কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

পহেলা বৈশাখ : উৎসব, পরিবর্তন আর একটুখানি অস্বস্তির গল্প

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পহেলা বৈশাখ আমাদের সংস্কৃতির এমন এক দিন, যেটা নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার দরকার পড়ে না। তবুও এ সময়ে এসে মনে হচ্ছে, এই দিনটাকে নতুন করে বোঝার দরকার আছে। কারণ বদলটা চোখে পড়ার মতো, আর সেটা শুধু পোশাক বা আয়োজনের নয় বরং অনুভূতিরও।

কিছু বছর আগেও বৈশাখ মানেই ছিল ভোরবেলা ঘুম ভাঙার আগে থেকেই এক ধরনের উত্তেজনা। চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রা, রমনার বটমূলে গান, রাস্তাজুড়ে মানুষের ভিড়; সব মিলিয়ে একটা উত্তেজনা পরিস্থিতি। এখনো সেই চিত্র পুরোপুরি হারায়নি, কিন্তু এর ভেতরে ঢুকে গেছে আরেকটা স্তর আর তা হলো স্মার্টফোনের ক্যামেরা, লাইভ ভিডিও, আর ‘স্টোরি’ দেওয়ার তাড়া।

এটা কি খারাপ? এক কথায় বললে, না। কারণ, প্রযুক্তি আমাদের উদযাপনকে আরও ছড়িয়ে দিয়েছে। দূরের মানুষ কাছের হয়ে গেছে। যারা ভিড়ের মধ্যে যেতে পারে না, তারাও এখন বৈশাখের অংশ হতে পারছে। কিন্তু সেই সঙ্গে একটা প্রশ্নও সামনে আসে আমরা কি উদযাপনটা করছি, নাকি সেটাকে দেখানোর জন্য বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ছি?

একদিকে ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা যেমন: লাল-সাদা, পান্তা-ইলিশ, লোকগান। অন্যদিকে এই সবকিছুকে একটু ‘পারফরম্যান্স’ বানিয়ে ফেলার প্রবণতা। যেন উৎসবটা নিজের জন্য না, বরং অন্যেকে দেখানোর জন্য। এর পেছনে শুধু প্রযুক্তি দায়ী নয়, বরং আমাদের সময়টাই এমন।

করোনা মহামারির সময় আমরা ঘরে বসে বৈশাখ কাটিয়েছি। তখন বুঝেছি, ভিড় না থাকলেও উৎসব হতে পারে। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা আমাদের উদযাপনের ধরন পাল্টে দিয়েছে। এখন আমরা একই সঙ্গে বাইরে থাকতে চাই, আবার অনলাইনে সেটাকে ধরে রাখতেও চাই।

তবু একটা জায়গায় এসে মনে হয়, আমরা একটু ক্লান্ত। সবকিছু এত পরিকল্পিত, এত সাজানো যে হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া আনন্দগুলো কমে যাচ্ছে। যেমন আগে বৈশাখে বের হয়ে হঠাৎ কারও সঙ্গে দেখা হয়ে যেত, হঠাৎ কোথাও বসে আড্ডা জমে উঠত। কিন্তু এখন আমরা আগে থেকেই ঠিক করে ফেলি কোথায় যাব, কী ছবি তুলব, কী ক্যাপশন দেব। এটা হয়তো সময়ের সঙ্গে উপযুক্ত।

বর্তমান সময়ে এসে পহেলা বৈশাখ আমার কাছে শুধু আনন্দের দিন না, বরং ভাবারও বিষয়। আমরা কী হারাচ্ছি, কী পাচ্ছি সেটা নিয়ে ভাবার সময়। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, কিন্তু অনুভূতিগুলোকে একটু কৃত্রিমও করে তুলছে।

তবুও একটা আশার জায়গা আছে। কারণ যত পরিবর্তনই আসুক, মানুষ শেষ পর্যন্ত সত্যিকারের আনন্দটাই খোঁজে। হয়তো আমরা আবার শিখে যাব যে কিছু মুহূর্ত ক্যামেরায় না ধরে, শুধু নিজের মধ্যে রেখে দিতে হয়।

সবশেষ বলব পহেলা বৈশাখ একটা দিনের নাম নয়। এটা আমাদের ভেতরের সেই ইচ্ছে, যেখানে নতুন করে কিছু শুরু করতে চায়। আর যতদিন সেই ইচ্ছে থাকবে, ততদিন বৈশাখও তার নিজস্ব উষ্ণতা হারাবে না—যতই সময় বদলাক না কেন।

লেখক : মো. ইনামুল হোসেন, গণমাধ্যমকর্মী

কালবেলা/এইচআর
[ নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। দৈনিক কালবেলার সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, দৈনিক কালবেলা কর্তৃপক্ষের নয়। ]
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ট্রাম্পকে সংকট থেকে বের হতে ‘আরও ভালো পথ’ খুঁজতে বলল ইরান

কেমন থাকবে আজকের ঢাকার আবহাওয়া

ঝুঁকি নিয়ে ভাসমান সেতু পারাপার, ভোগান্তিতে ৭ গ্রামের মানুষ

নয়টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করল যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কোনো আগ্রহ যুক্তরাষ্ট্রের নেই: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.৪৭ বিলিয়ন ডলার

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে ১৯৭ পদে নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে

মাতামুহুরীতে রাতের আঁধারে জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

টিভিতে আজ যত খেলা

১০

নাটোরে ডিঙি নৌকা তৈরির ধুম

১১

কী ঘটেছিল ইতিহাসের এই দিনে

১২

বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

১৩

আগামী ২৪ ঘণ্টায় ৪ বিভাগে ‘অতি ভারী’ বৃষ্টির পূর্বাভাস

১৪

আজকের নামাজের সময়সূচি

১৫

বিচার না পেয়ে সিলেট থেকে পায়ে হেঁটে প্রধানমন্ত্রীর দ্বারে বৃদ্ধ ফুকন মিয়া

১৬

বেড়ায় স্কুল ফিডিংয়ে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ

১৭

দখল-লিজে বিলীন চকরিয়া-সুন্দরবন

১৮

ফকিরহাটে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ

১৯

কর্মস্থল ঢাকায়, বেতন শান্তিগঞ্জে: ‘কর্তৃপক্ষের’ কলমের খোঁচায় সেবা বঞ্চিত রোগীরা

২০
X