

জাতীয় সংসদে বোরকা ও হিজাব নিয়ে বিএনপিদলীয় সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সোমবার (১৫ জুন) এক বিবৃতিতে সংগঠনের আমির শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজিদুর রহমান এই নিন্দা জানিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
তারা বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত দাবিদার একজন সংসদ সদস্যের মুখ থেকে ইসলামের একটি ফরজ বিধান ও নারীদের শালীন পোশাক নিয়ে এ ধরনের চরম বিদ্রূপাত্মক, কুরুচিপূর্ণ ও অশোভন মন্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি শুধু দুঃখজনকই নয়, বরং চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও ধর্মীয় বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ।
এ ধরনের আচরণ সভ্য ও শালীন রাজনৈতিক সংস্কৃতির মুখে চুনকালি দেওয়ার শামিল বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তারা।
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে হেফাজত নেতারা বলেন, বোরকা ও হিজাব পরা মুসলিম নারীদের সাংবিধানিক ও ধর্মীয় মৌলিক অধিকার। ইসলামের এই অকাট্য বিধান নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও তামাশা করা কোটি কোটি তৌহিদী জনতার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে এবং আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হেনেছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশে ইসলামের চেতনা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত মোটেও বরদাশত করা হবে না।
তারা আরও বলেন, জাতীয় সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী পবিত্র প্রতিষ্ঠান। সেখানে দাঁড়িয়ে এমন ইসলামবিদ্বেষী ও উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করে জনগণের কাছে কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে? রাজনৈতিক অঙ্গনে নীতি, আদর্শ ও জনস্বার্থের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রেখে ব্যক্তিগত পোশাক বা ধর্মীয় পরিচয়কে টার্গেট করে বিষোদগার করা বিকৃত মানসিকতারই প্রমাণ। সংসদকে কোনো নির্দিষ্ট মহলের ইসলামবিদ্বেষী এজেন্ডা বাস্তবায়নের আখড়া বানাতে দেওয়া যাবে না।
বিবৃতিতে হেফাজত নেতৃদ্বয় অনতিবিলম্বে ওই চরম আপত্তিকর ও ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার জোর দাবি জানান। অন্যথায়, দেশের রাজপথে কঠোর জবাব দিতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। একইসঙ্গে জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রের সকল স্তরে ইসলাম ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং শালীন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য সকলের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।