শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ড. মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন
প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬

সবুজ পরিবেশ, নিরাপদ কৃষি ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশই আমাদের প্রত্যাশা

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্বব্যাপী পরিবেশ দিবস পালিত হয়ে আসছে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি)-এর উদ্যোগে ১৯৭৩ সাল থেকে দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিই এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য।

এবার দিবসটি এমন এক সময়ে পালিত হচ্ছে, যখন পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বন উজাড়, পানিদূষণ, মাটির অবক্ষয় এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাসের মতো বহুমাত্রিক সংকটের মুখোমুখি। বাংলাদেশের মতো কৃষিনির্ভর দেশের জন্য এসব সংকট শুধু পরিবেশগত নয়, বরং খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

সত্যিকারার্থে পরিবেশ ও কৃষি একে অপরের পরিপূরক। বাংলাদেশের কৃষি সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। উর্বর মাটি, বিশুদ্ধ পানি, অনুকূল জলবায়ু এবং সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য ছাড়া কৃষি উৎপাদন সম্ভব নয়। কিন্তু পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি আজ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। তাই টেকসই কৃষির জন্য পরিবেশকে ভালো রাখা আজ সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এবং এফএও-এর তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি উৎপাদনশীলতা ভবিষ্যতে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অকাল বন্যা, খরা, লবণাক্ততা, নদীভাঙন এবং তাপপ্রবাহ কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং ফসলের ক্ষতি করছে।

এ কথাটি সত্য যে, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হলো কৃষি। দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। ধান, গম, ভুট্টা, সবজি, ফল, মাছ, দুধ ও মাংস উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষি শুধু খাদ্য চাহিদাই পূরণ করছে না, বরং কর্মসংস্থান, শিল্পের কাঁচামাল এবং গ্রামীণ অর্থনীতিরও প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ, বন উজাড় এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অব্যবস্থাপনার কারণে কৃষি আজ বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর মতে, বিশ্বব্যাপী কৃষি উৎপাদনের প্রায় ৯৫ শতাংশই সরাসরি মাটি, পানি, আবহাওয়া ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ, পরিবেশের ক্ষতি মানেই কৃষির ক্ষতি। বাংলাদেশে গত এক দশকে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা এবং অস্বাভাবিক তাপমাত্রার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ফসলের ক্ষয়ক্ষতি বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ১.৫ মিলিয়ন হেক্টর জমি বিভিন্ন মাত্রায় লবণাক্ততার ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্যদিকে হাওর অঞ্চলে অকাল বন্যা প্রতিবছর হাজার হাজার হেক্টর বোরো ধান নষ্ট করছে। উত্তরাঞ্চলে খরা ও তাপপ্রবাহের কারণে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এসব সমস্যার মূল কারণ পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা।

পরিবেশ দূষণের আরেকটি বড় উৎস হলো অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার। উচ্চ ফলনের আশায় অনেক কৃষক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেন। এর ফলে মাটির জৈবগুণ নষ্ট হয়, পানিদূষণ বৃদ্ধি পায় এবং উপকারী অণুজীব ও পোকামাকড় ধ্বংস হয়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদে মাটির উর্বরতা কমে গিয়ে উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়। ফলে কৃষি আরও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।

বিশ্বব্যাংকের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেকসই কৃষি নিশ্চিত করতে হলে পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতির ওপর জোর দিতে হবে। ইন্টিগ্রেটেড পেস্ট ম্যানেজমেন্ট (আইপিএম) সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা, জৈব সার ব্যবহার, ফসল পর্যায়ক্রমিক চাষ এবং পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি কৃষিকে পরিবেশবান্ধব করার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

বাংলাদেশে বনভূমি সংকোচনও কৃষির জন্য বড় হুমকি। বন শুধু অক্সিজেনের উৎস নয়; এটি বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণ, মাটিক্ষয় রোধ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বন উজাড়ের ফলে বৃষ্টিপাতের ধরণ পরিবর্তিত হয়, ভূমিক্ষয় বৃদ্ধি পায় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও তীব্র হয়। সুন্দরবনের মতো প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বন সংরক্ষণ মানেই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংরক্ষণ।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলো পরিবেশ ও কৃষিকে সমন্বিতভাবে দেখছে। নেদারল্যান্ডস এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ। আয়তনে ছোট হলেও দেশটি বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃষিপণ্য রপ্তানিকারক। তাদের সাফল্যের মূল রহস্য হলো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি। গ্রিনহাউস কৃষি, সুনির্দিষ্ট সেচ ব্যবস্থা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানি ব্যবহার এবং আধুনিক গবেষণার মাধ্যমে তারা কম জমিতে অধিক উৎপাদন নিশ্চিত করছে। সেখানে প্রতি ফোঁটা পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয় এবং রাসায়নিক ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

ইসরায়েলও কৃষিতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির একটি অনন্য উদাহরণ। মরুভূমি প্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও তারা ড্রিপ ইরিগেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে পানির অপচয় কমিয়ে কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের বহু দেশ তাদের প্রযুক্তি অনুসরণ করছে। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলেও এ ধরনের পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

ডেনমার্ক ও জার্মানির মতো দেশগুলো জৈব কৃষিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি অনুসরণকারী কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হয়। ফলে একদিকে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশও সুরক্ষিত থাকছে।

বাংলাদেশেও টেকসই কৃষি নিশ্চিত করতে হলে কিছু মৌলিক পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমত, রাসায়নিক নির্ভরতা কমিয়ে জৈব ও প্রাকৃতিক কৃষি ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কৃষকদের পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তৃতীয়ত, জলবায়ু সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবনে গবেষণা বাড়াতে হবে। চতুর্থত, নদী, খাল, বিল ও জলাভূমি রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রেও পরিবেশের ভূমিকা অপরিসীম। দূষিত মাটি ও পানি থেকে উৎপাদিত খাদ্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হলে পরিবেশ সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

বর্তমানে ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার বা জলবায়ু সহনশীল কৃষি বিশ্বজুড়ে গুরুত্ব পাচ্ছে। এই ধারণার মূল লক্ষ্য হলো পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া। বাংলাদেশেও কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। তবে মাঠপর্যায়ে এর প্রয়োগ আরো বাড়ানোর জন্য গবেষণা ও সম্প্রসারণ ফান্ড বাড়াতে হবে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রকৃতির সঙ্গে সংঘাত নয়, বরং সহাবস্থানই টেকসই উন্নয়নের একমাত্র পথ। পরিবেশ ধ্বংস করে সাময়িকভাবে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কৃষি ও অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। তাই উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিটি স্তরে পরিবেশগত বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে।

আজকের শিশুদের জন্য আগামী দিনের একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে হলে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বর্তমান সরকার পরিবেশকে উন্নত করার জন্য বছরে ৫ কোটি গাছ লাগানোর যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তাকে সাধুবাদ জানাই। এ কার্যক্রমটি যেন সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয় সে ব্যাপারে যথাযথ মনিটরিং থাকতে হবে। আর গাছ শুধু লাগালেই হবেনা, তার জন্য যে পরিচর্যা দরকার সে বিষয়গুলিও কর্তৃপক্ষ বিচেনায় রাখবেন আশাকরি। আসলে কৃষক, গবেষক, নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা এবং সাধারণ জনগণ সবার সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক মাটি রক্ষা করব, পানি রক্ষা করব, বন রক্ষা করব এবং পরিবেশবান্ধব কৃষিকে উৎসাহিত করব। কারণ পরিবেশ ভালো থাকলে কৃষি ভালো থাকবে, কৃষি ভালো থাকলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, আর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে দেশ এগিয়ে যাবে সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের পথে। তাই পরিবেশ বাঁচানো মানেই কৃষিকে বাঁচানো; আর কৃষিকে বাঁচানো মানেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা।

*লেখক: অধ্যাপক, কৃষি রসায়ন বিভাগ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

[ নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। দৈনিক কালবেলার সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, দৈনিক কালবেলা কর্তৃপক্ষের নয়। ]
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চোরের মাথা ন্যাড়া করে আঁকা হলো আর্জেন্টিনার পতাকা

হানিফ সংকেতের ‘চৈতন্যে’ জুলাই নাই: সারোয়ার তুষার

ইউরোপ জয়ের অনন্য নজির বাংলাদেশের

তপুর জোড়া গোলে সান মারিনোকে হারাল বাংলাদেশ

মারধরের প্রতিবাদ করায় বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ

সাতক্ষীরায় সীমানা পিলারসহ আটক ৪

শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে ফের আগুন

উপজেলা স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে সরকার

বিএনপি আবারও আওয়ামী লীগের ফাঁদে পড়েছে : নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী

পুলিশের উপস্থিতিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের মিছিল

১০

রাত ১টার মধ্যে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে

১১

আল্লাহর রহমতে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছি: নৌ প্রতিমন্ত্রী

১২

কৌশলগত অংশীদারত্ব-বাণিজ্য সম্প্রসারণে সম্মত বাংলাদেশ-তুরস্ক

১৩

দুধে মজাদার স্বাদ: ঘরোয়া ও ঐতিহ্যবাহী কিছু জনপ্রিয় খাবার

১৪

বিশ্বকাপের আগে বর্ষসেরার পুরস্কার জিতলেন ইয়ামাল

১৫

নির্বাচনের পরও ভারত দ্বিচারী ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে: সাইফুল হক

১৬

জেলেনস্কির বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন পুতিন

১৭

সান মারিনো ম্যাচের একাদশে নেই শমিত

১৮

ইউএনওর অভিযানে হামলার ঘটনায় ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

১৯

অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : জয়সওয়াল

২০
X