়।

আর তাই নিজের ধর্মের বাইরে অন্যধর্মকেও যথাযথ মর্যাদা প্রদান করা নৈতিক দায়িত্ব আর সেটা পালন করা সম্ভব হলেই পৃথিবীতে ধর্ম নিয়ে কোনো বাড়াবাড়ি বা মারামারির উদ্ভব ঘটবেনা।বিষয়টি যেমন সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য রাষ্টীয়ভাবেও তার পৃষ্ঠপোষকতা অপরিহার্য।এটা শুধু নির্দিষ্ট কোনো ধর্মকে শ্রদ্ধা প্রদর্শন নয় বরং নিজের ধর্মকেও অন্যধর্মের লোকদের নিকট শ্রদ্ধার্ঘ্য করে তোলা ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে যেমন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তৈরী হবে সাথে সাথে সারা বিশ্ব হবে শান্তির লীলাভূমি।আশাকরি ধর্মবিদ্বেষী সকল মহলের বোধোদয় হবে এবং যেসকল রাষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মাবলম্বিদের পৃষ্ঠপোষকতা করে ও সংখ্যালঘু শ্রেনীর প্রতি বিরুপ আচরণ করে তা পরিহার করে রাষ্টের সকল ধর্ম বর্ণের প্রতি সম ও সহনশীল আচরণের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন সুদৃঢ় করতে সহায়ক ভূমিকা পালনে সচেষ্ট হবেন।

রাজনীতিহীন কোনো রাষ্ট্র বর্তমান যুগে অকল্পনীয়।তবে রাজনীতির আধুনিক সংস্করণ মোহগ্রস্থদের কবলে পড়ে অনেকটা দিশেহারা।কারণ রাজনীতি এখন তাদের মর্জির উপর নির্ভরশীল।রাজনীতি যদিও জনকল্যাণের জন্য নিবেদিত বলা হয় কিন্তু বাস্তবে তার পার্থক্য অনেক ।জনকল্যাণের জন‍্য প্রণীত করনীয় ও বিধিনিষেধ এর বিরোধিতা যার বাস্তব প্রমাণ।জনৈক বিশিষ্ট রাজনীতিক এর উক্তি ‘শুঁটকির বাজারে বিড়ালকে চকিদার এর দায়িত্ব দিয়ে যদি তা খাওয়া বারণ করা হয় তা কি সম্ভব?’ যা তিনি প্রমাণ করে দেখিয়েছেন।কোনো পেশায়ই শতভাগ নিষ্কলুষ লোক থাকবে এমন চিন্তা করাও বোকামি তবে যে পেশার মূল লক্ষ্যই জনসেবা এবং ঘোষিত নীতিও তাই সেখানে ব‍্যক্তিকেন্দ্রীক ও ভিন্ন চিন্তার কিছু লোক থাকলেও বেশীরভাগ লোকেরই হবার কথা ঘোষিত বক্তব‍্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিন্তু যখন তার ব‍্যতিক্রম দেখা যায় তখন তাদের আচরণে জনমনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক এ বিষয়টির প্রতি তাদের যত্নবান হওয়া অতীব জরুরি অন‍্যথায় জনগণ কর্তৃক প্রত‍্যাখ‍্যত হওয়া ছাড়া শেষ রক্ষা হবেনা।কারণ জুলাই অভ‍্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ আর পূর্বের অবস্থানে নেই যে জনগণকে বোকা বানিয়ে যা খুশি তা চাপিয়ে দেয়া যাবে আর জনগণ বিনা দ্বিধায় মেনে নেবে।তাই সময় এসেছে জনস্বার্থে প্রণীত বিধি বিধানের প্রতি বিরোধিতার জন‍্য বিরোধিতা না করে পরিস্থিতির মূল্যায়ন পূর্বক জনচাহিতা মোতাবেক নিজেদের প্রস্তুত করা যা হবে উভয় পক্ষের জন‍্য কল‍্যাণকর।

লেখক-কবি,প্রাবন্ধিক,গীতিকার, কলামিস্ট ও গবেষক। সেন্টএলবান্স,নিউইয়র্ক।

[ নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। দৈনিক কালবেলার সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, দৈনিক কালবেলা কর্তৃপক্ষের নয়। ]
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও যাত্রীবাহী বাস পড়ল পদ্মা নদীতে

আগামী সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং

আশুলিয়ায় মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান, ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৪

দিল্লির হোটেলে আগুন দেখে পালান মালিক, গ্রেপ্তারের পর দিলেন স্বীকারোক্তি

ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুমড়েমুচড়ে গেল ইসরায়েলি ট্যাংক

বজ্রপাতে কিশোর ছেলের মৃত্যু, আহত মা

প্রস্তুতি ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে আইভরি কোস্টের চমক

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় দম্পতিসহ নিহত ৩

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার টার্গেট কিউবার প্রেসিডেন্ট

বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ

১০

পুকুরে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু

১১

দুপুরের মধ্যে দেশের ৮ জেলায় ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

১২

আজকের নামাজের সময়সূচি

১৩

৬ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম-সিলেটের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

১৪

বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেল স্বামী-স্ত্রীর

১৫

জার্মানিতে ভেঙে পড়লো উড়োজাহাজের ল্যান্ডিং গিয়ার

১৬

আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে শোকজ, জবাব না দিলে লাইসেন্স বাতিল

১৭

ভৈরবে রেলপথ অবরোধ, ৫ ট্রেন আটকা

১৮

৬ দফা দাবিতে চমেক ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মানববন্ধন, শনিবার থেকে কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি

১৯

সিএন্ডএফ ভবনেই মিলবে চসিকের ট্রেড লাইসেন্স, বুথ স্থাপনের নির্দেশ মেয়রের

২০
X