শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৫, ০২:১৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

জুলাই সনদের ব্যাপারে নির্বাচিত সরকারই আইন ও সংবিধান সংশোধন করবে : রিজভী

বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি : কালবেলা
বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি : কালবেলা

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রশাসনের মধ্যে ফ্যাসিবাদী শক্তি নানাভাবেই ঘাপটি মেরে বসে আছে; তারা সুযোগ পেলেই অন্তর্বর্তী সরকার এবং গণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে কাজ করবে।

রোববার (২৪ আগস্ট) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জিয়া পরিষদের উদ্যোগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে রিকশা ও ভ্যানচালদের রেইনকোট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়ে রিজভী বলেন, আজ নানাভাবেই আমাদের এই সমাজের একেবারে মাটির গভীরে ফ্যাসিবাদ অবস্থান করছে অবৈধ টাকা নিয়ে, অবৈধ অস্ত্র নিয়ে। সামনে নির্বাচন এই নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র যদি উদ্ধার করতে না পারে অন্তর্বর্তী সরকার, তাহলে এই নির্বাচন একটি বিপজ্জনক নির্বাচন হবে। তাই অবিলম্বে নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে।

তিনি বলেন, এই প্রশাসনের মধ্যে ফ্যাসিবাদী শক্তি নানাভাবেই ঘাপটি মেরে বসে আছে তারা সুযোগ পেলে অন্তর্বর্তী সরকার এবং গণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে কাজ করবে। যারা রাজনীতি নিয়ে গবেষণা করেন তারা প্রত্যেকেই দেখছেন আজকে সচিবালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় তারা তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে সেখানে বসে আসেন এবং বিভ্রান্ত তৈরি করার জন্য তারা কাজ করছেন।

মানুষ বেকার থাকলে দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শোনা যাবে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, একের পর এক কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যদি মানুষের কর্মসংস্থান না থাকে তাহলে দুর্ভিক্ষের আলামত তৈরি হবে। আপনাদের দুএকজন উপদেষ্টা হয়তো হাঁসের মাংস খেতে পারবেন যে কোন জায়গায়, কিন্তু জনগণ তো আর হাঁসের মাংস খেতে পারবে না। সেই আলামত সেই পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয় সেদিকে অন্তর্বর্তী সরকারকে নজর দিতে হবে। গার্মেন্টস সেক্টর থেকে এক লাখ লোকের চাকরি চলে গেছে কারণ অনেক ফ্যাসিবাদের দোসর মিল কারখানার মালিক। আমাদের দল থেকে বারবার বলা হয়েছে মিল কারখানা যেন বন্ধ না হয়, প্রয়োজনে সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।

জুলাই সনদের ব্যাপারে আইন ও সংবিধান সংশোধন করতে হলে নির্বাচিত সরকার করবে এমন অভিমত জানিয়ে রিজভী বলেন, আপনারা জুলাই সনদের বিষয়ে কথা বলছেন জুলাই সনদে যে সুপারিশ আসবে সেখানে যদি আইন সংশোধন করতে হয় সংবিধান সংশোধন করতে হয় সেটা তো নির্বাচিত পার্লামেন্ট করবে। একটি রাজনৈতিক দল বলছে যে আগেই গণভোট দিতে হবে কিন্তু কেন? যদি মূল নীতিমালায় কোনো পরিবর্তন করতে হয় মূলনীতিমালা একটা অখণ্ড বিষয়, তারপরেও সংবিধানের বিধান অনুযায়ী সংশোধন করা যায়। কিন্তু সেটা তো করবে পার্লামেন্ট। শেখ হাসিনা যেমন গায়ের জোড়ে চালিয়েছে যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আমার মতের মিল হয়নি অতএব গোয়েন্দা সংস্থার লোকদের পাঠিয়ে দিয়ে পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করতে হবে। ওই ধরনের আলামত বৈশিষ্ট্য এখন কেন থাকবে? যে নিয়ম ভেঙেছে শেখ হাসিনা, সেই নিয়মকে তো আমরা চালু করতে পারি না। আগে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে জনগণের সরকার তৈরি করুন, তারা রাষ্ট্রের স্বার্থে গণতন্ত্রের স্বার্থে সংবিধান যদি সংশোধন করতে হয় তারা করবে সেটা তাদের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর আমরা যে অর্জন পেয়েছি সেই অর্জন আমাদের ধরে রাখতে হবে। কারণ ১৫-১৬ বছর এক নিষ্ঠুর এবং দানবীয় সরকারের রোষানলের মধ্যে নিপীড়ন নির্যাতনের মধ্যে এ দেশের মানুষ দিন কাটিয়েছে, রাত কাটিয়েছে। সেই দুর্বিষহ দুঃস্বপ্ন যাতে আর না ফিরে আসে তার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি করে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ যাতে সুগম না হয়। কারণ এই ১৫-১৬ বছরে জাতিকে অনেক খেসারত দিতে হয়েছে।

রিজভী বলেন, সুখরঞ্জন বালি দেলোয়ার হোসেন সাইদী কোনো অপরাধী নয় দাবি করলেও শেখ হাসিনা জোর করে সুখরঞ্জনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তাকে দেশ থেকে চলে যেতে বাধ্য করেছিল।

তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য জ্বালাও-পোড়াও করে নিজেই তা ক্ষমতায় এসে বাতিল করেছে শেখ হাসিনা। দ্বিচারিতার উদাহরণ শেখ হাসিনা।

জিয়া পরিষদের সহসভাপতি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু প্রমুখ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি নাগরিক

পদোন্নতিতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে সিআইডি প্রধানের পদত্যাগ

যুবদলের যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক হলেন নির্যাতিত নেতা সাজিদ হাসান বাবু

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তথ্য পেয়ে চুক্তি ও ঋণপত্র বাতিল, ফেরত যাচ্ছে ‘এমটি মেমেই’

ছবি প্রকাশ করলেন রাশেদ খান / সরকার পতনের পর আ. লীগ নেতাদের সঙ্গে কয়েক ধাপে মিটিং হান্নান মাসউদের

বজ্রপাতে সারা দেশে প্রাণ গেল ১২ জনের

অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম কমানোর দাবি এনসিপির

দাবি এমপি শওকতুলের / শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান নোবেল পাওয়ার যোগ্য

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন অভিনেতা আলভীর মা

কোটি টাকার ইয়াবাসহ কোস্টগার্ডের হাতে ৪ জন আটক

১০

২২ বলের ফিফটিতে দিলারার রেকর্ড

১১

বিশ্বকাপের আগে ব্যালন ডি’অর জয়ের তালিকায় এগিয়ে যারা

১২

‘জনগণ ভাবছে সরকার ভোট নয়, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে নির্বাচিত’

১৩

নজরদারিতে আইভী রহমান, বাড়ির সামনে বসানো হলো সিসিটিভি

১৪

প্রশ্ন গোলাম পরওয়ারের / এখনই ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিচ্ছে, ৫ বছরে কী হবে

১৫

গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

১৬

সামরিক পরাজয়ের পর শত্রুরা গুপ্ত যুদ্ধে নেমেছে : মোজতবা খামেনি

১৭

২ দায়িত্ব একসঙ্গে পালনের নজির আছে, জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

১৮

এক দলে দুই পতাকা! / ইরাকের জার্সিতে বিশ্বকাপ মাতাবেন ‘রাষ্ট্রহীন’ ৪ ফুটবলার!

১৯

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে নারীসহ ৬ জনের মৃত্যু

২০
X